স্টাফ রিপোর্টার
শহরতলীর মইনপুর গ্রামের সুরমা নদীরপাড়ে স্তুপ করে রাখা পাথর উত্তোলনের জন্য বেল্ট স্থাপন করায় নদীর পাড় ভাঙছে, এলাকার পরিবেশও দূষণ হচ্ছে। বেল্ট ও পাথর বহনকারী ট্রলি চলাচলে গ্রামবাসীর যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে। নদী ভাঙন রক্ষায় ও পরিবেশ সুরক্ষায় উদ্যোগ নেবার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মইনপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সুরমা নদীর পাড় ভাঙছে বহুদিন ধরে। ভাঙন অংশেই গত ৫ বছর ধরে সীমান্তের ডলুরা এলাকা থেকে এনে পাথর স্তুপ করে রাখা হয়। পরে বড় বড় বাল্কহেডে পাথর তুলতে নদীর পাড়ে অবৈধ বেল্ট স্থাপন করা হয়েছে। পাথর ব্যবসায়ীদের ব্যবহৃত ট্রলি ও পিকআপের কারণে প্রতিনিয়ত এলাকাবাসীর চলাচল সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। এই পথে চলাচলকারীরা দীর্ঘদিন ধরে এ কারণে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। বড় বড় বাল্কহেড পাড়ে ভিড়ানোয় নদী ভাঙনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ধুলো-বালিতে গ্রামের পরিবেশও দূষণ হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আয়ুব আলী বললেন, মইনপুর গ্রামের ভেতর দিয়ে অবৈধ ট্রলি ও পিকআপ চলাচলের কারণে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। নদীরপাড়ে বেল্ট স্থাপনে নদীর পাড় ভাঙছে।
সরাফত মিয়া বললেন, গ্রামের ভেতরের সড়ক দিয়ে দিনে-রাতে চলছে অবৈধ ট্রলি ও পিকআপ। চলাচল করতেই সমস্যা হচ্ছে।
মইনপুর গ্রামের রউফ মিয়া বললেন, সারা রাত বিকট শব্দে ট্রলি চলায় সড়কের পাশের বাড়িঘরের মানুষ ঘুমোতে পারেন না। গ্রামের পাশে এভাবে পাথর স্তুপ করে রাখা ও ট্রলি চলাচল বন্ধ করতে হবে।
সুনামগঞ্জ পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি এ কে এম আবু নাসার বলেন, নদীর পাড়ে বেল্ট স্থাপন করায় নদীর পাড় ভাঙছে, গ্রামের ভেতর দিয়ে ট্রলি, পিকআপ চলাচলের কারণে পরিবেশ দূষণ সহ সড়কের বিনাস হচ্ছে। এই পাথরও অবৈধভাবে ডলুরা থেকে উত্তোলন করে মইনপুর গ্রামের পাশে এনে স্তুপ করে রেখে ব্যবসা করা হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান শাহরীয়ার বললেন, অবৈধ ট্রলি, নদীর পাড়ে বেল্ট স্থাপন এবং ডলুরা থেকে পাথর উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।