অ্যাড. আনোয়ার হোসেন/অ্যাড. মাহবুবুল হাছান শাহীন
বুধবারে আমাদের এক সহকর্মী আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে গেলেন। মঙ্গলবার রাতে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, তখর রাত আনুমানিক ১২:০৫ ঘটিকা হবে। হঠাৎ মোবাইলের রিংটোন বেজে উঠল, দেখি ছাতকের অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম কল দিয়েছে। এত রাতে কল দেওয়ায়, অজানা শংকা নিয়েই ফোন ধরি। এড. আব্দুস সালাম জানায়, জামালগঞ্জের অ্যাডভোকেট জুবায়ের আহমদ (১) মারা গেছে। সংবাদটি শুনে আমার মাথায় ঝিম ঝিম করতে লাগলো। আমি তাৎক্ষণিক এডভোকেট জোহাকে কল দিলাম, অ্যাড. জোহা জানায়, সে এ বিষয়ে কিছু জানে না। কল দিই অ্যাড. হিমেল, অ্যাড. জমির কেউই কিছু জানে না বলে জানায়। পরে ফোন দেই আমাদের সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. বদর উদ্দিন ভাইকে। বদর উদ্দিন ভাই আমাকে জানান, জামালগঞ্জের অ্যাড. জুবায়ের আহমদ (১) মারা গেছেন। তখন সকলকেই ফোনে বিষয়টি জানাই। ইতিমধ্যে ফেইসবুকেও অ্যাড. জুবায়ের আহমদের মৃত্যুর বিষয়টি প্রকাশ পেয়ে যায়। তখন স্মৃতির পাতায় ভেসে উঠে এড. জুবায়ের আহমদের মুখ খানি। সহজ, সরল ও অমায়িক একজন আইনজীবী ছিল। সে আদালত প্রাঙ্গনে আমার জানা মতে কারো সাথেই কখনো র্দুব্যবহার করে নাই। সবসময় তার মুখে হাসি থাকতো, সে অত্যন্ত মার্জিত ও রুচিবান মানুষ ছিলো।
জামালগঞ্জ উপজেলার রামনগর গ্রামে অ্যাড. জুবায়েরের জন্ম ১৯৮০ সালে। তার তিন বোন দুই ভাই। বাবা তৈয়বুর রহমান জয়নগর হাইস্কুলের শিক্ষক ছিলেন। স্ত্রী, সাড়ে তিন বছরের মেয়ে ও আড়াই বছরের ছেলেকে নিয়ে ছোট্ট সংসার। ১৯৯৬ সালে জয়নগর হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং ১৯৯৮ সালে সুনামগঞ্জ সরকারী কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পাস করেন। অতঃপর সিলেট এমসি কলেজ থেকে এমএসসি পাস করার পর ঢাকা ল’ কলেজ থেকে এলএলবি পাস করেন। সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতিতে ৪.০১.২০১১ সালে যোগদান করেন।
করোনার লকডাউনের পূর্বে আদালত প্রাঙ্গনে তার সাথে আমার শেষ দেখা হয়। সে কয়েকবার অসুস্থ ছিল। ঢাকায় ও সিলেটে চিকিৎসা গ্রহণ করেছে। ২০১৮ সালে তার ছোট ভাই ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছিল। এ জন্য সে সবসময় মর্মাহত থাকতো। সারা বিশ্ব যখন করোনার ভয়ে ভীত, তখন অ্যাড. জুবায়েরের চলে যাওয়ায় আমরা খুবই মর্মাহত হয়েছি। এমন কিছু মৃত্যু মনে নাড়া দেয়, মনে দাগ কাটে। খুব অসময়ে অ্যাড. জুবায়ের আহমদ আমাদেরকে ছেড়ে এই নশ্বর দুনিয়া ছেড়ে চলে গেল।
“মরিলে কান্দিস না আমার দায়….” জানিনা বাউল কি কারণে এমন আকুতি জানিয়েছিলেন। যে কোন পরিবার ও সমাজে এমন মৃত্যুর ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব নয়। আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় মানুষ তার কর্মজীবন শুরু করতে করতেই তিন বছর হয়ে যায়। তারপর তার পরিবারের চিন্তা। প্রত্যেক পরিবার অনেক আশা-আকাঙ্খা নিয়ে তার ছেলে মেয়েদেরকে পড়ালেখা শেখায়। কিন্তু জুবায়েরের মৃত্যুর মতো এমন মৃত্যু পুরো পরিবারের হৃদস্পন্দন স্তব্ধ করে দেয়।
“জন্মিলে মরিতে হবে…” এমন চির সত্যবানী নিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হয়। অ্যাড. জুবায়েরের মৃত্যুতে তার পরিবারে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে আশা করি সৃষ্টিকর্তা তার পরিবারকে ধৈর্য্য ধারনের ক্ষমতা দেবেন।
সহকর্মী অ্যাড. জুবায়ের আহমদ (১) বিধাতার সেই চির সত্যস্থানে তুমি ভাল থেকো। আল্লাহ তোমাকে বেহেস্ত নসিব করুন। আমাদের সকলের পক্ষ থেকে আল্লাহর নিকট এ প্রার্থনাই করি।
লেখকদ্বয়: সদস্য, সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি।