- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

অন্ধকারে তিন লাখ গ্রাহক

বিশেষ প্রতিনিধি
কালবৈশাখী ঝড়ে গাছগাছালি উপড়ে বিদ্যুৎ লাইনে পড়ায় সুনামগঞ্জের সাত উপজেলার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। পল্লী বিদ্যুৎ ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড মিলে প্রায় তিন লাখ গ্রাহক মঙ্গলবার রাত পেঁৗনে ১২ টা থেকে বুধবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিদ্যুৎবিহীন আছেন। বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাতের আগে বিদ্যুৎ সঞ্চালন স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। এছাড়া সরকারি হিসাবে জেলার সাত উপজেলায় কমপক্ষে ৩০০ ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে। বেসরকারি হিসাবে এই সংখ্যা আরও বেশি।
মঙ্গলবার রাত পেঁৗনে ১২টায় প্রচণ্ড বেগে সুনামগঞ্জ সদর, শান্তিগঞ্জ, জগন্নাথপুর, জামালগঞ্জ, দিরাই, শাল্লা ও তাহিরপুর উপজেলার উপর দিয়ে কালবৈশাখির ঝড় বয়ে যায়। থেমে থেমে কয়েক দফায় আধাঘণ্টারও বেশি ঝড় হয়। এসময় বিপুল সংখ্যক কাঁচা ঘরবাড়ি, বিদ্যুতের খুঁটি ও গাছাগাছালি ভেঙে যায়। গাছাগাছালি বিদ্যুত লাইনের উপরে পড়ে এবং বিদ্যুতের খুঁটি হেলে এবং ভেঙে পড়ায় জেলাব্যাপি বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দেয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (বিকাল ৪টা) পল্লী বিদ্যুতের দুই লাখ ৭০ হাজার গ্রাহক এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ১৫ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ ভোগান্তিতে আছেন। মঙ্গলবার রাত পেঁৗনে ১২টার পর থেকে বুধবার বিকাল চারটা পর্যন্ত বিদ্যুতের দেখা পান নি এসব গ্রাহকরা।
এদিকে, ঝড়ের তাণ্ডবে জেলার তাহিরপুরে ৩ জন আহত হয়েছেন। দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের উর্ধ্বনপুর গ্রামে ঝড়ে ঘরের ছাল উড়িয়ে নিয়ে যাবার সময় চিৎকার দিয়ে এক বৃদ্ধা জ্ঞান হারানোর পর তার আর জ্ঞান ফিরে নি।
নিহতের আত্মীয় মো. জেবুল ইসলাম জানান, রাত ১২ টায় ঝড় শুরু হয়, ঝড় কমলে চিৎকার শুনে পাশে বোনের জামাই আব্দুল ওয়াহাব (৬৫)’এর বাড়ি যান। গিয়ে শুনেন, ঝড়ে টিনের চাল উড়িয়ে নেবার সময় দুই নাতিকে দুই হাতে ধরে আব্দুল ওয়াহাব তার ছেলেদের বের হবার জন্য চিৎকার দিয়ে জ্ঞান হারান। এরপর আর জ্ঞান ফিরেনি তার। বাবার অবস্থা দেখে তার ছেলে হেলাল আহমদও জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে ছেলে হেলাল আহমদের জ্ঞান ফিরলেও আব্দুল ওয়াহাবের জ্ঞান ফিরে নি। এছাড়া জেলাজুড়ে ঝড়ের তাণ্ডবে বিধ্বস্ত হয়েছে কয়েক’শ কাঁচা ঘরবাড়ি।
সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মকবুল আলম জানিয়েছেন, ঝড়ে বিদ্যুতের ১৬ টি খুঁটি ভেঙেছে। জেলার তিন লাখ ষাট হাজার গ্রাহকের মধ্যে দুই লাখ ৭০ হাজার গ্রাহককে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায় নি। সন্ধ্যার আগে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান জানান, দিরাই—শাল্লাসহ সুনামগঞ্জের তিনটি বিদ্যুৎ ফিডারের ১৫টি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়েছে। একারণে প্রায় ১৫ হাজার গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া যাচ্ছে না। রাতের আগে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা হচ্ছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম জানান, ঝড়ে সাত উপজেলায় কমপক্ষে তিনশ কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।
এদিকে, তাহিরপুর প্রতিনিধি আমিনুল ইসলাম জানান, ঝড়ের সময় বসতঘরের নীচে পড়ে আহত হয়েছে ৩ জন। এরা হলেন, দপেরকান্দা গ্রামের সাইফুল, রামজীবনপুর গ্রামের আরশাদ ও উজ্জলপুর গ্রামের আলম। এরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
তাহিরপুরের উজ্জলপুর গ্রামের জিয়াবুল হক বলেন, ঝড়ের গতিবেগ দেখে ভয়ে লোকজন দেঁৗড়াদেঁৗড়ি শুরু করেন। তিনি জানান, ঝড়ের সময় বসতঘরের পাকা পিলার উড়িয়ে বিদ্যুতের তারের সাথে লটকে রেখেছে।

  • [১]