২৮ ডিসেম্বর বুধবার অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নূরুল হুদা মুকুট বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রথম চেয়ারম্যান হওয়ার ইতিহাস তৈরি করলেন তিনি। দীর্ঘদিনের আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের অধিকারী মুকুট নির্বাচনী লড়াইয়ে চমকপ্রদ ফলাফল দেখিয়ে নিজের ক্যারিসমার প্রকাশ ঘটিয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন জেলা আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে দলটির ভিত্তি শক্তিশালীকরণে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তাঁকে অভিনন্দন, শুভেচ্ছা। একই সাথে সংরক্ষিত আসন থেকে পাঁচ মহিলা সদস্য ও ১৫ টি সাধারণ আসন থেকে ১৫ জন সদস্যও এই নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁরাও স্ব স্ব অধিক্ষেত্রের প্রতিভাবান ব্যক্তিত্ব। তাঁদেরকেও আমরা অভিনন্দন জানাই।
বিভিন্ন পর্যায়ের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ১২১৫ জন নির্বাচকমন্ডলীর ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ। সুষ্ঠু, অবাধ ও শাšিতপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে নিজেদের বিবেকের টানে তাঁরা যে ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করলেন সেটিও জেলা পরিষদ নির্বাচনের ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে। তাই নির্বাচকম-লীকেও আমরা অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাই।
বিশেষ করে নির্বাচন কমিশন, সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ। কারণ তাঁরা একটি সুন্দর নির্বাচন জাতিকে উপহার দিয়েছেন। সরকারি প্রশাসনযন্ত্র সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দাািয়ত্ব পালন করেছেন। সামনের জাতীয় নির্বাচনগুলো নিয়ে জনআগ্রহকে এই নির্বাচন নিশ্চিতভাবেই ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করবে।
স্থানীয় সরকারের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হলো জেলা পরিষদ। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার প্রত্যক্ষ ভোটে না হোক পরোক্ষ ভোটেও যে এই জায়গায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করলেন তা দেশের গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে আরও মজবুত করে তুলবে বলেই আমাদের বিশ্বাস। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণের দায়বদ্ধতা থাকে জনগণের প্রতি। ওই দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে তাঁদেরকে জনমুখী ভূমিকায় অগ্রণী অবস্থানে থাকতে বাধ্য করে। এই জেলা পরিষদ সামনের দিনগুলোতে উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদগুলোর সাথে আরেকটি উচ্চতর প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্থানীয় উন্নয়নে প্রত্যাশিত দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হবে, দেশের মানুষের এইটি বিশ্বাস। যেকোন প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব ও অপরিহার্যতা প্রমাণিত হয় ওই প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতার উপর। জেলা পরিষদকে সক্ষম প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে সরকারের রয়েছে বিশাল ভূমিকা। আমরা আশা করব অপরাপর স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে জেলা পরিষদের সম্পর্ক নির্ধারণ ও সমন্বয়ের বিষয়টি সরকার নিকট ভবিষ্যতে আরও স্পষ্ট করবেন।
যারা বিজয়ী হয়েছেন এবং যারা বিজয়ী হতে পারেন নি তাঁদের সকলেই একটি ঐতিহাসিক কর্মযজ্ঞের অংশ হয়ে রইলেন। প্রতিদ্বন্দ্বি সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলেই আমরা পাচ্ছি একটি নির্বাচিত পরিষদ। সুতরাং এখানে জয়-পরাজয় সবকিছু পিছনে ফেলে আমরা শুধুই আশাবাদী হতে চাই। জয়ের উচ্ছাস যাতে পরিবেশকে বিঘিœত না করে সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব বিজয়ীদের। জনগণ যাবতীয় জয়-পরাজয়ের নির্ণায়ক শক্তি। সুতরাং জয় কিংবা পরাজয় কোনটাই চিরন্তন নয়। এই অনিশ্চয়তাটুকুই জনপ্রতিনিধিদের সর্বদা গণস্বার্থের অনুকূলে রাখতে সাহায্য করে। জনগণের কাছে নিজেদের মর্যাদার আসন চিরস্থায়ী করতে প্রকৃত জনপ্রতিনিধিরা সর্বদাই নিজেদের পরীক্ষার মধ্যে রাখেন। আমাদের কামনা বিজয়ী জেলা পরিষদ জনগণের পরীক্ষায় ভবিষ্যতে আরও উদ্ভাসিত হবেন। এই প্রত্যাশায় বিজয়ী চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দকে আবারও শুভকামনা। আপনাদের নতুন জনপ্রতিনিধিত্বকাল কুসুমাস্তীর্ণ হোক, জনআশীর্বাদে আপনারা আরও মহিমান্বিত হোন এই কামনাই করি আমরা।