ইয়াকুব শাহরিয়ার, শান্তিগঞ্জ
শান্তিগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের ‘নির্যাতনে’ উজির মিয়া নিহত হওয়ার ঘটনায় পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, এই ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক, যে কারো সাথে এমনটি হওয়া উচিত নয়। এর সুষ্ঠু বিচার হবে। অপরাধী যে কেউ-ই হোক তার বিচার নিশ্চিত করা হবে। তবে অপরাধীর দোষ প্রমাণিত হতে হবে। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কাজ চলমান আছে। আমাদেরকে ততক্ষণ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আমি এই বিষয়ে বিন্দুমাত্র ছাড় দেবো না। প্রকৃত দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে এই ঘটনাটিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নজরে আনবো।
শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫ টায় উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের শত্রুমর্দন গ্রামে পুলিশের নির্যাতনে নিহত হওয়ার অভিযোগের ঘটনায় উজির মিয়ার বাড়িতে তার স্বজনদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
নিহত উজির মিয়ার মা, স্ত্রী-সন্তান ও পরিবারকে সান্তনা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, উজির মিয়াকে যদি নির্যাতন করে হত্যা করা হয়, আর তার প্রমাণ হয় অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। বর্তমান সরকার এমন হত্যাকা-কে কোনোভাবেই সমর্থন করে না। আইনের সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হবে। এমন ঘটনায় আরো বিচার নিশ্চিত করা হয়েছে, এটা দেশবাসী জানেন। নতুন করে আইন তৈরি করে উজির মিয়া হত্যার বিচার করতে হবে না।
মন্ত্রী বলেন, সরকার চায় না বিনা কারণে দেশের একজন মানুষও হয়রানির শিকার হোক। সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতে আমি দেখভাল করবো। তবে সব কিছু যেতে হবে প্রক্রিয়া মেনে। তদন্ত হচ্ছে। রিপোর্ট আসুক। প্রতিবেদন অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, এই ঘটনায় ইতোমধ্যে দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কাল (রোববার) ডিসি এবং এসপি দু’জনের সাথেই আমার দেখা হবে। তাদের সাথে কথা বলবো। যতদ্রুত সম্ভব ঘটনার বিচার দেখতে চাই। খেয়াল রাখতে হবে- কোনো কুচক্রী মহলের উষ্কানীতে কেউ যেনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটায়। ঘটনার সাথে জড়িত ইঙ্গিত দানকারী কেউ থাকলে, তাকেও খুঁজে বের করা হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমরা এটা চাই না কোনো নাগরিকের উপর অন্যায়ভাবে কেউ অত্যাচার করুক। এটা বিধান নয়, যদি কেনো মহলে বাড়াবাড়ি করে থাকে, এটাকে বিচার করার আমাদের বিধান আছে। আমাকে গায়ের জোরে বিচার করতে হবে না। সেটাও আমাদের আইনকানুনে বলা আছে, কিভাবে বিচার করতে হবে। আমরা সেটা ফলো করবো। ধৈর্য্য এবং ইনকোয়ারি এই দুইটা জিনিস আমাদের দরকার। এটা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আমরা সবাই সাবধান থাকবো, ধৈর্য্য ধরবো।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, আইন মেনে চলতে হবে। আমাদের জন্য যে আইন সেটা সকল সরকারি কর্তা-কর্মচারীদের জন্যও। সুতরাং আইনে মানতে হবে। মনে রাখতে হবে, আইন আমরা কেউ বানাইনি। সেটা ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসছে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। তিনি বলেন, উজির মিয়ার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা ঢাকা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আর এমনটি করার কোনো প্রয়োজনও নেই। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, এই ঘটনার সার্বক্ষণিক খুঁজখবর আমি নেবো। সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত হোক সেটাই আমি চাই।
এসময় নিহত উজির মিয়ার স্বজনেরা, উপজেলা ও জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
গত বুধবার ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে একটি গরু চুরির মামলার সন্দেহ জনক আসামি হিসেবে নিজ বাড়ি থেকে নিহত উজির মিয়াকে গ্রেপ্তার করে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) আদালত থেকে জামিন পেয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে তিনি। ২১ ফেব্রুয়ারি অসুস্থতা আরও বাড়লে স্থানীয় কৈতক হাসপাতালে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে কর্তব্যরত ডাক্তার ওখানেই তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে নিহত উজির মিয়ার স্বজনসহ স্থানীয় লোকজন পুলিশি নির্যাতনে উজির মিয়ার মৃত্যুর অভিযোগ করে পাগলা বাজারে প্রায় তিন ঘণ্টা সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে। পরে প্রশাসনের সু-বিচারের আশ্বাসে এলাকাবাসী অবরোধ প্রত্যাহার করেন।