- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

অগ্রণী ব্যাংকের তথ্য অধিকার আইনের পরামর্শ ও কৃষি ঋণ বিতরণ বাস্তবতা

নিজেদের ঘোষণা মোতাবেক হাওর ডুবির ফলে ফসল হারা কৃষকদের অর্ধেক সুদে কৃষি ঋণ বিতরণ কর্মসূচীর অগ্রগতির তথ্য চাইলে অগ্রণী ব্যাংক সুনামগঞ্জ অঞ্চলের উপ মহা ব্যবস্থাপক জনাব আজিজুর রহমান তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করার পরামর্শ দিলেন। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে ফসলহারা কৃষকদের কৃষিঋণ বিতরণের হালঅবস্থার উপর একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন তৈরির স্বার্থেই সুনামগঞ্জের খবরের পক্ষ থেকে অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হয়। তিনি নিজেদের কৃষিঋণ বিতরনের তথ্য দেয়ার বদলে প্রতিবেদককে ওই উপদেশ দিলেন। এটি কি তথ্য অধিকার আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, নাকি নিজেদের কৃষি ঋণ বিতরণে আওয়াজের চাইতে কাজের পরিমাণ কম, বলে দিলেন সেটি আমাদের বোধগম্য নয়। তবে অপরাপর ব্যাংকগুলো কিন্তু ঠিকই তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন। অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ হাওর ডুবির পর রীতিমত জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে অর্ধেক সুদে কৃষিঋণ বিতরণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই কৃষকবান্ধব ঘোষণার আলোকে তারা আসলে কী করলেন সেটি জনগণ তথা সরকারের দৃষ্টিতে আনা তাঁদের জন্যই ছিল প্রয়োজনীয়। এক্ষেত্রে তথ্য না দিয়ে অসহযোগিতার মধ্য দিয়ে তারা কেন নিজেদের কৃতিত্বকে লুকিয়ে রাখতে চাইলেন সেটি রহস্য বটে।
সামনের মৌসুমের বোরো ফসল ফলানোর জন্য কৃষকদের ঋণের চাহিদা এখন সবচাইতে বেশি। বিভিন্ন ব্যাংক হাওরাঞ্চলের শাখাগুলোর বিপরীতে এবছর কৃষিঋণ খাতে বর্ধিত বরাদ্দ দিয়েছেন বলেও জানা গেছে। প্রয়োজনে আগের ঋণ পুনঃতফশীলকরণের মাধ্যমে নতুন ঋণ বিতরণের নির্দেশনা জারি রয়েছে। এই নির্দেশনার আলোকে কৃষি ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংক ইতোমধ্যে যথাক্রমে ৯১ লাখ ও ৫১ লাখ টাকা বিতরণ করেছে। চাহিদার তুলনায় এই বিতরণের পরিমাণ নিতান্তই কম হলেও সামনের দিনগুলোতে বিতরণের পরিমাণ অনেক বেড়ে যাবে বলেই আমাদের ধারণা। সকলেই আশা করছেন নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই এবার ব্যাংকগুলো কৃষকদের ঋণ সহায়তা দিয়ে বোরো ফসল চাষাবাদে সহায়তা জুগিয়ে যাবে। একটি কথা সত্য, আমাদের দেশে কৃষি ঋণ আদায় অবস্থা সন্তোষজনক নয়। যেকারণে সাধারণ অবস্থায় ব্যাংকগুলো এই ধরনের ঋণ বিতরণে তেমন আগ্রহ বোধ করে না। তবে এই আদায় মন্থরতার জন্য কেবল কৃষকদের উপর দোষ চাপালেই চলবে না। বরং এজন্য আমাদের জাতীয় বৈশিষ্টও বিশেষ বিবেচনাযোগ্য। আমাদের দেশে শত কিংবা হাজার কোটি টাকা ঋণ খেলাপী বহু লোকের কথা জানা যায় যারা সামর্থ থাকা সত্বেও ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করেন না। এর প্রভাব সর্বত্র পড়বে, এটি স্বাভাবিক। তদুপরি ঋণ বিতরণে জড়িত ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রবিশেষে দুর্নীতি, দীর্ঘসূত্রিতা, ভুল লোক বাছাই, তদারকির ঘাটতি এসব কারণেও ঋণ আদায়ে ধীর গতি নেমে আসে। এসব জিনিস মাথায় রেখেই এবার অন্তত কৃষিঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দিতেই হবে জাতীয় স্বার্থে। ব্যাংকগুলোও এ জন্য যথাসাধ্য এগিয়ে এসেছে।
উপজেলায় উপজেলায় কৃষিঋণ কমিটি রয়েছে। কোন ব্যাংক কোন ইউনিযনে ঋণ বিতরণ করবে সেটিও ভাগ করা আছে। কমিটিগুলো ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। আমরা আশা করি এবার প্রকৃত কৃষকদের ঋণ পেতে কোন ধরনের হয়রানি ও দীর্ঘসূত্রিতার সন্মুখীন হতে হবে না। কারণ এই ঋণ বিতরণের সাথে দেশের মেরুদ- ধান উৎপাদনের বিষয়টি জড়িত।

  • [১]