সকাল ৮টার দিকে গ্রামের একেক হাটিতে হাটিতে একেক দল দা, রামদা, লাটিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। আমাদের বাড়িতে নাচনি গ্রামের ইউপি সদস্য স্বাধীন মিয়া ও পক্কন মিয়ার নেতৃত্বে হামলা হয়। আমি উপর থেকে শুনছিলাম, পক্কন মিয়া বলছিলো- এটি জগদীশের কাকার বাড়ি, ভেঙে গুড়িয়ে দাও। কিছুক্ষণ ভাঙচুর চালিয়ে দরজা ভাঙতে না পেরে আমাদের মাঝের হাটির অন্য বাড়িতে চলে গিয়েছিল এই দলের ভাংচুরকারীরা। পরে আবারও ফিরে এসে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে ভাংচুর চালায় তারা। আমার বাবাকে (বীর মুক্তিযোদ্ধা জগৎ চন্দ্র দাস) টানা হেছড়া শুরু করে। বাবা পরে তার শোকেস এর ড্রয়ার থেকে ১০ হাজার টাকা বের করে দিয়ে হাত জোড় করে ক্ষমা চাইলে টাকা নিয়ে ওরা ফিরে যায়। কথাগুলো লিটন দাশের। যিনি তার ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ বাবাকে নিয়ে বাড়িতেই ছিলেন। লিটনের কথাতে প্রমাণিত শুধু ধর্মীয় অনুভূতি নয়, এই হামলা-ভাংচুরের পেছনে বৈষয়িক লোভ-লালসাও কাজ করেছে। গ্রামবাসী বলছেন, এমন তাণ্ডব কখনো দেখেননি তারা। প্রকাশ্য দিবালোকে ৫ টি মন্দিরসহ প্রায়
এক’শ বাড়িঘরে তাণ্ডবলীলা চালায় জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য বিরোধী আন্দোলনের নেতা মাওলানা মামুনুল হকের সমর্থকরা।
জানা যায়, নোয়াগাঁও গ্রামের ঝুমন দাস আপন নামের এক তরুণের ফেসবুক আইডি থেকে মাওলানা মামনুল হককে কটাক্ষ করে স্ট্যাটাসের কারণেই এই হামলা। অবস্থা আঁচ করে অপ্রীতিকর অবস্থা এড়াতে গত মঙ্গলবার রাতেই ঝুমন কে পুলিশের হাতে তুলে দেয় গ্রামবাসী। আইনীভাবে এটি নিষ্পত্তির সুযোগ ছিল। তারপরও গ্রামের মন্দির ও বাড়িঘরগুলোর ওপর আক্রমণ চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। স্বর্ণালংকার ও দামি জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যাওয়া ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতপ্রাপ্ত কোনো মানুষের কাজ নয়। দিনের আলোয় ডাকাতি করা হয়েছে। মন্দিরগুলোতে শুধু যে প্রতিমা ভাঙা হয়েছে তা নয়, মূল্যবান কষ্টি পাথরের প্রতিমা নিয়েও গেছে ডাকাতরা। গ্রামের লোকজনের মনে যে তীব্র আঘাত লেগেছে, তা মন হয় সহজে দূর হবে না। নোয়াগাঁও গ্রামে হামলার সুষ্ঠু বিচার করে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সংখ্যালঘু হওয়ার কারণে কোনো সম্প্রদায়ের মানুষ আক্রান্ত হবে, আর সরকার আইনি প্রতিকার করতে পারবে না এমন অবস্থা যদি হয়, তাহলে রাষ্ট্র ও সমাজের জীবনে অন্ধকার নেমে আসবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলে শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনের অধিকার বাংলাদেশের চেতনার অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার, ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর দুর্বৃত্তপনার কাছে তা হার মানতে পারে না।