- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

আইনজীবী পরিবর্তনের জের বিচার প্রার্থীকে মারধর

স্টাফ রিপোর্টার
মামলার আইনজীবী পরিবর্তন করার জের ধরে মারধরের শিকার হয়েছেন এক বিচার প্রার্থী (নারী শিশু মামলার আসামী)। লাঞ্ছনার শিকার ঐ বিচার প্রার্থীর নাম মজিবুর রহমান (৪০)। তিনি জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের চাইরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। রবিবার দুপুর সোয়া ১ টায় সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ের ভেতরে এই ঘটনা ঘটে। বিচার প্রার্থী মজিবুর রহমান এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন আইনজীবী তৌহিদ আহমেদ চৌধুরী দবির ও জুনেদ আহমেদ তাকে মারধর করেছেন। তবে মারধরের ঘটনা সঠিক নয় দাবি করে আইনজীবী তৌহিদ আহমেদ চৌধুরী জানান, মজিবুর রহমানের সাথে তাদের কথা কাটাকাটি হয়েছে। তাকে মারধর করা হয়নি।
এ ঘটনায় জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ করেছেন বিচার প্রার্থী ও দুই আইনজীবী। বিচার প্রার্থী মজিবুর অভিযোগ করেছেন দুই আইনজীবীর বিরুদ্ধে এবং দুই আইনজীবী পাল্টা অভিযোগ করেছেন বিচার প্রার্থীর নিয়োগকৃত নতুন আইনজীবীর বিরুদ্ধে।
জানা যায়, মজিবুর রহমান একটি জিআর মামলার আসামী। গত দুই মাস ধরে মজিবুর রহমানের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন আইনজীবী তৌহিদ আহমেদ চৌধুরী দবির ও জুনেদ আহমেদ। সম্প্রতি ঐ মামলা নারী শিশু ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হলে মজিবুর রহমান আইনজীবী পরিবর্তন করেন। তিনি নতুন করে অ্যাড. আবুল আজাদ রুমানকে আইনজীবী নিয়োগ করেন। এ ঘটনায় রবিবার দুপুরে আইনজীবী তৌহিদ আহমেদ চৌধুরী ও জুনেদ আহমেদ বিচার প্রার্থী মজিবুর রহমানের কাছে আইনজীবী পরিবর্তনের কারণ জানতে চান এবং কাকে নতুন করে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে জিজ্ঞেস করেন। এ নিয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ের ভিতরে মজিবুর রহমানের সাথে আইনজীবী তৌহিদ আহমেদ চৌধুরী ও জুনেদ আহমেদের প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে মজিবুর রহমানকে মারধর করেন আইনজীবী তৌহিদ আহমেদ চৌধুরী দবির ও জুনেদ আহমেদ।
এ ঘটনায় বিচার চেয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন মারধরের শিকার মজিবুর রহমান। অপরদিকে নিজেদেরকে না জানিয়ে বিচার প্রার্থীর কাছ মামলা নিয়ে যাওয়ায় আইনজীবী আবুল আজাদ রুমানের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করেন আইনজীবী তৌহিদ আহমদে চৌধুরী ও জুনেদ আহমেদ।
আইনজীবী তৌহিদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা মজিবুর রহমানের কাছে জানতে চেয়েছিলাম আমাদেরকে না জানিয়ে নতুন করে কাকে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে। তাকে মারধর করেছি, এটি সঠিক নয়। তার সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে। পরে মজিবুর রহমান জানিয়েছে তাকে ফুসলিয়ে মামলাটি নিয়ে গেছেন আইনজীবী আবুল আজাদ রুমান। আমরা এ ঘটনায় আবুল আজাদ রুমানের বিরুদ্ধে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের কাছে নালিশ করেছি।’
আইনজীবী আবুল আজাদ রুমান বলেন, ‘ফুসলিয়ে মামলা নেয়ার প্রশ্নই উঠেনা। তাকে যদি আমি ফুসলিয়ে মামলা নিতাম তাহলে সে আমার বিরুদ্ধেই অভিযোগ করত। যারা মজিবুর রহমানের সাথে খারাপ আচরণ করেছে তাদের বিরুদ্ধেই মুজিবুর রহমান আইনজীবী সমিতির সেক্রেটারির কাছে অভিযোগ করেছেন।’
এ ব্যাপারে জেলা আইনজীবী সমিতির বিগত কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. শেরেনূর আলীর সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি মুঠোফোন রিসিভ না করায় কথা বলা যায়নি।
জেলা আইনজীবী সমিতির নব নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আব্দুল হক বলেন, ‘আইনজীবী আবুল আজাদ রুমান ও বিচার প্রার্থী মজিবুর রহমান বিগত কমিটির সাধারণ সম্পাদকের কাছে একটি লিখিত আবেদন করছেন বলে শুনেছি। আজ সোমবার এই আবেদনের বিষয়ে আলোচনা হবে।’

  • [১]