শহীদ নূর আহমেদ
তৃণমূলের স্বাস্থ্যসেবায় কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, ইউপিআই স্যাটেলাইটসহ নানামুখি পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে পূর্বের তুলনায় জেলার স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। তবে এই পরিবর্তনের গতি মন্থর বলে উল্লেখ করছেন উপকারভোগি লোকজন ও সংশ্লিষ্টরা।
এর প্রধান কারণ হিসেবে তারা দেখছেন স্বাস্থ্যখাতের জনবল সংকটকে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও মঞ্জুরীকৃত পদে লোকবল নিয়োগ করা হলে জেলার স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতের দ্রুত উন্নয়ন হতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের। ইউনিয়ন থেকে জেলা পর্যায়ে রয়েছে তীব্র লোকবল সংকট। মঞ্জুরীকৃত পদের অর্ধেক দিয়েই চলছে সুনামগঞ্জের স্বাস্থ্য বিভাগ।
সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের মঞ্জুরীকৃত ১৯০২ টি পদের মধ্যে ডেপুটি সিভিল সার্জন, আবাসিক চিকিৎসক, মেডিকেল অফিসারসহ বিভিন্ন পর্যায়ে ৯০০ পদ শূন্য রয়েছে। মঞ্জুরীকৃত উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ১১টি পদের মধ্যে ২টি, সিনিয়র কনসালটেন্ট পদে ৩টি, জুনিয়র কনসালটেন্ট পদে ৪০ টি, আবাসিক চিকিৎসক পদে ৫টি, আবাসিক ফিজিশিয়ান পদে ১টি, আবাসিক সার্জন পদে ১টি, মেডিকেল অফিসার পদে ৩৬টি, সহকারী রেজিষ্টার /সার্জন পদে ৬১ টি, মেডিকেল অফিসার (আয়ূর্বেদিক/
হোমিওপ্যাথিক) পদে ২টি, প্যাথলজিষ্ট পদে ২টি, রেডিওলজিষ্ট ১টি, এ্যানেসথেসিষ্ট পদে ৩টি, ডেন্টাল সার্জন ৪টি, সেবা তত্ত্বাবধায়ক পদে ১টি, সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা পদে ১টি, জেলা পরিসংখ্যানবিদ পদে ১টি, উপসেবা তত্ত্বাবধায়ক পদে ১টি, প্রশাসনিক কর্মর্কতা পদে ১টি, জেলা কীটতত্ত্ববিদ পদে ১টি, নার্সিং সুপারভাইজার পদে ৮টি, সিনিয়র স্টাফ নার্স/মিডওয়াইফ পদে ১৫৪ জন, মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট (ল্যাব)পদে ২৪ টি, মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট (রেডিওগ্রাফী) পদে ১১ টি, মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট (ডেন্টাল) ৬টি, মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট (ফার্মাসিষ্ট) পদে ৪৩ টি, মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট (এস আই টি) পদে ২টি, মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট (ফিজিওথেরাপি) পদে ২টি, মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট (ব্লাড ব্যাংক ) পদে ২টি, মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট (হেমাটোলজি) পদে ১টি, উপসহকারি মেডিকেল অফিসার ৬১টি, প্রধান সহকারি পদে ১টি, ষ্টেনো টাইপিষ্ট পদে ১টি,পরিসংখ্যান সহকারি পদে ১টি, ক্যাশিয়ার পদে ৬টি, ষ্টোরকিপার পদে ৮টি, স্বাস্থ্য শিক্ষাবিদ পদে ২টি, এন্টোঃ টেকনিশিয়ান পদে ১টি, অডিওভ্যিজুয়েল অপারেটর পদে ১টি, প্রধান সহকারি কাম হিসাব রক্ষক পদে ৫টি, উপজেলা পরিসংখ্যানবিদ পদে ৬ টি, সহকারি নার্স পদে ১৯টি, অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে ২৮টি, অফিস সহকারি কাম ডাটাএন্ট্রি অপারেটর পদে ১টি, কার্ডিওগ্রাফার পদে ২টি, ওয়ার্ড মাস্টার পদে ১টি, স্টুয়ার্ড পদে ১টি, লিলেন কিপার পদে ১টি, রেকর্ড কিপার পদে ১টি, টিকেট ক্লার্ক পদে ১টি, স্বাস্থ্য পরিদর্শক পদে ৬টি, সহ স্বাস্থ্য পরির্দশক পদে ৬টি, স্বাস্থ্য সহকারি পদে ১১২ টি, ড্রাইভার পদে ১১ টি, জুনিয়র মেকানিক পদে ৭টি, স্টেরিলাইজার কাম মেকানিক পদে ১টি, কুষ্ট নিয়ন্ত্রণ সহকারি পদে ৯টি, কম্পাউন্ডার পদে ১টি, প্রজেকশনিষ্ট পদে ১টি, ক্যাশ সরকার পদে ১টি ল্যাব এটেনডেন্ট পদে ৫টি, ইমার্জেন্সি এটেনডেন্টে পদে ১টি, অফিস সহায়ক পদে ৫৭টি , নিরাপত্তা প্রহরী পদে ১৪টি, ওয়ার্ডবয় পদে ২৩টি, কুক/মশালচী পদে ১৬টি, ওটিবয় পদে ১টি, আয়া পদে ১৪টি, মালী পদে ৫টি, জমাদার/সরকার পদে ১টি, হারবাল এসিসটেন্ট পদে ৩টি, পরিচ্ছন্নকর্মী পদে ৩২ টি , ডোম পদে ২টি পদ শূন্য রয়েছে।
বৃহৎ সংখ্যক পদ শূন্য থাকায় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে শুরু করে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র ,সদর হাসপাতল পর্যন্ত এর প্রভাব পড়ছে প্রত্যক্ষভাবে। প্রত্যাশা অনুযায়ি সেবা পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। জ্বর কাঁটা-ছেড়া, জখম, ফোড়াসহ সামান্য আঘাত জনিত সমস্যায় যেতে হয় উপজেলা বা জেলা সদর হাসপাতালে। গুরুতর জখম বা জটিল কিছু হলেই উন্নত চিকিৎসার জন্যে ছুটতে হয় বিভাগীয় শহরের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর অধিকাংশ পদ শূন্য থাকায় নারী স্বাস্থ্য ও প্রজনন সেবার জন্য নির্ভর করতে হয় শহরের ক্লিনিকের উপর। এই অবস্থায় জেলার স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতকে উন্নত করতে জরুরী ভিত্তিতে লোকবল নিয়োগের দাবি সকল মহলের।
সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাশ বলেন, ‘জাতীয়ভাবে স্বাস্থ্য বিভাগে তৃতীয়, চতুর্থ শ্রেণী ও কর্মকর্তা নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। তাই ইচ্ছে থাকলেও ওই সকল পদে নিয়োগ দেয়া যাচ্ছে না। মেডিকেল অফিসার সহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক পদ শূন্য রয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশানুযায়ি সেবা দেয়া যাচ্ছে না। শূন্য পদের তালিকা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট আন্তরিক। সুনামঞ্জের স্বাস্থ্য খাত উন্নয়ন করতে ডাক্তারসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেয়ার আশ্বাস রয়েছে। নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আমরা আন্তরিকতার সাথে কাজ করে অন্যান্য সময়ের চেয়ে জেলার স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন করেছি। ’