- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

অসহায়ের মত ঘুরছে দুর্লভ প্রজাতির বানর

বিশেষ প্রতিনিধি
বয়সে প্রবীণ। শরীর চলছে না। তাতে কী। শহরের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে অসহায়ের মত ছুটে বেড়াচ্ছে দুর্লভ প্রজাতির বানরটি। দলছুট এই বানর সুনামগঞ্জ শহরের ভূষি মালের দোকান, ফলের দোকান দেখলেই এগিয়ে যাচ্ছে, তছনছ করে সামান্য কিছু খেয়ে চলে যাচ্ছে। কখনো কখনো তাকে দেখলে আগেই ভয়ে দোকানীরা চাহিদামত খাবার দিয়ে বিদায় করার চেষ্টা করছেন। গেল ছয়মাস হয় বানরের এই বাদরামি সুনামগঞ্জ শহরে। বন বিভাগ বলেছে, তিনটি বানর পৃথক পৃথকভাবে সুনামগঞ্জ শহরে দলছুট হয়ে এসেছে। তিনটিই সুস্থ্য আছে।
সুনামগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতির কোষাধ্যক্ষ চন্দন রায় বললেন, মানুষ ভয় পান, কিছু ক্ষতিও করছে। তবুও বানরকে কেউ আক্রমণ করছেন না। অনেকের বাসা বাড়িতেও ঢুকছে বানর। বিরক্ত হলেও বানরগুলো বেঁচে থাকুক এটা চান সকলে। বেশিরভাগ ব্যবসায়ীই বানরগুলোকে অতিথির মত আপ্যায়ন করছেন।
শহরের উকিলপাড়া এলাকার সবজি ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বললেন, বানর এসে গাঁজর, শশাসহ অন্যান্য সবজি তছনছ করে নষ্ট করে দেয়। যতটা না খায়, তার চেয়ে বেশি তছনছ করে।
মধ্যবাজারের ব্যবসায়ী জিতেষ গোপ বললেন, বানরগুলোকে বনবিভাগের উদ্যেগে সাফারি পার্কে নিয়ে ছেড়ে দিলে ভালো হত। না হয় যে কোন সময় কোন অঘটনও ঘটতে পারে।
সুনামগঞ্জ জেলা বন কর্মকর্তা চয়ন চৌধুরী বললেন, এসব বানর কমপক্ষে ১০টি একসঙ্গে থাকে। এদের দলনেতা থাকে একটি। এরা এখন স্বতন্ত্রভাবে শহরের পথে পথে ঘুরে বাঁচার লড়াই করছে। বানরটি সাফারি পার্কে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে না কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বললেন, বানরগুলোকে বিশেষ ব্যবস্থায় অচেতন করে নিতে হবে। এখানে এরা সুস্থ্য আছে। সবাই তাদের প্রতি যতœশীল। আমরা মানুষকে সচেতন করেছি। কেউ যাতে এদের যন্ত্রণা না করেন।
চট্টগ্রাম বিশ^ বিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর ফরিদ আহসান বললেন, সুনামগঞ্জ শহরে আসা দলছুট বানরটির ছবি দেখে মনে হয়েছে, এটি দুর্লভ প্রজাতির আসামি বানর। এরা নিজেদের দলে বসবাস করে। পুরোপুরি জংলি প্রাণী। ১০ থেকে ১০০ টি বানর কাছাকাঁছি দল বেঁধে চলে। এটি দুর্লভ প্রজাতির বানর। সিলেটের পাথারিয়া হিলে আশির দশকে এই বানর দেখা গেছে। চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় এই বানর মাঝে মধ্যে দেখা যায়।

  • [১]