পি সি দাশ পীযূষ, শাল্লা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে শাল্লায় শনি ও রবিবার প্রচুর মানুষের সমাগম ঘটেছিল। সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী, রাজনীতিক এবং প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে আসা সাধারণ মানুষে ভরপুর ছিলো শাল্লা উপজেলা সদর। উন্নয়নবঞ্চিত শাল্লঅয় এমন কোন অবকাঠামো নেই যেখানে এত মানুষের ঠাই দিতে পারে। এখানে নেই কোন আবাসিক হোটেল ও রেস্টহাউস। তারপরেও সকলেরই ঠাই হয়েছে কোথাও না কোথাও। আগত অতিথিদের সাদরে বরণ করেছেন শাল্লাবাসী। ছোট উপজেলা সদর বাজারসহ আশেপাশের গ্রামের একটি বাড়িও ছিল না যেখানে কয়েকজন করে অতিথি ছিলেন না। অতিথিদের আপ্যায়ন করতে গিয়ে বহু পরিবারের সদস্যরা মাটিতে চাদর, পলিথিন পেপার বিছিয়ে কষ্ট করে রাত কাটিয়েছে। উপজেলা সদরের বাসা বাড়ি থেকে শুরু করে দোকানেও অতিথিদের ঘুমানো ও খাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন অনেকে। নিজে না খেয়ে, না ঘুমিয়ে আগত অতিথিবৃন্দের সমাদর করেছেন।
শনিবার রাত প্রায় ১২ টার সময় কলেজ রোডের বকুল স্টুডিও তে গিয়ে দেখা যায়, ঘরের ভিতরে পা রাখার জায়গা নেই। স্টুডিও তে কয়েকজন সরকারী কর্মকর্তা শুয়ে আছেন। অতিথিদেও কোনমতে মাথা গুজার ঠাই দিয়ে স্টুডিওর মালিক পংকজ দাস একটি টেবিলে বসে কাটিয়েছেন সারা রাত।
পংকজ দাস বলেন, কি করব ভাই তারা তো দুদিনের অতিথি নিজে কষ্ট করে হলেও তাদের সেবা করা দরকার।
কলেজের কাছে রেস্তেুারা ব্যবসায়ী নিরঞ্জন দাস জানান, শনিবার রাত প্রায় সাড়ে ১২ টার সময় ৪ জন পুলিশ এসে বলেন, ভাই একটু থাকার জায়গা দিবেন? আমি ভাবলাম শাল্লায় থাকার জায়গা নাই। তাই নিজের বিছানায় তাদেরকে ঘুমানোর ব্যবস্থা করে আমরা ২ জন মাটিতে পলিথিন বিছিয়ে ঘুমিয়েছি।
ডুমরা গ্রামে বসবাসকারী ভানুচাঁদ দাশ, মহসীন মিয়া, জ্যোতিষ তালুকদার বাদল, ঘুঙ্গিঁয়ারগাঁও গ্রামের শ্যামাপ্রসাদ দাস, খোকন সরকার, সুলতানপুরের তকবীর হোসেন, আলী মিয়া, হাবিবুর রহমান হাবিব, কান্দিগাঁওয়ের মোহন মিয়া, বাজারের ব্যবসায়ী কাজল দাস, সংগ্রাম দাস অনেকেই জানান, আশেপাশের ৪/৫ টি গ্রামের প্রতিটি পরিবারে কমপক্ষে ৩ থেকে ৫ জন অতিথি ছিলেন। শুধু গ্রামেই নয় উপজেলা সদরের প্রত্যেকটি সরকারী অফিস, কোয়ার্টার , বেসরকারী কার্যালয়ের প্রতিটি কক্ষসহ ৪ টি ইউপি কার্যালয়েও ছিল একই অবস্থা।
তারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর আগমনে শাল্লায় আসা অতিথিরা থাকা খাওয়ার জন্য খুবই সমস্যায় পড়েছিলেন। কিন্তু শাল্লার মানুষ সাদরে অতিথিদের বরণ করে নিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী শাল্লা ত্যাগের পর পরেশ দাসের হোটেলে ঢাকার কয়েকজন সাংবাদিক বলেন সত্যি, শাল্লাবাসী অতিথি বরণে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তারা মানুষকে সম্মান করতে জানেন। আজকাল এধরনের মূল্যায়ন কমই পাওয়া যায়। তা না হলে রাস্তায় বসে রাত কাটাতে হত আমাদের।