স্টাফ রিপোর্টার
অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় ৪ জনের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ- ও নগদ টাকা জরিমানা করেছেন সুনামগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত। বুধবার দুপুরে এই রায় দেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাকির হোসেন। বুধবার দুপুরে এই রায় হয়।
সাজাপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন ছাতক উপজেলার দিঘলী চানপুর গ্রামের বাসিন্দা তাজ উদ্দিনের ছেলে রাজন মিয়া, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লালপুর গ্রামের বাসিন্দা মফিকুর ইসলামের ছেলে মনির মিয়া, আব্দুল হাসিমের ছেলে র”বেল মিয়া ও আব্দুছ ছালামের ছেলে শামীম মিয়া।
মাদ্রাসায় যাওয়া আসার সময় সাজাপ্রাপ্ত আসামী রাজন মিয়া এক শিক্ষার্থীকে উত্যক্ত করতেন ও কুপ্রস্তাব দিতেন। বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবারের পক্ষ থেকে ওই কিশোরীকে মাদ্রাসায় যাওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাতেও পিছু ছাড়েনি বখাটে। মেয়েটি রাতে বাথরুম সারতে বাইরে বেরুলে রাজন মিয়া জোরপূর্বক তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় দীর্ঘ তদন্ত শেষে চার্জশীট দাখিল করে পুলিশ। রাষ্ট্রপক্ষ ৫ জন স্বাক্ষীকে আদালতে উপস্থাপন করেন। সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে আদালত ধর্ষক রাজন মিয়াকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ- এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করেন।
অপহরণের দায়ে একই আইনের ৭ ধারায় ১৪ বছরের সশ্রম কারাদ- এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে অতিরিক্ত ছয় মাসের কারাদ- দেন আদালত। জরিমানার টাকা ভিকটিম ক্ষতিপূরণ হিসাবে পাবে।
এদিকে সুনামগঞ্জ সদরের তরুণী একজন শিশু শিল্পী। গানের অনুষ্ঠান শেষ করে বাড়ি ফেরার সময় জোরপূর্বক অপহরণ করে সাজাপ্রাপ্ত আসামী মনির মিয়া, রুবেল মিয়া ও শামীম মিয়া। প্রথম দফায় তরুণীকে গাড়িতে সংঘবদ্ধ হয়ে ধর্ষণ করে তারা। গাড়ির চাকা খারাপ হলে স্থানীয় একটি সেতুর নিচে নিয়ে দ্বিতীয় দফায় ধর্ষণ করে এরা। তরুণীর বাবা-মা পাশের একটি বাজার থেকে তাকে উদ্ধার করেন। এই ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ দীর্ঘ তদন্ত শেষে চার্জশীট দাখিল করে। রাষ্ট্রপক্ষ ৮ জন সাক্ষীকে আদালতে উপস্থাপন করেন। সাক্ষ্য প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত ধর্ষক মনির মিয়া, র”বেল মিয়া ও শামীম মিয়াকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ- এবং এক লক্ষ টাকা করে জরিমানা করেন।
অপহরণের দায়ে একই আইনের ৭ ধারায় প্রত্যেক আসামীর ১৪ বছর করে সশ্রম কারাদ- এবং প্রত্যেকের ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে অতিরিক্ত ৬ মাসের কারাদ- প্রদান করেন আদালত। জরিমানার টাকা ভিকটিম ক্ষতিপূরণ হিসাবে পাবেন।
সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাড. নান্টু রায় বলেন, আমি মনে করি নির্যাতিত নারীরা সঠিক বিচার পেলেন। এরকম বিচার নিশ্চিত হলে সমাজে অপরাধের সংখ্যা কমে যাবে।