স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জে ‘অহিংস গণ অভ্যুত্থান’ নামের একটি সংগঠনের এক সংগঠককে বুধবার শহরের আরপিননগর এলাকা থেকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়েছে। বিকাল ৩টায় থাকে পুলিশ থানায় নেয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (সন্ধ্যা ৭ টা) সে থানায়ই ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, ঋণ দেবার কথা বলে লোকজন জড়ো করে আইডি কার্ড ও মোবাইল নম্বর নেবার খবর পেয়ে পুলিশ সন্ধেহজনকভাবে থানায় নেয়।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানান, উত্তর আরপিননগর পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে শত শত লোক জড়ো করে ঋণ দেবার কথা বলে জাতীয় পরিচয় পত্র ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করছিলেন স্থানীয় তরুণ রাকিবুল হাসান জুয়েল। এসময় কিছু লোকজন এই বিষয়টি প্রতারণার উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে জানিয়ে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে রাকিবুল হাসান জুয়েলকে থানায় নিয়ে যায়।
শহরের পশ্চিম তেঘরিয়ার তরুণ তৈয়বুর রহমান বললেন, গত কয়েক দিন ধরে হাজার হাজার মানুষ জড়ো করে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে ঋণ দেবার ভুয়া আশ^াস দিয়ে ভোটার আইডি কার্ড ও মোবাইল নম্বর নেওয়া হচ্ছে। মানুষ এখানে প্রতারিত হতে পারে সন্দেহ করে আমরা পুলিশে খবর দিয়েছি।
সুনামগঞ্জ শহরতলির নলুয়ারপাড়ের সৈয়দুন্নেছা বললেন, এক লাখ টাকা লোন দেওয়া হবে। পরে মাসে ২০০০ টাকা করে দিয়ে পরিশোধ করা যাবে জেনে এখানে এসেছি। আইডি কার্ড ও মোবাইল নম্বর নিয়েছে তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা জেলা পরিষদ সদস্য মনির উদ্দিন বললেন, ভোটার আইডি কার্ড ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহকারীরা তাদের সংগঠনের রেজিঃস্ট্রেশন বা সরকারি কোন অনুমতিপত্র না দেখানোয় সকলের সন্দেহ বেড়েছে।
অহিংস গণ-অভ্যুত্থানের সংগঠক দাবিদার রাকিবুল হাসান জুয়েল বললেন, আমরা কারো কাছ থেকে কোন টাকা নেই নি। কেবল ভোটার আইডি ও মোবাইল নম্বর নিচ্ছি। যেহেতু টাকা নিচ্ছি না, সেহেতু প্রতারণার অভিযোগ ওঠছে কেন বুঝি নি। ভোটার আইডি ও মুঠোফোন নম্বর নিতে অনুমতি বা তাদের সংগঠনের রেজিস্ট্রেশন আছে কী না জানতে চাইলে বললেন, আমাদের কেন্দ্রীয় অর্থাৎ রাজধানীতে থাকা নেতারা এটি জানেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রিপন কুমার মোদক জানালেন, উত্তর আরপিননগরে লোকজন জড়ো করে ভোটার আইডি ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করার সময় এক তরুণকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য থানায় আনা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রতারণার কোন তথ্য পাওয়া গেলে মামলা নেওয়া হবে।