- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

অনৈতিক পরিবহন ধর্মঘটকে প্রশ্রয় দেয়া ঠিক হবে না

উদীয়মান চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ, এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী মিশুক মুনির সহ পাঁচ জনকে নিহতের দায়ে ঘাতক বাসচালক জামির হোসেনকে মানিকগঞ্জ আদালত কর্তৃক যাবজ্জীবন কারাদ- দেয়ার প্রতিবাদে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন মঙ্গলবার ভোর থেকে সারাদেশে পরিবহন ধর্মঘট পালন করছে। এই ধর্মঘটের কারণে দেশব্যাপী সাধারণ মানুষের অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দশা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। একটি আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে শ্রমিক সংগঠন সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার যে ধর্মঘট ডেকেছে সেটি আইন ও নৈতিকতার প্রশ্নে সম্পূর্ণ অন্যায়। সরকারের উচিৎ ধর্মঘট আহ্বানকারীদের সর্বতোভাবে প্রতিহত করা। পরিবহন শ্রমিকদের নিকট আমাদের প্রশ্ন, পাঁচ পাঁঁচটি প্রাণ কেড়ে নেয়ার দায়ে যাবজ্জীবন দ-ের মতো একটি বিচারিক আদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আপনারা কি মানুষ খুনের লাইসেন্স আদায় করে নিতে চাইছেন? আমাদের দেশের কোন ব্যক্তিই আইনের উর্দ্ধে নন। তা তিনি যত ক্ষমতাশালী কিংবা সংঘশক্তির অধিকারীই হোন না কেন। জনজীবনে পরিবহন খাতের অপরিহার্যতা প্রতিক্ষণের। একমুহূর্ত পরিবহন ব্যবস্থা অচল হলে মানুষের জীবনে নেমে আসে সীমাহীন দুর্ভোগ। শুধুমাত্র এই স্পর্শকাতর বিষয়টিকে ব্যবহার করে কেউ বেআইনি আর অনৈতিক কর্মসূচী দিয়ে দিবেন আর তাদের চাপের কাছে সরকারকে নতি শিকার করতে হবে এরকম অরাজক পরিস্থিতি দেশে তৈরি হোক তা কোন ব্যক্তিই প্রত্যাশা করেন না। আজ পরিবহন শ্রমিকদের চাপের কাছে নতি স্বীকার করার অর্থ হবে ড্রাইভারদেরকে রাস্তায় মানুষ মারার অধিকার দিয়ে দেওয়া। সরকারের উচিৎ হবে আইনি পন্থায় এদের দমন করা।
চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও সাংবাদিক মিশুক মুনির ছিলেন বাংলাদেশের দুই বুদ্ধিবৃত্তিক স্তম্ভ। এঁদের কীর্তিতে দেশের সুনাম বেড়েছিলো। এদের দেয়ার ক্ষমতা থেকে গিয়েছিলো আরও অনেক। কিন্তু কোন এক অর্বাচীন গাড়ি চালকের বেপরোয়া মনোভাবে তাঁদের প্রাণপ্রদীপ নিভে গেছে অকালে। আদালত দুর্ঘটনার যাবতীয় তথ্য প্রমাণ চুলচেরা বিশ্লেষণ করে দায়ী চালককে যাবজ্জীবন কারাদ- দিয়েছেন। সাধারণ মানুষ এই সাজাকে মামুলি হিসেবে বিবেচনা করছেন। কারণ পাঁচটি খুনের পর কারও ফাঁসি না হওয়ার কথা নয়। অথচ শ্রমিক ফেডারেশন এখন কী চা্েচ্ছন? তারা চাচ্ছেন খুনী চালকের দায়মুক্তি। খুনের দায়মুক্তি বাংলাদেশে একবার সাংবিধানিকভাবে দেয়া হয়েছিল পচাত্তরের পটপরিবর্তনের পর বঙ্গবন্ধুর খুনীদের। এই দায়মুক্তির দায় বহন করেছে জাতি দীর্ঘ কয়েক দশক। পরে আবার সংবিধানের এই দায়মুক্তির অনুচ্ছেদ বাতিল করে খুনিদের শাস্তি দেয়া হয়েছে। এখন কোন পরিবহন সংগঠন যদি এরকম দায়মুক্তি চান তাহলে এর পরিনাম কী হতে পারে তা ভেবে দেখতে হবে সরকারকে।
ট্রেড ইউনিয়ন করার কিছু সুনির্দিষ্ট আইনকানুন রয়েছে। ট্রেড ইউনিয়ন অরাজকতা তৈরির কোন প্রতিষ্ঠান নয়। আলোচ্যক্ষেত্রে পরিবহন শ্রমিক সংগঠন ট্রেড ইউনিয়নের সকল নীতি-নিয়ম লংঘন করেছেন। এই সংগঠনের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। প্রয়োজন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে কর্মসূচী ঘোষণা করার জন্য ধর্মঘট আহ্বানকারী নেতৃবৃন্দের নামে আদালত অবমাননা মামলা দায়েরের। আমরা জানি পরিবহন সেক্টরের নেতৃৃত্বে রয়েছেন ক্ষমতাসীন দলেরই লোকজন। এখন দেখার বিষয় সরকার তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেন।  সাধারণ মানুষ প্রচ- ক্ষুব্ধ এই অরাজকতায়। সাধারণ মানুষ চান দ্রুত অচলাবস্থার নিরসন ঘটুক, তবে কোনভাবেই নতি স্বীকারের মধ্য দিয়ে নয়। পরিবহন নেতৃত্বের প্রতি আমাদের আহ্বান, আপনারা দয়া করে জনজীবনে বিপর্যয় তৈরিকারী কর্মসূচি থেকে সরে আসুন। নিজেদের কোন দাবি-দাওয়া থাকলে আইনি পথে অগ্রসর হোন। দয়া করে মানুষকে জিম্মি করবেন না।

  • [১]