- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

অকেজো স্লুইস গেইট কৃষকের গলা কাঁটা

বিন্দু তালুকদার    
হাওরের পানি নিষ্কাশনের জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা স্লুইস গেইট কাজে আসছে না কৃষকদের। জেলার বিভিন্ন হাওরের ৬ টি স্লুইস গেইট এখন কৃষকদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হাওর পাড়ের কৃষকরা জানিয়েছেন, হাওরের পানি নিস্কাশনের নামে এসব স্লুইস গেইট নির্মাণের নামে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। নির্মাণের পর থেকে তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বন্ধ হয়ে যায় এসব স্লুইস গেইট।
জেলা পাউবো অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলার ছোট বড় হাওরগুলোতে মোট ৮৭টি স্লুইস গেইট রয়েছে। পুরনো এসব স্লুইস গেইটগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ করতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন হাওরের ২৪টি স্লুইস গেইট মেরামত করা হয়েছে। অন্য গেইটগুলো পর্যায়ক্রমে মেরামত করা হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার তাহিরপুর উপজেলার শনির হাওরের মারালা গ্রামের   
কাছের আহম্মখ খালীর স্লুইস গেইট ও রামজীবনপুর গ্রামের কাছের বইগ্গায়ানী স্লুইস গেইট দীর্ঘ ধরে কাজে আসছে না। হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসণে আহম্মখ খালীর স্লুইস গেইট দিয়ে পান্ডব নদীতে ও বইগ্গায়ানী স্লুইস গেইট দিয়ে বৌলাই নদীতে পানি নিস্কাশন হচ্ছে না।
একইভাবে জামালগঞ্জের পাগনার হাওরের গজারিয়া স্লইস গেইট দীর্ঘ দিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এই স্লুইস গেইট বন্ধ থাকায় ফেনারবাঁক ইউনিয়নের উজান দৌলতপুর, ভাটি দৌলদৌলতপুর, রাজাবাজ, ছয়হারা, গঙ্গাধরপুর, রাজাপুর ও ভীমখালী ইউনিয়নের রাজাবাজ, ভান্ডা ও মল্লিকপুর গ্রামের হাজারো কৃষকের বোরো জমি গত প্রায় দেড় যুগ ধরে পানির নিচে থাকে।
সদর উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নের কানলার হাওরের পানি নিস্কাশনের জন্য বনগাঁও স্লুইস গেইট দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে রয়েছে। স্লুইস গেইট থাকলেও বন্ধ থাকায় হাওরের পানি নিস্কাশন হয় না। এই এলাকায় রাবার ড্যাম নির্মাণ করা হয়েছে।
শাল্লা উপজেলার বাহাড়া ইউনিয়নের হরিনগর গ্রামের কাছের স্লুইস গেইট ভেঙে গেছে। ফলে এই এলাকার বন্দু ছুড়া, গনিয়া ও চাতল বিলের পানি নিস্কাশনে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এলাকার কৃষকরা স্ল্ইুস গেইটের পাশে সরু খাল কেটে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করেছেন। একইভাবে হবিবপুর ইউনিয়নের হবিবপুর নোয়াগাঁও গ্রামের কাছে বরাম হাওরের একটি স্লুইস গেইট দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ আছে। এসব স্লুইস গেইট দিয়ে হাওরের পানি নিস্কাশন হয় না।
তাহিরপুরের শনিরহাওর পাড়ের রামজীবনপুর গ্রামের কৃষক আলী আহমদ মুরাদ বলেন,‘শনির হাওরের আহম্মখ খালী ও বইগ্গায়ানী স্লুইস গেইট দীর্ঘ ধরে কৃষকের কোন কাজে আসছে না। এসব গেইট দিয়ে হাওরের পানি নদীতে নিস্কাশন হয় না। ফলে প্রতি বছর সঠিক সময়ে পানি নিস্কাশন না হওয়ায় দেরীতে চাষাবাদ হয়।’
জামালগঞ্জের ফেনারবাঁক ইউনিয়নের গজারিয়া বাজারের পল্লী চিকিৎসক হারুন মিয়া বলেন,‘গজারিয়া স্লুইস গেইট দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে রয়েছে। এই গেইট বন্ধ থাকায় জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে বৃহত্তর পাগনার হাওরের হাজার কৃষকের জমি পানির নিচে থাকে। ’
শাল্লা উপজেলার বাহারা ইউনিয়নের হরিনগর গ্রামের বাসিন্দা বিবিয়ানা মডেল কলেজের প্রভাষক আশিষ কুমার দাস বলেন,‘ আমাদের গ্রামের কাছের স্লুইস গেইট অকেজো থাকায় এলাকার ৮-১০ টি গ্রামের কৃষকদের মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। হাওরের পানি নিস্কাশনের জন্য গেইটের পাশে খাল তৈরি করে দেয়া হয়েছে। গত ১৫ বছর ধরে এই অবস্থা চলছে। হাওরের ফসল রক্ষায় আধা কিলোমিটার উজানে বাঁধ দেয়া হয়েছে।’
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী খলিলুর রহমান বলেন,‘ আমরা বেশ কিছু স্লুইস গেইট মেরামত করেছি। বাকী অকেজো ও বন্ধ হয়ে যাওয়া স্লুইস গেইটগুলো পর্যায়ক্রমে মেরামত ও চালু করা হবে। আমাদের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এসব নিয়ে কাজ করছে। ’

  • [১]