স্টাফ রিপোর্টার
বিএফএফ সমকালের বিতর্ক উৎসবের সুনামগঞ্জ জেলা পর্যায়ের আয়োজনের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেছেন, চাঁদে সাঈদীকে দেখা গেছে, এরকম অবাস্তব গুজব থেকে জাতিকে রক্ষা করতে বিজ্ঞান মনস্ক করে গড়ে তুলতে হবে আগামী প্রজন্মকে। বিতর্কে যুক্তির চর্চা হয়, যুক্তিবাদী হতে সহায়তা করে, ব্যক্তিত্ব ও সময় জ্ঞান বাড়িয়ে দেয়। এজন্য শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার পাশপাশি বিতর্কসহ অন্যান্য জ্ঞান আহরণ চর্চায়ও যুক্ত থাকতে হবে।
‘বিতর্ক মানেই যুক্তি বিজ্ঞানে মুক্তি’ স্লোগানে ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশব্যাপি শুরু হয়েছে সমকাল-বিএফএফ বিতর্ক উৎসব। শনিবার সকাল ১০ টায় সুনামগঞ্জ জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শুরু হয় সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ে। সূচনাপর্বে প্রত্যেকটি দলের পরিচয় পর্বে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। পরে তিনি প্রথম পর্বের দুটি বিতার্কিক দলের প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন। এসময় তিনি বলেন, কিশোর এই বিতার্কিতদের উপস্থাপনায় আমি মুগ্ধ হয়েছি। বিতর্ক সুন্দরভাবে উপস্থাপনা ও প্রকাশভঙ্গি শেখায়। বিশ^বিদ্যালয়ের বড় বড় ডিগ্রি নিলেও যা অনেক সময় হয়ে ওঠে না। এজন্য প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই চর্চা থাকতে হবে।
সুনামগঞ্জের প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় জামালগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি এসসি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়, সুনামগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, লবজান চৌধুরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, নারায়ণতলা মিশন উচ্চ বিদ্যালয়, দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পাগলা সরকারি মডেল হাইস্কুল এ- কলেজ ও দোয়ারাবাজারের আমবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয় জামালগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, রানার্সআপ হয় সরকারি সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, শ্রেষ্ঠবক্তা নির্বাচিত হয় জামালগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দলের দলনেতা সূচনা তালুকদার।।
চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিরিক্ত জেলা জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও উন্নয়ন) রাশেদ ইকবাল চৌধুরী, শিক্ষাবিদ পরিমল কান্তি দে, ইকবাল কাগজী, সমকালের জেলা প্রতিনিধি পঙ্কজ দে, লেখক ও আইনজীবী এনাম আহমদ এবং সমকাল সুহৃদ সমাবেশের সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুবুল হাসান শাহীন। এই অনুষ্ঠানে সুনামগঞ্জ সরকারি এসসি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক সুভাস চন্দ্র দাস ও জামালগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক চিত্ত রঞ্জন দাস বক্তব্য রাখেন।
তিন পর্বের প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন- সরকারি দিগেন্দ্র বর্মণ কলেজের প্রভাষক মো. মশিউর রহমান, সুনামগঞ্জ বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আবুল হাসান লিপন, সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক অনুপ নারায়ন তালুকদার, আমবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক দীপঙ্কর শর্মা চৌধুরী, নারায়ণতলা মিশন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন এবং সুনামগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মাসুক আহমদ।
দিনভর এই প্রতিযোগিতায় নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন, সমকাল সুহৃদ সমাবেশের সাদিকুর রহমান সনি, অভিজিৎ রায়, সুমন রায়, আব্দুস সালাম মাহবুব, শেখ মঈনুদ্দিন বরাত, নোভা চৌধুরী, আনোয়ার হোসেন, সাব্বির আহমদ, তানভির শাহ্, শুভ তালুকদার, মাহাদী মোহাম্মদ, ইফতেকার সাজ্জাদ পিয়াল, ঝন্টু তালুকদার, তুষার তালুকদার, তুষার ঘোষ, কামরান আহমদ ও কপিল চন্দ্র পাল।