স্টাফ রিপোর্টার
অস্ত্র মামলায় অন্যদের ফাঁসাতে গিয়ে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার এক লন্ডনপ্রবাসী নিজেই ফেঁসে গেছেন। রবিবার ভোরে সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে কয়েছ মিয়া (৩৫) নামের ওই প্রবাসীকে আটক করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে তাকে সুনামগঞ্জ সদর থানা পুলিশের কাছে দেওয়া হয়। কয়েছ মিয়া জগন্নাথপুর উপজেলার পুর্ব বুধরাইল গ্রামের হারুন মিয়ার ছেলে।
জানা গেছে, পুর্ব বুধরাইল গ্রামের মসজিদের গেট নির্মাণ নিয়ে গ্রামের হারুন মিয়া ও তারিফ উল্লাহর পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছে। এর জের ধরে তারিফ উল্লাহ ছেলে আকবুল হোসেন, ভাতিজা সুমিন মিয়া ও অটোরিকশাচালক নুর মিয়াকে অস্ত্র মামলায় ফাঁসানোর পরিকল্পনা করে কয়েছ মিয়া ও একই গ্রামের
অনিছুর রহমান। এ জন্য আনিছ তার বন্ধু পুলিশের সোর্স সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার পৈন্দা গ্রামের সালমান ইসলামকে নিয়ে পরিকল্পনা করেন। সালমান যোগাযোগ করেন সুনামগঞ্জ সদর থানার এক এসআইয়ের সঙ্গে। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১৪ আগস্ট নূর মিয়াকে (৩৮) সুনামগঞ্জ পৌর শহরের একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে একটি লোহার তৈরি পাইপগানসহ আটক করে পুলিশ। আনিছই জগন্নাথপুর থেকে তার লোককে অস্ত্রসহ ওই সিএনজিতে তুলে দেয়। পরে সুনামগঞ্জ আসার পর সিএনজিতে অস্ত্র রেখে ওই লোক চলে যায়। ওই দিনই সুনামগঞ্জ সদর থানায় এসআই মো. শিবলী কায়েছ মীর বাদী হয়ে নুর মিয়ার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সুনামগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক মো. আতিকুর রহমান গত ২৪ সেপ্টেম্বর আদালতে দেওয়া এক প্রতিবেদনে সিএনজি চালক নূর মিয়া এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় বলে উল্লেখ করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, তার বড় ভাই এলাইছ মিয়া গ্রামের মসজিদ পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি। মসজিদের গেট নির্মাণ নিয়ে গ্রামের হারুন মিয়া ও তার ছেলেদের সঙ্গে কমিটির বিরোধ চলছে। এই বিরোধের জের ধরেই কয়েছ প্রতিপক্ষের লোকদের অস্ত্র মামলায় ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। আদালত এই প্রতিবেদন পাওয়ার পর নুর মিয়াকে জামিন দেন। পরে এ ঘটনায় সুনামগঞ্জ সদর থানার এসআই মো. শিবলী কায়েছ মীরকে পুলিশ লাইনসে ক্লোজ করা হয়।
সুনামগঞ্জের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার তাপস রঞ্জন ঘোষ বলেছেন, কয়েছ মিয়াকে ইমিগ্রেশন পুলিশ আটক করে আমাদের কাছে দিয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে সে জড়িত বলে আমাদের কাছে তথ্য আছে। আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। প্রয়োজনে রিমান্ডে এনে আবারও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।