বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের ১১ টি হাসপাতাল ও ডায়গনস্টিক সেন্টারকে অনুমোদন না থাকায় এবং কোন কোনটির অনুমোদন হালনাগাদ না করায় কর্তৃপক্ষ বন্ধ করে দিয়েছেন। এরমধ্যে সুনামগঞ্জ সদরে ৩, দোয়ারাবাজার ৪, ধর্মপাশা ১, দিরাইয়ে ১ ও ছাতকে ২ টি ডায়গনস্টিক সেন্টার বন্ধ করা হয়েছে। সোমবার জেলার ১১ উপজেলায় কাগজপত্র ছাড়া গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
বন্ধ হওয়া হাসপাতাল ও ডায়গনস্টিক সেন্টারের মধ্যে কেবল সুনামগঞ্জ শহরের নবীনগর এলাকায় গড়ে ওঠা খন্দোকার আলকাছ আমিনা হাসপাতাল এক বছর আগে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে। সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের সামনের সেবা ডায়গনস্টিক সেন্টার ২০১৯-২০ সালে নিবন্ধন করলেও এই বছর আবেদনের নবায়ন করে নি। অন্যগুলো কোন কাগজপত্র ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে ‘তামাসা’ করে আসছিল।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, সুনামগঞ্জে ৭৬ টি ডায়াগনিস্ট সেন্টার রয়েছে। এগুলোর মধ্যে নয়টির কোন কাগজপত্র নেই।
এগুলো হচ্ছে, সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘরের এএসপি মাসুম ডায়গনস্টিক সেন্টার, দোয়ারাবাজারের দোহালি বাজারের এসএম ডিজিটাল ডায়গনস্টিক সেন্টার, এই উপজেলার চক বাজারের অলিউল্লা ডায়গনস্টিক সেন্টার, দোয়ারাবাজার উপজেলা সদরের হাসপাতাল রোডের লাইফ এইড ডায়গনস্টিক সেন্টার, ছাতকের সুরমা ডায়গনস্টিক সেন্টার ও ভীষণ ডায়গনস্টিক সেন্টার, তাহিরপুরের লাউড়েরগড়ের জনস্বাস্থ্য ডায়গনস্টির সেন্টার ও ধর্মপাশার জননী ডায়গনস্টিক সেন্টার।
স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া ৭৬ ডায়গনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালের তালিকার বাইরেও কিছু ডায়াগনস্টিক সেন্টার’এর খোঁজ পাওয়া গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সেবার চেয়ে ব্যবসায় নজর বেশি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তালিকার বাইরের ডিজিটাল ডায়গনস্টিক সেন্টারের মধ্যে বিশ^ম্ভরপুরের পলাশ বাজার ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও আলকাছ আলী ডেন্টাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার, জগন্নাথপুরে আলমগীর ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও তাহিরপুরে মেডিপ্লাস মেডিকেল সার্ভিসেস সেন্টার’ নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম স্বাস্থ্য বিভাগের তালিকায় নেই।
এই প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালকদের মধ্যে অনেকে স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী থাকায় স্বাস্থ্যবিভাগ থেকেও এগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার উদ্যোগ নেয় না।
তাহিরপুরে মেডিপ্লাস মেডিকেল সার্ভিসেস সেন্টার’এর পরিচালক উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আবুল বাশার বললেন, আমার প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধনের আবেদন করা আছে, ফিও জমা দেওয়া আছে, নিবন্ধন সনদ এখনো পাই নি।
গত ২৫ মে ‘অবৈধ’ অর্থাৎ অনিবন্ধিত ও নবায়নবিহীন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধে ৭২ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বেঁধে দেওয়া সেই সময় শেষ হয়েছে রবিবার (২৯ মে)। এর মধ্যেও যেসব অবৈধ বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করা হয় নি, সেসবের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে অধিদপ্তর।
নীতিমালা অনুযায়ী কোনো নতুন প্রতিষ্ঠান করবার আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অনুমতির জন্য আবেদন করতে হয়। পরে অধিদপ্তর থেকে মাঠ পর্যায়ে যাচাই বাচাইয়ের জন্য সিভিল সার্জনকে দায়িত্ব দেয়া হয়। সিভিল সার্জন প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী সবকিছু ঠিক পেলে অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করবেন। এভাবেই একটি প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে অনুমোদন পায়।
সিভিল সার্জন অফিসের সিনিয়র মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) রুকন উদ্দিন মোল্লা বললেন, নিবন্ধন নেই যেসকল প্রতিষ্ঠানের তাদের মধ্যে কেউ কেউ আবেদন করেছেন। তাদের ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা হাসপাতাল এতোদিন চালুও ছিল। কিন্তু ২৫ মে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, আবেদন হলেই হবে না, যারা নিবন্ধিত হয় নি, তারা নিবন্ধন পাবার আগে পর্যন্ত কার্যক্রম চালাতে পারবে না।
জেলা বিএমএ’র সভাপতি ডা. আব্দুল হাকিম বললেন, নতুন হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়গনস্টিক সেন্টার চালু করার আগে স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে অনলাইনে আবেদন করতে হয়। সে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে যাচাই বাচাই করার জন্য সিভিল সার্জনকে দায়িত্ব দেয়া হয়। সিভিল সার্জন যাচাই বাছাই করে সুপারিশ করলে অনুমোদন দেয় স্বাস্থ্য বিভাগ। কিন্তু সুনামগঞ্জের অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেগুলোতে এই নিয়ম মানা হয় নি।
তিনি বললেন, অবৈধ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান থেকে সেবাগ্রহীতারা ভোগান্তির শিকার হন, সরকারও রাজস্ব হারায়।
সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. আহম্মদ হোসেন বললেন, নিবন্ধনহীন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। সোমবার সুনামগঞ্জের ১১ টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে, আরও অভিযান চলবে।