ধর্মপাশা প্রতিনিধি
শ্রেণিকক্ষের পাশেই দক্ষিণ সড়ক। সেই সড়ক ঘেঁষে রয়েছে দোকান। ফলে শ্রেণিকক্ষের দক্ষিণ পাশের জানালা খোলা আর বন্ধ থাকা সমান কথা। এতে করে ক্লাসের সময় পর্যাপ্ত আলো পৌঁঁছায় না শ্রেণিকক্ষে। তাই সার্বক্ষণিক বৈদ্যতিক বাতি জ্বালিয়ে নিতে হয় ক্লাস। দিন মেঘলা হলে বা লোডশেডিং থাকলে প্রাক প্রাথমিকের কোমলমতি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা পড়েন বিপাকে। দীর্ঘ বছর ধরে এভাবেই চলছে শিশুর শ্রেণির ক্লাস। কিন্তু মঙ্গলবার হুট করে পাল্টে গেল সেই চিত্র। অন্ধকারাচ্ছন্ন শ্রেণিকক্ষ স্থানান্তর করা হয়েছে নতুন ভবনের একটি সুসজ্জিত কক্ষে। শিশু শ্রেণির ৩৭ জন শিক্ষার্থীর হাতে রঙিন বেলুন ও রজনীগন্ধা ফুল দিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে শিশু শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানো হয় ধর্মপাশা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ধর্মপাশা ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
মঙ্গলবার বেলা ১১টায় এ আনন্দঘন অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও উপস্থিত অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মানবেন্দ্র দাস, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল আউয়াল, ইউআরসির ইন্সস্ট্রাক্টর চন্দন কুমার বণিক, সদর ইউপি চেয়ারম্যান জুবায়ের পাশা হিমু, শিক্ষার্থী অভিভাবক শামীম আহমেদ মুরাদ, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজমুল হায়দার।
১৯০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ধর্মপাশা ২ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে একটি দ্বিতল ভবন রয়েছে। এই ভবনের নিচতলার পূর্বদিকের শ্রেণিকক্ষে ১০ বছরের বেশি সময় ধরে প্রাক প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের ক্লাস চলে আসছে। বিদ্যালয়ের উত্তর পাশের আধাপাকা ভবন ভেঙে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে এলজিইডির অধীনে ২ কোটি ২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৫২ টাকা (ক্ষিদিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ) ব্যয়ে চাহিদাভিত্তিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যাালয় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প থেকে একটি দ্বিতল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। মাস তিনেক আগে এ ভবনের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। শ্রেণিকক্ষের সংকট থাকায় সম্প্রতি নতুন ভবনটিতে ক্লাসের কার্যক্রম শুরু করা হয়। সাথে সাথে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়টিকে আকর্ষণীয় করতে তুলতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পরামর্শক্রমে বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত স্লিপ ও ক্ষুদ্র মেরামতের ২ লাখ ৭০ টাকায় প্রাক প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি শ্রেণিকক্ষ সুসজ্জিতকরণসহ নতুন-পুরাতন দুটি ভবনই বর্ণীল রঙে রাঙিয়ে তোলার উদ্যোগ নেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজমুল হায়দার বলেন, ‘২০১৪ সালে এ বিদ্যালয়ে যোগদান করেছি। তখন থেকেই দেখেছি আগের শ্রেণিকক্ষে সারক্ষণ বৈদ্যতিক বাতি জ্বালিয়ে রাখতে হতো। বিদ্যুৎ না থাকলে শ্রেণিকক্ষ অন্ধকার হয়ে যেতো। তাই প্রাক প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ স্থানান্তর করার পাশাপাশি অন্য শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের প্রতি আকৃষ্ট করতে পুরো বিদ্যালয় শিক্ষা উপযোগী করে সাজানো হয়েছে।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মানবেন্দ্র দাস বলেন, ‘প্রাক প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে এসে যদি একটি আনন্দঘন ও সুন্দর পরিবেশ পায় তাহলে তাদের মধ্য থেকে বিদ্যালয় ভীতি দুুর হবে এবং স্বাচ্ছন্দে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি বিদ্যালয়ের প্রাক প্রাথমিকের শ্রেণিকক্ষ এভাবে সজ্জিতকরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’