- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

অবকাঠামোগত উন্নয়নেই দৃষ্টিনন্দন এলাকা

বিশেষ প্রতিনিধি
এসএসসি পরীক্ষার্থী সাদিয়া, তুলিকা ও মিলন সরকার এই পথ দিয়ে যাবার সময় ক্যাম্পাসে ঢুকে সাত তলা ভবনের নির্মাণ কাজ দাঁড়িয়ে দেখছিল। ক্যাম্পাসের পাশের গ্রাম কাঠইড়ে বাড়ি তাদের। তিনজনেই বললো, বাড়ির পাশের এই ভবনগুলো তাদের স্বপ্নকে অনেক উঁচুতে নিয়ে যাচ্ছে। এই ক্যাম্পাসে পড়াশুনা করতে চায় তারাও। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কাঠইরে হওয়া বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ, সুনামগঞ্জের নির্মণাধীন এই ক্যাম্পাসে গেলে যে কারোরই মন ভালো হয়ে যাবে। প্রায় ১২ শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে এই ক্যাম্পাসের অবকাঠামো নির্মাণ কাজ চলছে। বেশ কয়েকটি ভবনের নির্মাণ কাজ শেষের পথে। হাওরের জেলা সুনামগঞ্জে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে এটিই সর্ববৃহৎ প্রকল্প। এই পথে চলাচলকারী সকলের দৃষ্টি কাড়ছে বিশাল এই কর্মযজ্ঞ। গণপূর্ত বিভাগের দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ, সুনামগঞ্জের ক্যম্পাস ও ৫০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ কাজ যেভাবে হচ্ছে, আগামী ৫০ বছরেও এই ক্যাম্পাসে কোন অবকাঠামো নির্মাণের প্রয়োজন হবে না।
বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ সুনামগঞ্জে পাঠদান শুরু হয়েছে গত পহেলা আগস্ট থেকে। শান্তিগঞ্জ উপজেলা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নবনির্মিত ক্যাম্পাসে এই বিদ্যাপীঠের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পাঠদান শুরু হয়। শুরুতে ৫০ জন শিক্ষার্থীর আসন হয়েছে এই মেডিকেল কলেজে। একইসঙ্গে চলছে এই বিদ্যাপীঠের নিজস্ব ক্যাম্পাসের অবকাঠামো নির্মাণ কাজ।
প্রায় ১২ শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৫ একর জমির উপর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ ও ৫০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। নির্মাণকারী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, একসঙ্গে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ও পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন সিলেট বিভাগে এর আগে হয় নি।
নির্মাণাধীন ভবনের মধ্যে রয়েছে আট তলা হাসপাতাল ভবন। যেখানে ৬৮ হাজার বর্গমিটার স্পেইস (স্থান) রয়েছে। ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল হলেও ৮০০ থেকে ১০০০’এর বেশি রোগী সংকুলান হবে এই ভবনে। বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ সুনামগঞ্জের নয়তলা একাডেমিক ভবনের অর্ধেকেরও বেশি কাজ শেষ। প্রতিবছর ১৫০ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও ওখানে স্থান সংকুলানে সমস্যা হবে না। ছয়তলা স্টাফ নার্সেস ডরমেটরি ভবন, পুরুষ ইমার্জেন্সি স্টাফ ডরমেটরি, মহিলা ইমার্জেন্সি স্টাফ ডরমেটরি, ছয়তলা নার্সিং কলেজের একাডেমি ভবন, আট তলা স্টুডেন্ট নার্স হোস্টেল ভবন, আট তলা ছাত্র হোস্টেল ভবন এবং আট তলা ছাত্রী হোস্টেল ভবন, এই দুই ভবনে ৬৪০ জন শিক্ষার্থী থাকার সিট রয়েছে। পুরুষ ইন্টার্নি ডাক্তারদের ছয়তলা ডরমেটরি, মহিলা ইন্টার্নি ডাক্তারদের ছয়তলা ডরমেটরি, সিঙ্গেল ডাক্তারদের বাসভবনের জন্য দশতলা ভবন, প্রিন্সিপাল ও ডিরেক্টরের ৫ তলা বাসভবন, টিচিং মর্গ তিন তলা ভবন, একতলা ভবনে গ্যারেজ ও পাবলিক টয়লেট, দুই তলা সাবস্টেশন ও জেনারেটর ভবন, গেস্টহাউস ও সিকিউরিটি পোস্ট, তিনতলা জিমনেসিয়াম ভবন, তিনতলা লন্ড্রি ভবন এবং চারতলা মসজিদ ভবনের কাজ চলছে।
সুনামগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আশরাফুল আলম বললেন, ২০১৮ সালের নভেম্বরে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) অনুমোদন হয়েছিল। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। প্রায় ১২শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের কাজ চলছে। একসঙ্গে পূর্ণাঙ্গ একটি মেডিকেল কলেজের অবকাঠামো এখানে তৈরি হচ্ছে। প্রস্তাবিত ভবনের সবগুলোর কাজ একযোগে চলছে। কাজের অগ্রগতি কোন ভবনের কিছু কম, কোনটার বেশি হলেও ২০২৪’ জুন’এর মধ্যে সকল ভবনের কাজ শেষ করে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষকে সমঝে দেবার আশা করছি আমরা। এই প্রকল্পে ১২শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও নির্দেশনা মোতাবেক কাজ শেষ করেও কিছু টাকা ফেরৎ দেওয়া সম্ভব বলে জানান এই প্রকৌশলী।
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি’র নির্বাচনী এলাকার লাগোয়া নির্মাণাধীন এই মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে সুযোগ পেলেই পরিদর্শন করেন তিনি। মন্ত্রী বললেন, সরকার প্রধান বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা হাওরের মানুষকে অনেক বেশি ভালোবাসেন। আমার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিলো হাওরের জনপথ সুনামগঞ্জে উচ্চ শিক্ষার সকল সুযোগ নিশ্চিত করা। আমি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করে অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি নেত্রীকে হাওরের জনপদ সুনামগঞ্জের শিক্ষা-চিকিৎসার দীর্ঘ দুর্ভোগের কথা জানালে, সুনামগঞ্জে একটি আধুনিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণের জন্য যা যা করা প্রয়োজন, সবকিছুই করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। আমি হাওরবাসীর পক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমার চেষ্টা থাকবে, সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষকে তাগাদা দিয়ে দ্রুত এই ক্যাম্পাস প্রস্তুত করার ব্যবস্থা করা। যাতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীগণ স্বাচ্ছন্দে পাঠদান করতে পারেন। ভাটির লাখো লাখো মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতেও ৫০০ শয্যার হাসপাতালটি যেন ভূমিকা রাখে।

  • [১]