- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

আইনজীবী শফিকুল আলমের জীবন ছিল কর্মময়

হোসেন তওফিক চৌধুরী
সদ্য প্রয়াত বিশিষ্ট আইনজীবী মোঃ শফিকুল আলমের এক সৃষ্টিশীল প্রকাশনা ‘মাটির মায়া’ নামক একটি কাব্যগ্রন্থ। এই প্রকাশনার মাধ্যমে তাঁর কাব্য প্রতিভার স্ফূরন ও বিকাশ লাভ ঘটে। এই গ্রন্থে তিনি দেশ ও মাটির বন্দনা গেয়েছেন। গ্রন্থটি প্রকাশের প্রায় ৮ মাসের মধ্যেই তিনি না ফেরার দেশে চলে গেছেন। যে মাটির বন্দনা তিনি গাইলেন সেই মাটিতেই তিনি লীন হয়ে গেলেন। গ্রন্থটি প্রকাশ হয় ২০২০ সালের নভেম্বর আর তিনি মারা যান ২০২১ সালের ১৭ই জুলাই।
একজন তরতাজা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ছিলেন শফিকুল আলম। হাসি হাসি মুখে কথা বলতেন। অমায়িক ব্যবহার দিয়ে তিনি মানুষের মন সহজেই জয় করতে পারতেন। এ জন্য প্রবীন ও নবীন আইনজীবীগণ তাঁকে ভালোবাসতো। তিনি ছিলেন বন্ধু বৎসল এবং পুরাপুরি সামাজিক। তাঁর চলাফেরা, চালচলন এবং ব্যবহার ছিল অত্যন্ত আকর্ষণীয়। সাম্প্রতিক সময়টা অত্যন্ত দুঃসহনীয়। ইতোমধ্যেই আমি আমার অনেক প্রিয় ব্যক্তিত্বকে অকালে হারিয়ে গভীর মর্মবেদনায় ভোগছি। আমি এমনিতেই শোকাবহ আছি। আমি আমার ভাই সাংবাদিক হাসান শাহরিয়ার, আইনজীবী বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু, ড. মফচ্ছির মিয়া, মলয় বিকাশ চৌধুরী, কানিজ রেহনুমা রব্বানী ভাষা, ডা. আব্দুন নুর, শিক্ষাবিদ সিরাজুল ইসলাম, সুনামগঞ্জের প্রখ্যাত হোমিওপ্যাথ চিকিৎসক আমিরুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজাহিদ উদ্দিন আহমদ প্রমুখ সহ অনেককে অকালে হারিয়েছি। তাঁরা চিরতরে চলে গেছেন। আর কখনই ধরণীতে ফিরবেন না। তাঁরা সবাই তাঁদের স্মৃতি ও অবদান রেখে গেছেন। কানিজ রেহনুমা রব্বানী ভাষা অত্যন্ত কম বয়সে মারা গেলেন। তাঁর মৃত্যুতে উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় সুন্দর ভবিষ্যতের যবনিকাপাত হলো। তাঁর মৃত্যুতে সকলের মনেই দাগ লেগেছে।
শফিকুল আলমের জীবন ছিল কর্মময়। ১৯৫৭ সালে জগন্নাথপুরের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতার নাম ছিল আব্দুল জব্বার এবং মাতার নাম ছিল হোরমতুন নেছা। তিনি ২ ছেলে ও ১ মেয়ে রেখে গেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল প্রায় ৬৪ বছর। তিনি ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ বর কাউন্সিল থেকে আইনজীবী সনদ নিয়ে প্রথমে সিলেট আইনজীবী সমিতি ও পরে সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতিতে আইন পেশায় আত্মনিয়োগ করেন। সুনাম ও দক্ষতার সাথে তিনি আইন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। তিনি এ.পি.পি, এডিশনাল পি.পি ও পি.পি হিসাবেও যোগ্যতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি জগন্নাথপুর থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ছিলেন। তিনি তাঁর মৃত্যুকালে সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সহ সভাপতি ছিলেন। তিনি জেলা পরিবেশ আন্দোলনের প্রধান এবং বাফার জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। শফিকুল আলমের শ^শুর ছিলেন ব্যরিস্টার মির্জা আব্দুল মতিন। ঢাকার পুরানা পল্টনের এক ভাড়াটে বাসায় থেকে তিনি আইন ব্যবসা করতেন। আমি তাঁর বাসায় যাওয়া আসা করতাম। আমি তখন ঢাকার একটি পত্রিকায় কর্মরত ছিলাম। তিনি প্রায়ই আমার অফিসে আসতেন। শফিকুল আলমের সাথে আমার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। তাঁর আত্মীয়দের সাথে আমার আত্মীয়তা ছিল। সেই সুবাধে তিনি আমাকে মুরুব্বি হিসাবেই সম্মান করতেন। তিনি আজ নেই। আজ এসব কথ আমার মানস নয়নে ভাসে। আমি তাঁর কথা দীর্ঘদিন মনে রাখব। তিনি মানুষকে ভালোবাসতেন। মানুষ তাঁকে শ্রদ্ধা করত। মানুষের কাছে তাঁর জীবনধারা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমি দোয়া করি আল্লাহ তাঁকে বেহেশত নসিব করুক।
লেখক : আইনজীবী ও কলামিষ্ট।

  • [১]