- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

অদৃশ্য হাসপাতাল

এনামুল হক, ধর্মপাশা
মধ্যনগরে ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের অনুমোদন হয় ২০০৭ সালে। যে হাসপাতালের ৩ জন ডাক্তারও আছেন। কেউ কোনোদিন ওইসব ডাক্তারদের যেমন দেখেননি তেমনি কোথায় এ হাসপাতালের অবস্থান সেটিও অজানা মধ্যনগরবাসীর কাছে। শুধুমাত্র কাগজে কলমে চলছে অদৃশ্য এ হাসপাতালের কার্যক্রম। ফলে এখনও মধ্যনগর উপজেলার চারটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক লোকের চিকিৎসা সেবায় স্থানীয় ফার্মেসির অসুধ বিক্রেতারাই যেন শেষ ভরসা। সর্দি-কাশি, জ্বর, মাথা ব্যাথার চিকিৎসা ছাড়া আর কিছুই হয় না মধ্যনগরে।
সীমান্তবর্তী ও হাওরবেষ্টিত মধ্যনগর থানাকে গেল বছরের ২৬ জুলাই উপজেলায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু এখানে হাসপাতাল না থাকায় ২০ কিলোমিটার দূরে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গিয়ে জনগণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এমন দুর্ভোগে কথা বিবেচনা করে ২০০৭ সালে মধ্যনগর ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের অনুমোদন হয়। এ হাসপাতাল স্থাপনের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা স্থান পরিদর্শন করেন। কিন্তু স্থান নির্বাচন নিয়ে জটিলতাসহ বিভিন্ন কারণে এ হাসপাতালের কোনো স্থাপনা তৈরি হয়নি।
২০১৮ সালের ২৫ অক্টোবর এ হাসপাতাল নির্মাণের লক্ষ্যে মধ্যনগরস্থ জামালপুর মৌজার ১০ নং জেএল ০১ নং সরকারি খাস খতিয়ানের ৩০২ নং দাগের ২.৫০ একর খাস পতিত শ্রেণির জমি প্রস্তাব করে সংশ্লিষ্ট কমিটি। কিন্তু স্থানটি যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল না হওয়া ও এর কাছে মধ্যনগর বাসস্ট্যান্ডের প্রস্তাবিত হওয়া এবং স্থানটি নিচু ও নদীর ধারে অবস্থিত হওয়ায় তা হাসপাতাল নির্মাণের জন্য উপযুক্ত নয় বলে এখানে হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়নি। পরবর্তীতে গেল বছরের ১২ এপ্রিল স্থানীয় এমপি, সহকারী কমিশনার ভূমি, আবাসিক মেডিকেল অফিসার এবং মধ্যনগর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ মধ্যনগর থানা থেকে ৫০০ গজ এবং মধ্যনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে ৭.৫০ একর জায়গা নির্বাচন করে হাসপাতাল নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়।
কিন্তু এ অদৃশ্য হাসপাতালে ডা. শাকুর রানা আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা হিসেবে গেল বছরের ১৯ মে যোগদান করেন। তিনি এখন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেষণে আছেন। এছাড়াও চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি এ হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার হিসেবে ডা. মাহমুদা আক্তার ও ডা. নাবিলা উদ্দিন (উভয়ই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হতে সংযুক্তিতে) যোগদান করেন। গেল বছরের ফেব্রুয়ারিতে ১ জন ল্যাবরেটরী এটেন্ডেন্ট ও ২ জন ওয়ার্ডবয়ের নিয়োগ বাতিল হওয়ায় পদ শূন্য হয়। এদিকে মধ্যনগর উপজেলায় উন্নীত হওয়ায় ২০ শয্যা হাসপাতালের পরিবর্তে ৫০ বা ১০০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানালেন জেলা সিভিল সার্জন।
এদিকে বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান রাসেল আহমদ বলেন, ‘মধ্যনগরে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হলে আমরা উপকৃত হবো। আর ২০ শয্যা হাসপাতালটি বংশীকুন্ডায় স্থানান্তরের জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে লিখিতভাবে আবেদন জানাবো।’
সুনামগঞ্জ স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী উজ্বল মিয়া বলেন, ‘হাসপাতাল নির্মাণের জন্য আগের নির্ধারিত স্থানের মাটিও পরীক্ষা করা হয়েছিল। জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে নতুন স্থানের প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে কাজ শুরু করা হবে।’
সুনামগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. আহম্মদ হোসেন বলেন, ‘মধ্যনগর উপজেলা হওয়ায় ২০ শয্যা হাসপাতালের কাজ হবে না। এটি ৫০ অথবা ১০০ শয্যা হতে পারে। সম্ভবত ৫০ শয্যার সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। নির্ধারিত জমি অধিগ্রহণ হয়েছে। এ সংক্রান্ত তথ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।’
সুনামগঞ্জ-১ আসনের এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, ‘হাসপাতাল নির্মাণের বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যে কোনো সময় টেন্ডার নোটিশ করা হবে।’

  • [১]