বিশ্বম্ভরপুর প্রতিনিধি
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাগগাঁও, সিরাজপুর ও ঢালারপাড় গ্রামবাসী বাগগাঁও গ্রামের নদীর তীরে পুরাতন যাদুকাটা নদী হতে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন বন্ধ, যাদুকাটা নদীর ভাঙ্গন প্রতিরোধে স্থায়ীভাবে সিসি ব্লক দ্বারা তীর সংরক্ষণ, বাঁধ মেরামতের উদ্যোগ গ্রহণে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকষর্ণের লক্ষে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাগগাঁও রিফ্লেকশন একশন সার্কেলের উদ্যোগে মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষর সংগ্রহে পুরাতন যাদুকাটা নদীর তীরবর্তী গ্রামের সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাগগাঁও, সিরাজপুর ও ঢালারপাড় গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে পুরাতন যাদুকাটা নদীর একটি শাখা নদী। নদীটি জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাদাঘাট (দঃ) দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তে অবস্থিত। এই এলাকার কৃষি উন্নয়নে
সরকারীভাবে মিছাখালী রাবার ড্যাম্প তৈরী হয়েছে। যা এলাকার কৃষক ও কৃষি উন্নয়নে অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। চলতি বছরের বন্যার সময় রাবার ডামের কারণে নদীর পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে নদীর পানি তীর উপচিয়ে সংলগ্ন বাগগাঁও সিরাজপুর গ্রামের বাড়ীঘরের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে ও নদীর তীরে তীব্র ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। বর্তমানে বাগগাঁও, সিরাজপুর, ঢালারপাড় গ্রামের অনেক বাড়ী ভাঙ্গনে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। এলাকাবাসী সর্বশান্ত হচ্ছেন নদী ভাঙ্গনের জন্য। অনতিবিলম্বে নদীর তীর সিসি ব্লক দ্বারা সংরক্ষণ করা না হলে সিরাজপুর, বাগগাঁও, ঢালারপাড় সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের বাড়িঘর নদী গর্ভে চলে যাবে।
এছাড়াও যাদুকাট নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধের বাগগাঁও গ্রামের একটি অংশ বিগত ২০১৫সালের বন্যার ভেঙ্গে গেছে। চলতি বছরের বন্যায় এই নদীর তীর সংরক্ষণ না করায় বাঁধের ভাঙ্গা অংশ দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবাহিত হয়ে প্রায় ১০০ একর ফসলি জমিতে বালি পড়ে ফসল নষ্ট হয়েছে ও ভাঙ্গা অংশের পাশ্ববর্তী স্থানে কয়েকটি বাড়ী ভেঙ্গে গেছে। যাদুকাটা নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধের ভাঙ্গা অংশ মেরামত করা না হলে আগামী বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ী ঢলে বাগগাঁও, সিরাজপুর, ঢালারপাড় সহ কয়েকটি গ্রামের ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাবে।
এদিকে শুকনো মৌসুমে কতিপয় ব্যক্তি পুরাতন যাদুকাটা নদী হতে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের ফলে নদীর তীরে তীব্র ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।