- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

অপরিচ্ছন্ন শ্রেণিকক্ষ, খেলার মাঠ- অস্বাস্থ্যকর টয়লেট

সাঈদুর রহমান আসাদ
সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ে সুপেয় খাবার পানির সংকট ও বাথরুমের অবস্থা বেহাল। আঙ্গিনা ও শ্রেণিকক্ষ অপরিষ্কার, অস্বাস্থ্যকর ওয়াশরুম, টেপ কলে নেই পানি। একটিতে পানি আসলেও অপরিষ্কার থাকে সব সময়। শহরের সবচেয়ে ভালো বিদ্যালয়ের এমন পরিবেশে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।
বৃটিশ আমলে তৈরি সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সঙ্গে আবেগ ও ভালোবাসা জড়িয়ে রয়েছে প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের। প্রাক্তণ শিক্ষার্থীদের অনেকের সন্তান পড়াশুনা করেন এই প্রতিষ্ঠানে। তবে সম্প্রতি বিদ্যালয়ের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের খেলার মাঠসহ প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ অপরিষ্কার। মাঠে পড়ে আছে ড্রাই কেকের পরিত্যাক্ত বড় কার্টুন, চানাচুরের প্যাকেট, কাগজ। মাঠের পাশেই নান্না বিরিয়ানীর খালি বক্স, ওয়ানটাইম গ্লাস, পানির বোতল পড়ে আছে।
শ্রেণিকক্ষের একই অবস্থা। প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে ধূলাবালিসহ চানাচুর, বিস্কুটের প্যাকেট ও কাগজ পড়ে আছে। শ্রেণিকক্ষের ভেতর ও বাইরে রয়েছে সবুজ রংয়ের ডাস্টবিন। তবে এসব ডাস্টবিনে ময়লা আবর্জনা ভরপুর হয়ে আছে। বিদ্যালয়ের দুই স্থানে শিক্ষার্থীদের হাতমুখ ধুয়ার জন্যে রয়েছে পানির টেপ। এরমধ্যে এক জায়গার টেপে পানি আসলেও আরেক স্থানে অকেজো হয়ে গেছে। পানি আসে না। বিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারের টেপ দিয়ে পানি আসলেও সে জায়গাটি অপরিষ্কার। পানি জমে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
বিদ্যালয়ে সুপেয় পানির ব্যবস্থা হয়েছিলো ২০১৯ সালে। রোটারি ক্লারের অর্থায়নে নির্মিত দুই স্থানে ৪ টি ফিল্টার মেশিনের উদ্বোধন করেন পৌরসভার মেয়র নাদের বখত। কিছুদিন ভালো চললেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখন সেগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের বাসা থেকে নেয়া বোতলের পানি ও বাইরের কেনা পানির উপর ভরসা করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
এদিকে বেহাল অবস্থা বাথরুমের। শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের দুইটি ওয়াশব্লকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। ময়লা জমে মেঝে সেঁতসেঁতে হয়ে আছে। ওয়াশরুমের সবগুলো বেসিন অকেজো। পানি আসে না।
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা বলছেন, নিয়মিত শ্রেণিকক্ষ ও খেলার মাঠ পরিষ্কার করা হয় না। বাথরুমগুলোর বেহাল দশা। জরুরী প্রয়োজনে নাক চেপে ব্যবহার করতে হয়। বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হতে হয় তাদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, বাথরুম সব সময় নোংরা হয়ে থাকে। আমরা খুব বেশি দরকার না হলে ব্যবহার করি না।
অভিভাবক অ্যাড. মাহবুবুল হাছান শাহীন বললেন, করোনা প্রকোপ কমেছে। দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিলো। এখন বিদ্যালয় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি। আমরা আশা করবো বিদ্যালয় কতৃর্পক্ষ বাথরুম, শ্রেণিকক্ষ নিয়মিত পরিষ্কার রাখবেন।
বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বললেন, বিদ্যালয়ের দুতলা ভবনে কয়েকটি শ্রেণিকক্ষের মেঝের আস্তর ওঠে গেছে। সিলিং ফ্যানের বাতাসে ধুলো উড়ে অস্বাস্থকর পরিবেশ তৈরি হয়।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো ফয়েজুর রহমান বললেন, বিদ্যালয়ের ক্লিনার পদ থাকলেও পদগুলো শূন্য। আমরা ৩ জনকে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দিয়েছি। তাদের বেতন বিদ্যালয়ের ফান্ড থেকে দেয়া হয়। তারা প্রতিদিন বিদ্যালয়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করেন। তবে পুরো বিদ্যালয় পরিস্কার করার জন্য দক্ষ ক্লিনার নিয়োগ দেয়া প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

  • [১]