- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

অরক্ষিত কইজোড়া ক্লোজার, ঝুঁকিতে ৪০০ হেক্টর জমির ফসল

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
এখনো অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে ধর্মপাশা উপজেলার কাইল্যানী হাওরের কইজোড়া ক্লোজার। এই ক্লোজারের মাটি ধসে গিয়ে বড় রকমের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে পানির সামান্য চাপে কাইল্যানী হাওরের একটি অংশের ৪০০ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে যেতে পারে। বুধবার দুপুরে উপজেলা কাবিটা বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির কৃষক প্রতিনিধি মোবারক হোসেন ওই ক্লোজার পরিদর্শন করে ক্লোজারটিতে কাজ না করার সত্যতা পান এবং তিনি তার ফেসবুকে ভাঙা ক্লোজারের ছবি আপলোড করেন। এদিকে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতি আলাল মিয়া দাবি করেছেন তারা ক্লোজারের কাজ ভালোভাবেই করেছেন। এ কমিটির আরেক সদস্য ধ্রুব নামের একজন জানান এ কাজটি তার। তিনি দাবি করেছেন কইজোড়া ক্লোজারটি তার বাঁধের অন্তর্ভুক্ত নয়।
কাইল্যানী হাওর উপ-প্রকল্পে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধীনে ১৩ নম্বর প্রকল্পে ১.৭৮০ কিলোমিটার কাজের জন্য ১৭ লাখ ১০ হাজার ৮৯৬ টাকা টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ কাজের জন্য পিআইসিতে আলাল মিয়াকে সভাপতি ও মনিরুল ইসলামকে সদস্য সচিব নিযুক্ত করা হয়। কিন্তু কইজোড়া ক্লোজারটি এ বাঁধের মধ্যে থাকলেও কাজ করা হয়নি। এদিকে আলাল মিয়া জানিয়েছেন, এ কাজটি ধ্রুব’র মাধ্যমে পেয়েছেন তারা। কিন্তু ধ্রুব কীভাবে এ কাজ পেয়েছেন সে সম্পর্কে জানতে চাইলে তার উত্তর না দিয়ে প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান।
১৩ নম্বর প্রকল্পের সভাপতি আলাল মিয়া বলেন, ‘কাজে যা ধরা ছিল তা করা হয়েছে। কোনো কাজ অপূর্ণ রাখিনি। যদি আরও কোনো কাজ করতে হয় তাহলে তা করবো। এতে কোনো সমস্যা নেই। পুরাতন বাঁধ কেটে হাওরে পানি ছাড়া হয়েছিল। তাই এখানে মাটি ফেলার মতো কোনো অবস্থা ছিলনা।’
এদিকে ধ্রুব বলেন, ‘কইজোড়া ক্লোজারটি আমাদের বাঁধের মধ্যে পড়েনি। পাউবোর পক্ষ থেকে আমাকে কইজোড়া ক্লোজারে কাজ করতে বলা হয়েছে। কাজ শেষ করে ছবি নিয়ে গেলে এ কাজের জন্য আমাকে বিল দেওয়া হবে বলা হয়েছে। বাঁধের কাজের জন্য আমাদের মাত্র ৫২% বিল পরিশোধ করা হয়েছে। কাজ করে সাড়ে তিন লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত। এখন কাজের জন্য যেভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে তাতে বাপের ভিটা বিক্রি করে হলেও কাজ করতে হবে।’
ধ্রুব নিজেকে কখনও সভাপতি দাবি করেনি এমনটি জানিয়ে উপজেলা কাবিটা বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির কৃষক প্রতিনিধি মোবারক হোসেন বলেন, ‘হাওরে পুরো পানি এদিক দিয়ে নামে। তবুও এখানে কোনো কাজ করা হয়নি। আজ (বুধবার) স্থানীরা কিছুটা কাজ করেছে। পিআইসির লোকজনের সাথে কথা বলেছি। তারা বলে কাজ করেছি, আবার বলে কাজ করবো। কিন্তু কোনো স্পষ্ট কথা বলে না। অতিদ্রুত এখানে কাজ না করা হলে বিপদ হতে পারে।’
ধর্মপাশা উপজেলার দায়িত্বে থাকা সুনামগঞ্জ পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইমরান হোসেন বলেন, ‘ক্লোজারের কাজ হয়েছে। কবের ছবি সেটা দেখতে হবে। তারপরও আমি আগে কনফার্ম হয়ে নেই।’

  • [১]