কর্তৃপক্ষের অবহেলায় ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগ
সোহানুর রহমান সোহান
দেখে বুঝার উপায় নেই এটি একটি উদ্বোধনী ফলক। তাও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে উদ্বোধনকৃত জেলার প্রথম ফলক। জেলা প্রশাসনের তত্বাবধানে সুনামগঞ্জ ঐতিহ্য যাদুঘরে ফলকটির প্রতিলিপি সংরক্ষিত থাকলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অযতেœ পড়ে আছে সুরমা সেতুর উপর নির্মিত আব্দুজ জহুর সেতুর মল্লিকপুর প্রান্তে থাকা উদ্বোধনী ফলক।
ফলকটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধনকৃত জেলার প্রথম স্থাপনা বলে জানিয়েছেন তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান ও বর্তমান সুনামগঞ্জ- ১ আসনের সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন। সরকারি ভাবে নির্মিত জেলার অন্যান্য বৃহৎ স্থাপনাগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এই সেতু।
জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ফলকটিতে উদ্বোধক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম সহ ফলকের একটি অক্ষরও দেখা যায় না। বিভিন্ন প্রচারণামূলক পোস্টার দিয়ে ঢেকে ফেলা হয়েছে পুরো ফলক। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে উঠে গেছে রঙ। দীর্ঘদিন যাবৎ এমন বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে ফলকটি। সেতু রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা এই মহাসড়ক দিয়েই চলাচল করেন। চোখের সামনে দেখেও যেন অন্ধ সংশ্লিষ্টরা। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনকৃত প্রথম ফলকের প্রতি কর্তৃপক্ষের এমন উদাসিনতা ও অবহেলায় ক্ষোভ জানিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগ।
২০১৫ সালের ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই সেতুর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৭১.১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সুরমা নদীর উপর নির্মিত ৪০২.৬১ মিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট সেতুর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুনামগঞ্জে অন্য কোনো স্থাপনা উদ্বোধন করেন নি। এর আগে ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় আসলেও কৃষকদের মধ্যে কৃষি উপকরণ বিতরণে অংশ নেন।
সুনামগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, আমার জানামতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুনামগঞ্জে সর্ব প্রথম আব্দুজ জহুর সেতু উদ্বোধন করেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাথে সুনামগঞ্জের তেমন একটা যোগাযোগ ছিলো না।
আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মতিউর রহমান বলেন, সুনামগঞ্জে এই প্রকল্প সর্বপ্রথম প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক উদ্বোধন হয়। তখন আমি আওয়ামী লীগের দায়িত্বে ছিলাম। আমরা করে দিয়ে গেছি, এখন যারা দায়িত্বে আছেন তারা রক্ষণাবেক্ষণ করবেন, তদারকি করবেন। এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ ফলকের কেন এতো অবহেলা কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবে।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনকৃত এত বড় স্থাপনার ফলকটি অবহেলা অযতেœ পড়ে থাকায় ক্ষোভ জানিয়ে বর্তমান আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল হুদা মুকুট বলেন, এটি আমাদের জন্য লজ্জাজনক। সুনামগঞ্জের জন্য ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ একটি ফলকের অবহেলা করা মোটেই উচিত হয়নি। আমি তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানাচ্ছি। আমি নিজেও সড়ক ও জনপথের সাথে এ বিষয়ে কথা বলবো।
সেতুর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম প্রামানিক বলেন, আমি সরেজমিনে গিয়ে খোঁজ নিয়ে নতুন করে রঙ করা সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার ব্যাপারে কি করা যায় দ্রুতই এটি করবো।