বিন্দু তালুকদার
সুনামগঞ্জের বহুল আলোচিত জামালগঞ্জের পলি ভরাটকৃত কানাইখালী নদী খননের উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। বিএডিসি চলতি বছর কানাইখালী নদীর ভরাটকৃত অংশের তিন কিলোমিটার অংশ খনন করবে। ইতোমধ্যে নদী খননের প্রায় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আগামী সপ্তাহেই নদী খননের কাজ শুরু হবে বলে জানা গেছে।
ভরাটকৃত কানাইখালী নদী খননের খবরে খুশির জোয়ারে ভাসছে ফেনারবাঁক ও ভীমখালী ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ। ভরাটকৃত কানাইখালী নদী খননের ফলে প্রায় দেড় যুগ ধরে পানির নিচে থাকা বৃহত্তর পাগনার হাওরের বোরো জমি আবার ভেসে উঠবে ও চাষাবাদ করা যাবে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।
নদী খননের সুফল হিসাবে ফেনারবাঁক ইউনিয়নের রাজাবাজ, উজান দৌলতপুর, ভাটি দৌলতপুর, খুজারগাঁও, তেঘরিয়া, গঙ্গাধরপুর, ছয়হারা, রাজাপুর, কামারগাঁও, ইনাতনগরের একাংশ ও ফেনারবাঁকের একাংশ এবং ভীমখালী ইউনিয়নের রাজাবাজ, ভান্ডা, মল্লিকপুর, হাসনাবাজ গ্রামের কৃষকদের জমি পানির নীচ থেকে ভেসে উঠবে। চাষাবাদ করা যাবে এসব জমি।
একসেভটের দিয়ে ভরাটকৃত ৬/৭ ফুট গভীর করে নদীর উপরিভাবে ৩২/৩৩ ফুট প্রস্ত ও নদীর তলদেশে ১০ফুট প্রস্ত করে খনন করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএডিসির সিলেট অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রণজিৎ কুমার দে। প্রয়োজনে খননের গভীরতা ও প্রস্ত বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বিএডিসি কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে কানাইখালী নদীর ভরাটকৃত অংশে দুইভাবে একসেভেটর দিয়ে (মাটি খননের যন্ত্র) মাটি খনন করবে। দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদার দিয়ে খনন করা হবে ভরাটকৃত নদী। দরপত্রের সব কাজ শেষ হয়েছে। বিএডিসি কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে কাজ শুরু করার জন্য কার্যাদেশ প্রদান করেছে।
উজান দৌলতপুর গ্রামের কৃষক গৌরাঙ্গ সরকার বলেন,‘কানাইখালী নদী ভরাটের ফলে আমাদের তিন পুরুষের চাষাবাদ করা বোরো জমি প্রায় ১৬-১৭ বছর ধরে পানির নিচে ছিল। যদি এই নদী খনন করা হয় তাহলে আবারো ওইসব জমিতে ধান চাষ করা যাবে। এলাকার শত শত কৃষক আবারো নিজেদের জমি চাষাবাদ করার
সুােযগ পাবে।’
ফেনারবাঁক ইউপি চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু তালুকদার বলেন,‘কানাইখালী নদী খননের ফলে এলাকার মানুষ প্রাণ ফিরে পাবে। পানির নিচে থাকা জমি আবারো চাষাবাদ করতে পারবে কৃষকরা।’ কানাইখালী নদী খননের পাশাপাশি ভরাটকৃত গজারিয়া খাল খনন ও বন্ধ থাকা স্লুইস গেইট চালু করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন,‘ শুধু কানাইখালী নদী খনন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। গজারিয়া খাল খনন করলে কৃষকদের একসাথে সব সমস্যারই স্থায়ী সমাধান হবে।’
বিএডিসির সিলেট অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রনজিৎ কুমার দে বলেন, ‘জামালগঞ্জের ফেনারবাঁক ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত ভরাটকৃত কানাইখালী খাল (নদী) খননের জন্য দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে। আমরা আশা করছি আগামী সপ্তাহেই খনন কাজ শুরু করতে পারব।’
স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন,‘ কানাইখালী নদী খনন জামাগঞ্জের ফেনারবাঁক ও ভীমখালী ইউনিয়নের শত শত কৃষকের প্রাণের দাবি। এই নদী ভরাটের ফলে জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে এলাকার অনেক কৃষক জমি থাকার পরও দরিদ্র হয়েছেন। তাই ভরাটকৃত নদী খননের জন্য বিএডিসি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে। বিএডিসি ঠিকাদার নিয়োগ দিয়েছে এখন কাজ শুরু হবে।’ শত শত কৃষকের মুখে হাসি ফুটানোর জন্য এই নদী খননের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, সুরমা নদীর পলি পড়ে ভরাট হয়ে গেছে কানাইখালী নদী। গত প্রায় দেড় যুগ ধরে এলাকার বোরো জমির পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ কানাইখালী ভরাট হয়ে যাওয়ায় শত শত একর জমি অনাবাদী থাকছে। এলাকার কৃষকরা হয়েছেন দরিদ্র।