আজ দেশের অন্যতম প্রাচীন ও প্রধান রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন। দলটি বর্তমানে ক্ষমতাসীনও বটে। টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার কারণে দেশব্যাপী সংগঠনটির নেতা-কর্মীর অভাব নেই। দুর্যোগে না থাকলেও সুদিনে বন্ধুর অভাব হয় না, দলটির বর্তমান অবস্থা দেখলে তা বেশ ভাল করেই বুঝা যায়। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কারণে আওয়ামী লীগের এই সম্মেলন নিয়ে দলের অভ্যন্তরে যেমন আগ্রহ ও উৎসাহের কমতি নেই তেমনি দেশবাসীও এই সম্মেলনের দিকে অধীর আগ্রহে অপেক্ষমাণ। বিশেষ করে গত কয়েক মাস ধরে দলের অভ্যন্তরে পরিচালিত দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের কারণে আজকের সম্মেলনটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য লাভ করেছে। আওয়ামী লীগের কয়েকটি অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের জাতীয় সম্মেলন ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এসব সহযোগী সংগঠনের মূল পদগুলোতেও এসেছে চমকপ্রদ পরিবর্তন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহলের ধারণা, শেখ হাসিনা এবার আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে পরিচ্ছন্ন ইমেজের অধিকারী সৎ ও দক্ষ নেতৃত্বকে এনে সামনের দিনগুলোর রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জকে দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করতে চাচ্ছেন। তাই যেসব নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল তারা সহযোগী সংগঠনের নেতৃত্ব থেকে বাদ পড়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে আজকে অনুষ্ঠিতব্য মূল সংগঠনের নেতৃত্বে কারা আসছেন সেটিই আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করবে। শেখ হাসিনা ইতিপূর্বে নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর মনোভাব পোষণ করলেও আওয়ামী লীগের ভিতর সেই ধরনের বাস্তবতা এখনও তৈরি হয়নি। শেখ হাসিনার অবর্তমানে দলের হাল ধরতে পারেন এমন কারও নাম কেউই উচ্চারণ করতে পারছেন না। দলের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, একমাত্র শেখ হাসিনা ছাড়া আওয়ামী লীগে আর কেউ অপরিহার্য নন। তাই দলীয় সভানেত্রী পদে যে শেখ হাসিনাই বহাল থাকছেন সেটি নিশ্চিত বলেই ধরে নেয়া যায়। এরপর জনআগ্রহের প্রধানতম বিষয় হল, কে হচ্ছেন আওয়ামী লীগের পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক। ওবায়দুল কাদের বেশ ভালভাবেই একটি মেয়াদ দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব সামাল দিয়েছেন। কিন্তু হৃদরোগে গুরুতরভাবে আক্রান্ত হয়ে বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণ করে আসার পর তাঁর শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। অবশ্য সুস্থ হওয়ার পর সাম্প্রতিক সময়ে ওবায়দুল কাদেরের সাংগঠনিক ।ভূমিকা দেখে বুঝার উপায় নেই যে, কিছুদিন আগেও তাঁর জীবন শঙ্কা ঘটেছিল। ওবায়দুল কাদের যদি সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বাদ পড়েন তাহলে তার শারীরিক অসুস্থতার কারণেই বাদ পড়বেন। এই ক্ষেত্রে তার উত্তরসূরি কে হতে পারেন? কারও কাছে এ বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট উত্তর নেই। সম্মেলনে আগত কাউন্সিলর ডেলিগেটদের আগ্রহ ও সমর্থন বিবেচনা করে সম্ভবত দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাই এই পদের যোগ্য লোকটিকে বেছে নিবেন।
আওয়ামী লীগের আরেকটি অভিপ্রায় ছিল দল ও সরকারকে আলাদা করা। অর্থাৎ যারা মন্ত্রী থাকবেন তাঁরা দলীয় নেতৃত্বে আসতে পারবেন না। বর্তমান মন্ত্রীসভার অনেকেই দলের কেন্দ্রীয় কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে নেই। দল যদি এই নীতি বাস্তবায়ন করে তাহলে মন্ত্রীত্ব নেই এমন অনেক সিনিয়র ও অভিজ্ঞ নেতা-নেত্রীকে কেন্দ্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখা যেতে পারে। আজকের সম্মেলনের মাধ্যমে গঠিত কমিটিকেই সম্ভবত আগামী জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে হবে। তাই সামনের জাতীয় নির্বাচনে দলকে দক্ষভাবে নেতৃত্ব দিতে পারবেন, এই ধারণাটিও নেতৃত্ব নির্বাচনের পূর্বশর্ত হিসাবে কাজ করতে পারে।
আওয়ামী লীগ দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী রাজনৈতিক সংগঠন। এই দলটির সাথে জাতীয় আবেগ-অনুভূতি জড়িত। মাওলানা ভাসানী, শহীদ সোহরাওয়ার্দী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া এই সংগঠনটির সাথে দেশের মানুষের একটি অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এই সংগঠনের জাতীয় সম্মেলনের সফলতা কামনা করি।