- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

অভিনন্দন সুনামগঞ্জের খবর

মরতুজা আহমদ
তথ্য সচিব ও সুনামগঞ্জের কৃতী সন্তান মরতুজা আহমদ দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের ৫ম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। মন্ত্রণালয়ের বিশেষ কাজ থাকায় তিনি আসতে পারেন নি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রধান অতিথি বিশেষ অতিথি ও সুধীজনদের উদ্দেশ্যে লিখিত বক্তব্য পাঠিয়েছেন তিনি। অনুষ্ঠানে তাঁর এই বক্তব্য পড়ে শুনান দৈনিক প্রথম আলোর সুনামগঞ্জ অফিস প্রধান অ্যাড. খলিল রহমান। তথ্য সচিবের বক্তব্য নীচে হুবহু তুলে ধরা হলো-
মাননীয় অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জনাব এম.এ. মান্নান
সম্মানিত চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন ড. মোহাম্মদ সাদিক
প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সম্মানিত সদস্যগণ।
সুধিমন্ডলী,
আমার সশ্রদ্ধ সালাম ও শুভেচ্ছা গ্রহণ করুন।
অনিবার্য কারণে আপনাদের সামনে উপস্থিত হতে না পারার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
সুধীমন্ডলী,
দৈনিক ‘সুনামগঞ্জের খবর’ সুনামের সাথেই ৫ বছর পূরণ করেছে। আজ ৬ষ্ঠ বছরে পদার্পনের শুভদিন। অভিনন্দন, ‘সুনামগঞ্জের খবর’। বিগত পাঁচ বছর সুনামগঞ্জের সমস্যা, সম্ভাবনা, জনমানুষের কথা, এ জনপদের আর্থসামাজিক অবস্থার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে পত্রিকাটি নিরলস পরিশ্রম করেছে। পেশাদারিত্ব বজায় রেখে মাটি ও মানুষের কথা বলার চেষ্টা করেছে। আমি বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতে এ ধারা অব্যাহত থাকবে যদিও ভবিষ্যতে ভার চূড়ান্তভাবে পাঠককূলের
আমাদের দেশে গণমাধ্যম বলতে এক সময়েছিল শুধু প্রিন্ট মিডিয়া, যার ইতিহাস মূলত দু’শ বছরের। ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় যদি শুধু বেতারের কথা ধরি, একশ বছর ধরে তা এদেশে চলছে। টেলিভিশনের শুরু গত শতকের মধ্য থেকে,  আর এরই মধ্যে যুক্ত হয়ে গেছে ঙহষরহব সবফরধ, পত্রিকা, রেডিও, টিভি। তাছাড়া, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে নামীয় গণমাধ্যমের বিশাল এক জগৎ। সে বিবেচনায় সুনামগঞ্জে গণমাধ্যমের উত্থান ও বিকাশ তত পুষ্ট নহে।  দৈনিক ‘সুনামগঞ্জের  খবর’ পত্রিকার প্রকাশের সময় মামলায় জর্জরিত ছিল। আমাদের চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় পত্রিকাটি আলোর মুখ দেখে। পার্শ্ববর্তী জেলা সমূহে যেখানে অনেক দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে সেখানে সুনামগঞ্জ থেকে প্রকাশিত দৈনিকের সংখ্যা মাত্র ৪টি এবং কোন সাপ্তাহিক বা মাসিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়না। আমাদের দেশে গত কয়েক বছরে গণমাধ্যমের ব্যাপক উৎকর্ষ সাধিত হয়েছে। দেশে বর্তমানে দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক এবং বাৎসরিক মিলে ২৮৫৫ টি পত্রিকা, ৩টি সরকারি টেলিভিশন, ৪১টি বেসরকারি চ্যানেল, ২৮টি ঋগ বেতার, ৩২টি কমিউনিটি রেডিও কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ঙহষরহব পত্রিকা শত শত, মন্ত্রণালয়ে তালিকাভূক্ত হয়েছে ১৮০০ এর বেশি।
গণমাধ্যমের বিকাশের সাথে উন্নয়নের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। ইতিহাসের গতিধারাতে আমরা দেখি, দেশের সার্বিক উন্নয়নে, বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের উন্নয়নে গণমাধ্যম এক নিরন্তর ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। ১৯৭০ সালে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ে ১০ লাখ মানুষ মারা যাওয়ার খবর তিনদিন পর গণমাধ্যমের কল্যাণে দেশবাসী জানতে পেরেছিল। এরপর ঘটে যাওয়া সিডর, আইলা, মহাসেন কিংবা নার্গিসের সময় গণমাধ্যমই প্রাক-দূর্যোগ, দূর্যোগ কালীন এবং দূর্যোগ পরবর্তী সময়ে সরকারের সাথে দূর্যোগে আক্রান্ত মানুষের সংযোগ স্থাপনে অসামান্য ভূমিকা পালন করেছে।
অতিসম্প্রতি ঘটে যাওয়া বন্যার কারণে মানুষের দুর্দশার যে চিত্র ফুটে উঠেছে বিশেষত: সুনামগঞ্জসহ হাওড় অঞ্চলে অকালে ভষধংয ভষড়ড়ফ এ ফসল বিনষ্টের করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে তার কৃতিত্বের দাবিদার গণমাধ্যম। গণমাধ্যমে সময়েচিত প্রচারিত সংবাদের উপর ভিত্তি করেই সরকার দ্রুতততম সময়ে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। তবে গণমাধ্যমের আরো অনেক কাজ করার অবকাশ রয়েছে। বিশেষত: প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ অনুসন্ধান, সমস্যার সফল ও স্থায়ী সমাধান চিহ্নিতকরণে স্থানীয় জনগণের অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান সংগ্রহ করে দূর্যোগের স্থায়ী সমাধানে গণমাধ্যম সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইলেকট্রনিক মিডিয়া তাদের বহুল বিস্তৃত জেলা-উপজেলায় কর্মরত গণমাধ্যমকর্মী দ্বারা প্রতিনিয়ত দেশের সকল প্রান্তের হালনাগাদ সংবাদ পরিবেশন করছেন যা উন্নয়নকে গতিশীল করেছে। তাছাড়া উন্নয়ন ধারায় জনসম্পৃক্ততা আনয়নে বাংলাদেশের কমিউনিটি রেডিওগুলোর অর্জন ইতোমধ্যে সকল মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় যে সুনামগঞ্জের ভাটি অঞ্চলের উন্নয়নে রেডিও ভাটি-বাংলা নামে একটি কমিউনিটির অনুমোদনের প্রায় দু’বছরেও কার্যক্রম শুরু করেনি যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক. প্রশাসনকে এ বিষয়ে আরো মনোযোগী হতে হবে, প্রয়োজনে নূতন আবেদন ও উদ্যোগ নিতে হবে, তথ্য মন্ত্রণালয় এ ক্ষেত্রে সুনামগঞ্জের স্বার্থে সহযোগিতার হাত  নিয়ে সদা প্রস্তুত রয়েছে। তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিশেষ বিবেচনায় ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনকে ঙহষরহব ৎধফরড় রেডিও সুনামগঞ্জ দিয়েছে এর মাধ্যমে উন্নয়নের বার্তা সুনামগঞ্জবাসীকে দ্রুত ও সহজেই পৌঁছে দেয়ার সুযোগ হয়েছে। মূলত: এ কারণে ও আরো কয়েকটি উদ্যোগের জন্য অতি সম্প্রতি সুনামগঞ্জের প্রাক্তন জেলা প্রশাসক চঁনষরপ ঝবৎারপব অধিৎফ এ ভূষিত হয়েছেন। এ ঙহষরহব ৎধফরড় -কে আরো বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে। এখনতো প্রত্যন্ত গ্রামে বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ছড়িয়ে গেছে। সে প্রেক্ষাপটে ‘রেডিও সুনামগঞ্জ’ এর ঘবঃড়িৎশ  কিভাবে আরও সম্প্রসারিত করা যায় সে জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
বাংলাদেশের মতো দেশকে বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যেতে হচ্ছে, এই এগিয়ে যাওয়ায় প্রত্যন্ত জনপদগুলোকে সমানভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এ সংগ্রামে দৃঢ় এক কার্যকর সহায়ক শক্তি হচ্ছে আমাদের গণমাধ্যম। একে অনুসমর্থন ও কার্যকর সহযোগিতা দান করা আমাদের নাগরিক দায়িত্ব। স্বাধীন গণমাধ্যমের সঙ্গে প্রত্যন্ত জনপদের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, উন্নত শিক্ষা, উন্নত সামাজিক সেবার প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে।
প্রিয় সুনামগঞ্জ বাসী,
আপনারা জেনে খুশি হবেন তথ্য মন্ত্রণালয় দেশের সকল জেলায় তথ্য কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রথম পর্যায়ে সকল বৃহত্তর জেলায় জুলাই ২০১৭ থেকে জুন ২০২০ সময়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। সুনামগঞ্জ বৃহত্তর জেলা না হলেও বিশেষ বিবেচনায় এখানে তথ্য কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এজন্য স্থানও চিহ্নিত করা হয়েছে। এ কমপ্লেক্সটি শুধু একটা চযুংরপধষ রহভৎধংঃৎঁপঃঁৎব নয়, বরং এটি হবে সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড প্রচার, সমন্বয়, উরংংবসরহধঃরড়হ, পরিচালনা ও বাস্তবায়নের জন্য ওঈঞ নির্ভর রহভড়ৎসধঃরড়হ যঁন যেখানে ফরমরঃধষ সঁষঃরঢ়ঁৎঢ়ড়ংব অঁফরঃড়ৎরঁস ও সিনেমা হল স্থাপন করা হবে। এটি হবে গণমাধ্যমের একটি চারণভূমি। এ কমপ্লেক্স স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিসহ সকল শ্রেণী পেশার লোক নিয়ে সভা, সেমিনার-সিম্পোজিয়াম, চলচ্চিত্র প্রদর্শন এবং সঙ্গীতানুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে শিক্ষিত, উদ্বুদ্ধ, সচেতন এবং সম্পৃক্তকরণে অবদান রাখবে। জনগণকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প, বাণিজ্য, সামাজিক ও অর্থনৈতিকসহ সামগ্রিক তথ্যসেবা প্রদানের মাধ্যমে এটি সুনামগঞ্জের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য একটি কর্মমুখর কেন্দ্রে পরিণত হবে এবং সরকারের গৃহীত উন্নয়ন কর্মকান্ডের ব্যাপক প্রচারের বিষয়টি অত্যন্ত সহজ ও সুচারুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। সরকার কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম জনগণের কাছে বিশেষ করে, সমাজের পিছিয়ে পড়া এবং প্রান্তিক জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়া সহজতর হবে। এ কথা অনস্বীকার্য, সুষম এবং অন্তর্ভুক্তমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে সমাজের সকল আয় ও শ্রেণী-পেশার মানুষকে উন্নয়নের মুলস্রোতে নিয়ে আসতে হবে। এছাড়া, সমাজের সব ধরণের বৈষম্য দূর না করতে পারলে আমাদের রূপকল্প-২০২১, রূপকল্প-২০৪১ কিংবা ২০৩০ সালে এসডিজি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। বর্তমান বিশ্বের ঊপড়হড়সরপ গড়ফব ড়ভ চৎড়ফঁপঃরড়হ বিবেচনায় সমাজে বৈষম্য থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। আর আমাদের সুনামগঞ্জ তথা সিলেট অঞ্চলের বৈষম্য অনেকাংশেই চোখে পড়ার মতো। গণমাধ্যম যদি প্রকৃত চিত্র আমাদের সামনে তুলে না ধরে তাহলে এ বৈষম্য দূর করাও কঠিন হবে।
প্রিয় গণমাধ্যম কর্মীবৃন্দ,
এ জনপদে গণমাধ্যমের কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে। বিশেষকরে নৌকাডুবি, বজ্রপাত, সাপে কাটা, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্থরে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি, নারী শিক্ষায় বহৎড়ষসবহঃ বাড়ানো, শিশু শ্রম রোধ, হাওড় এলাকার জন্য ংঢ়বপরধষ বসঢ়যধংরং দিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ডধঃবৎ ইঁং ংুংঃবস চালুসহ নানাবিধ ব্যবস্থা গ্রহণ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় অপ্রতুলতা, চাহিদার তুলনায় ডাক্তারের অভাব, মাতৃমৃত্যু হ্রাসে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ, ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুযোর্গ, ভষধংয ভষড়ড়ফ, ফসল হানি, বাধ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা, বিশুদ্ধ পানি, ংধহরঃধঃরড়হ, কৃষি, মৎস্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে পশ্চাৎপদতা, বাজারজাতকরণের সমস্যা, জীব বৈচিত্র সংরক্ষণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অপ্রতুলতা ইত্যাদি বিষয়ে সেমিনার, গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশসহ সম্পাদকীয় প্রকাশ করা খুবই জরুরি।
উপস্থিত সুধীমন্ডলী,
প্রাকৃতিক রূপবৈচিত্রের অপূর্ব লীলাভূমি সুনামগঞ্জ। ভৌগলিক পরিবেশের স্বতন্ত্র আর ঋতুভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকান্ড নিয়ে এ অঞ্চল বাউল গান আর লোগসংগীতের বিভিন্ন স্বতন্ত্রধারা প্রতিষ্ঠার এক অনন্য ঝপযড়ড়ষ ড়ভ ঞযড়ঁমযঃ হিসেবে আর্বিভূত হয়েছে। দেশবরেণ্য অসংখ্য আউল বাউলের জন্মভূমি হচ্ছে এ অঞ্চল। এ জনপদের জন্মগ্রহণ করেছেন মরমী কবি হাসন রাজা, শাহ আব্দুল করিম, রাধারমণ দত্ত, সৈয়দ শাহনুর, সৈয়দ হোসেন আলম, দূরবীণ শাহ, কালাশাহ, ছাবাল শাহ, এলাহী বক্স মুন্সী, শাহ আছদ আলী, পীর মজির উদ্দিন, আফজল শাহ শীতালং শাহ, আরকুম শাহ এবং আরো অনেকে। তাঁদের সৃষ্ট বাউল গান, সারি গান, জারি গান, বিয়ের গান, মালজোড়া বা কবি গান, ভাটিয়ালী গান, ঘেটু গান, কীর্তন, গাজীর গান, ধামাইল আমাদের এ অঞ্চলকে এক বিশেষ উচ্চতায় আসীন করেছে। সুনামগঞ্জের যে অপার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও শক্তি রয়েছে তাকে বিকশিত করে দেশের গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক  পরিমন্ডলে বিস্তৃত করার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
সে বাস্তবতায় এ জনপদের মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না মিশ্রত যে জানা-অজানা অনুভূতি তা প্রচার ও প্রকাশ করার জন্য তথ্য মন্ত্রণালয় নিবিড়ভাবে কাজ করছে। এখানে একটি এফএম বেতার স্টেশন স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আপনাদের আন্তরিক সহযোগিতা একান্ত কাম্য। যদি আমাদের এলাকার সম্ভাবনার কথা বলি তাহলে বলতে হবে আমাদের অনেক সম্পদ আছে। আছে ঞড়ঁৎরংস, ঊপড়-ঃড়ঁৎঃরংস, ঋরংযবৎরবং, চড়ঢ়ঁষঃৎু, জরপব ধহফ ড়ঃযবৎ ৎবংড়ঁৎপবং কে ঘিরে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ।
সার্বিকভাবে, এ জনপদের মানুষকে সচেতন করার জন্য এসব বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করতে হবে যাতে জনগণ তার কাঙ্খিত জীবনযাত্রার মান উপভোগ করতে পারে। এ সকল বিষয়ে সেমিনার, গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশসহ সম্পাদকীয় প্রকাশ করা খুবই জরুরি। গণমাধ্যম হিসেবে একটি পত্রিকা সর্বসাধারণের দৈনিন্দিন খবর পরিবেশনের পাশাপাশি আমাদের এগিয়ে যাওয়ার খবরকেও গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করতে হবে। বিশেষকরে, আমাদের জনপদের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশেষ উদ্যোগ বাস্তবায়ন, জঙ্গিবাদ, নাশকতা ও সন্ত্রাস দূরীকরণ, বাংলাদেশের উন্নয়নের চিত্র, সাফল্য মানুষকে জানানো খুবই দরকার।
পরিশেষে নৈসর্গিক সৌন্দর্য, জীববৈচিত্র ও প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপর এ জনপদ যেন আমাদের আচরণে গণমানুষের জন্য অভিশাপ না হয়ে আশীর্বাদরূপে ধরা দেয় সেজন্য গণমাধ্যম মধঃব কববঢ়বৎ হিসেবে থাকবে অবিচল। সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে সদা থাকবে দায়িত্বশীল।
আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।
সুনামগঞ্জের খবর দীর্ঘায়ু হোক।
বাংলাদেশ চিরজীবি হোক।

  • [১]