- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

অতীত ঐতিহ্য দিন দিন বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে

এম.এ. ওয়াহিদ
আগেকার দিনে পল্লী অঞ্চলে পাড়া মহল্লায় জারি গান, মুর্শিদি গান, পল্লীগীতি গান, সারি গান, বাউল গান, ধামাইল গান, দেহতত্ত্ব গান, বিরহ বেদনার গান, নিশি রাতের গান শুনা যেত। আজ এই গানগুলো বিলুপ্তির পথে। গান মানুষের মনকে সতেজ করে, টেনশনমুক্ত করে, কৃষকরা যখন দলবদ্ধভাবে মৌসুমী ফসল বোরো, আমন ধান রোপন করে তখন সম্মিলিতভাবে গানের তালে-তালে জমির রোপন করতে দেখা যেত। এতে কাজের অনেক অগ্রগতি পরিলক্ষিত হত। তুলনামূলকভাবে এসব প্রথা এখন নেই বললেই চলে। শহরের নামীদামি শিল্পীদের স্থান রেডিও ও টেলিভিশনে। তবে অজপাড়া গাঁয়ে এমন শিল্পীগণ আছে যাদের কাছে শহরের শিল্পীগণ হার মানতে হবে। এত সুললিত কন্ঠের অধিকারী পল্লীর শিল্পীগণ আজ তাদের কদর না থাকার একমাত্র কারণ তাদের বসার স্থান নেই। বাদ্যযন্ত্র নেই। এসবের মূল কারণ ওরা আজ অভাবগ্রস্থ। মূলত পরিবেশ না থাকায় পল্লীর শিল্পীগণের মধুর কন্ঠের গানগুলো আজ প্রসার লাভ করছে না। এসকল ভেবে চিন্তে সুনামগঞ্জ জেলায় গীতিকার ফোরাম নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে ফোরামের সদস্য সংখ্যা ৪৩৫ জন। তাদের মিলন মেলার জন্য প্রতি বছর দুই দিন ব্যাপী জেলা শহরে ফোরাম কর্তৃক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ফলশ্রুতিতে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বাউল শিল্পীগণের শহরে এসে মঞ্চে গান করার এক সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই পুরানো দিনের সংস্কৃতিকে জাগ্রত রাখার জন্য সুনামগঞ্জ জেলা গীতিকার ফোরামের উপদেষ্টামন্ডলী, সভাপতি সম্পাদকসহ সকল সদস্যবৃন্দকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। এই গীতিকার ফোরামকে উৎসাহিত করেছেন জেলার মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ও এমপি মহোদয়গণ, জেলা প্রশাসক, জেলা প্রশাসন এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ। উত্তরোত্তর এই ফোরামের শিল্পীদের গান বাংলার ৬৪ টি জেলায় স্থান পাবে এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।
লেখক : উপদেষ্টা, সুনামগঞ্জ জেলা গীতিকার ফোরাম

  • [১]