দেশের বাজারে কোনো ধাতব মুদ্রাই প্রচলন অযোগ্য ঘোষণা করেনি বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু সঠিক ব্যবস্থাপনা ও পদক্ষেপের অভাবে ব্যাংক, বড়-ছোট ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ— সবাইকে ধাতব মুদ্রা নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির ফলে বেশ আগেই অনেক মুদ্রা অচল হয়ে গেছে। বাজারে এখন শুধু দেখা মেলে ১, ২ ও ৫ টাকার মুদ্রা। কিন্তু যে হারে মুদ্রা নিয়ে বিড়ম্বনা বাড়ছে, তাতে অচিরেই এগুলোও হারিয়ে যেতে পারে। স্থান সংকুলান না হওয়াসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে তফসিলি ব্যাংকগুলো মুদ্রা নিতে চায় না। এতে গ্রাহকদের বিপাকে পড়তে হয়। কিন্তু এ ধরনের কোনো সমস্যা থাকলে তা ব্যাংক কর্তৃপক্ষকেই ঠিক করা উচিত। ব্যাংকগুলো কয়েন জমা নিচ্ছে না, এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ধাতব মুদ্রা গ্রহণের জন্য কয়েকবার নির্দেশনা দিয়েছে। ব্যাংকগুলোকে অবশ্যই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা মানতে হবে। ব্যাংকের অনাগ্রহের কারণে বড় ব্যবসায়ীরাও ধাতব মুদ্রা নিতে চান না। তাই এখন বেশির ভাগ ধাতব মুদ্রা ব্যবহার করেন ছোট দোকানিরা। কিন্তু বহনের অসুবিধার কারণে গ্রাহকদের নিতে না চাওয়ার কারণে ছোট দোকানিরাও ধাতব মুদ্রার ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছেন। এতে ব্যবসায়ীদের অনেক সময় বস্তাবন্দি করে ফেলে রাখতে হচ্ছে ধাতব মুদ্রা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখনো ধাতব মুদ্রার ব্যবহার প্রচলিত এবং গ্রাহকরা অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে তা ব্যবহার করেন। তাহলে আমাদের ব্যবহার করতে বাধা কোথায়? এদিকে বাজারে প্রচলন কমে যাওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে মাত্রাতিরিক্ত ধাতব মুদ্রা জমে আছে। এসব মুদ্রা রক্ষণাবেক্ষণে হিমশিম খেতে হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে। ধাতব মুদ্রার উল্লেখযোগ্য অংশ বিভিন্ন ব্যাংকের ভল্ট ও খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছেও জমা হয়ে আছে। তবে কি এ মুদ্রাগুলো ব্যবহার করা হবে না? এভাবেই পড়ে থাকবে বিপুল পরিমাণ অর্থ? এমতাবস্থায় অর্থনীতিতে ধাতব মুদ্রা ব্যবহারের ওপর জোর দেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। এক্ষেত্রে ভগ্নাংশে পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করা যেতে পারে। যেমন একটি পণ্যের দাম ১০ টাকা ৫০ পয়সা ধরা হলে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই ধাতব মুদ্রা ব্যবহারে বাধ্য হবে। বিশ্বের অনেক দেশেই এটা করা হয়ে থাকে। এভাবে অর্থনীতিতে ধাতব মুদ্রার মূল্য তৈরি হবে। অন্যদিকে যেসব নোটের ধাতব মুদ্রা রয়েছে, তা কম ছাপানো হলে এর ব্যবহার বাড়তে পারে। অন্যদিকে ইউরোপ, আমেরিকায় এখনো মানুষ পকেট ভরে কয়েন নিয়ে বাজারে যায়। তাহলে আমরা পারব না কেন?
দৈনন্দিন লেনদেনে আমাদের ধাতব মুদ্রার প্রয়োজন রয়েছে। অর্থনীতিতে ধাতব মুদ্রার ব্যবহার বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককেই এগিয়ে আসতে হবে।