বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের হাওরে ফসলহানির বিষয়টি বিবেচনা করে বেতন ছাড়া অন্যান্য ফি না নেওয়ার দাবিতে রোববারও সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গত ১৪ দিন ধরে এই দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ, স্মারকলিপি প্রদানসহ নানা কর্মসূচি পালন করছেন তারা। রোববার দুপুরে ছাত্রলীগের পরিচয় দিয়ে ফয়সল চৌধুরী নামের এক তরুণ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একজনকে ধাওয়া করেছে। পরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠলে ফয়সলসহ আন্দোলন বিরোধীরা পিছু হঠে।
শিক্ষার্থীরা জানান, দুপুরে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শেষে অধ্যক্ষের কাছে গিয়ে এই দাবি জানালে অধ্যক্ষ আগামি ১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় চান। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সাধারণ শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে বাধা দিতে অধ্যক্ষ ছাত্রলীগের কিছু কর্মীদের ডেকে নেন। ছাত্রলীগের ঐ কর্মীরা আন্দোলনকারীদের অধ্যক্ষের কক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ছাত্রলীগের কর্মীদের সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বাগবিতন্ডা হয়। অধ্যক্ষের কক্ষ থেকে শিক্ষার্থীরা বের হবার পর কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নেতা তহুর মিয়াকে আন্দোলন বিরোধী ফয়সলের সঙ্গে থাকা মঈনুলসহ কয়েকজন ধাওয়া দেয়। পরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠলে তারা পিছু হঠে।
পরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন- ওমর ফারুক, দ্বিপাল ভট্টাচার্য, তহুর মিয়া, সুকান্ত দত্ত, মনির হোসেন, মোর্শেদ আহমদ হৃদয়, মলয় কর, সূর্য সেন, জাহিদ মিয়া, জয়ন্ত দাস, সৌরভ আহমেদ, সালা উদ্দিন, নিমাই, নাজনীন আনসারী প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, কলেজে নানা খাত দেখিয়ে সব সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়। কলেজে পরিবহনের কোনো ব্যবস্থা না থাকলেও এই খাতে ২০০ টাকা, নিরাপত্তা ও নৈশপ্রহরী ফি বাবদ ৫০০ টাকা নেয়া হয়। কলেজে কোনো ছাত্র সংসদ, মসজিদ, মন্দির, রেডক্রিসেন্টের কার্যক্রম না থাকলেও এসব খাতে টাকা আদায় করা হয়। এ কারণে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। পহেলা জানুয়ারি কর্র্তৃপক্ষ এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবার আশ্বাস দিয়েছেন। দাবি আদায় না হলে পহেলা জানুয়ারির পর আবার কর্মসূচি দেওয়া হবে। রোববার যেভাবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমানোর জন্য কয়েকজন শিক্ষার্থীকে লেলিয়ে দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ এটি দুঃখজনক। কর্তৃপক্ষ ভুল পথে কিছু শিক্ষার্থীকে পরিচালনা করছেন।’
এব্যাপারে কথা বলার জন্য ছাত্রলীগের ফয়সলের মুঠোফোনে বার বার চেষ্টা করলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
জেলা ছাত্রলীগের যুগ্মসম্পাদক দেওয়ান জিসান রাজা চৌধুরী বলেন,‘ছাত্রলীগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সম্পৃক্ত রয়েছে, থাকবে। তহুর মিয়া অধ্যক্ষের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করায় ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে, এটি সমাধানও করে দেওয়া হয়েছে।’
জেলা ছাত্রলীগের প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হক কিরণ বলেন,‘ফয়সল ছাত্রলীগের কোন দায়িত্বে নেই। তার কার্যক্রমের দায় ছাত্রলীগের উপর বর্তায় না। শিক্ষার্থীদের সকল যৌক্তিক আন্দোলনে ছাত্রলীগ থাকবে, সহযোগিতা করবে।’
এ ব্যাপারে সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুছ ছত্তার মুঠোফোনে জানান, শিক্ষার্থীদের এই দাবির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এখন কলেজ বন্ধ। কলেজ খুললেই বিয়ষটি নিয়ে বসা হবে। আন্দোলন দমানোর জন্য কাউকে ডেকে আনা হয়নি। সকলেই ছাত্র ছিলেন। দাবি আদায় কারীরা মিছিল করার সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে শুনেছেন তিনি।