- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সম্মেলন, গণতান্ত্রিক চর্চার পথ উন্মুক্ত হোক

রবিবার অনুষ্ঠিত জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সম্মেলনটি অংশগ্রহণমূলক ও প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর ছিল বলে গণমাধ্যমের খবর ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত নেতৃবৃন্দের বক্তব্য থেকে বেশ বুঝা যায়। দেশের অন্যতম একটি বড় রাজনৈতিক দল, যে দলটি এখন ক্ষমতায় রয়েছে টানা তিন মেয়াদে, তার প্রতিনিধি সম্মেলন যে সাদামাটা হবে না তা আগে থেকেই বুঝা গিয়েছিল। প্রত্যাশা মোতাবেকই তৃণমূলের নেতারা মনের কথা খুলে বলেছেন। কেন্দ্রীয় গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দকে কাছে পেয়ে কথা বলার সুযোগ পাওয়া প্রতিনিধিদের কয়েকজন স্পষ্ট করে নিজেদের অভিমত প্রকাশ করেছেন। দলীয় ফোরামে এই ধরনের সমালোচনা, আত্মসমালোচনা করাটাই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অংশ। দলে নানা কারণে একজনের সাথে আরেক জনের মতবিরোধ থাকতে পারে, মতদ্বৈততা থাকতে পারে দলের নীতি-কৌশল নিয়েও। সেগুলো দলের উপযুক্ত ফোরামে আলোচনা করা হলে সমাধানের পথ বেরিয়ে আসে। এতে করে দলের ঐক্য আরও সুদৃঢ় হয়। দলে কোন অন্তর্কোন্দল মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে না। সব ধরনের মতবিরোধ গণতান্ত্রিক উপায়ে নিষ্পত্তি করার পথ অবারিত হয়। এই বিবেচনায় রবিবারের প্রতিনিধি সম্মেলনটি আওয়ামী লীগের সামনের দিনের জন্য ভাল ফলাফল বয়ে আনবে বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন।
সম্মেলনে স্থানীয় প্রতিনিধিদের কয়েকজন বর্তমান জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সংগঠনকে স্থবির করে রাখা, জেলা কমিটির সভা আয়োজন না করা, সদ্যসমাপ্ত ইউপি নির্বাচনে মনোনয়ন প্রদানের ক্ষেত্রে ভুল করায় ফলাফল বিপর্যয়, বিভিন্ন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক বিধি-বিধানকে উপেক্ষা করার মত অভিযোগ এনেছেন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মনোযোগ সহকারে তাঁদের কথা শুনেছেন এবং দলকে চাঙা করতে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। এ লক্ষে মে মাসের মধ্যে সকল উপজেলা ও পৌরসভা কমিটির সম্মেলন শেষ করে জুন মাসের মধ্যে জেলা সম্মেলন সম্পন্ন করার নির্দেশনা দিয়েছেন। উপজেলা ও পৌর কমিটির সম্মেলনের তারিখও নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। আগামী দুই বছর পর যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তার প্রতি লক্ষ রেখে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দলে গতিশীলতা আনতে চান। দল ক্ষমতাসীন থাকলে জনগণের সাথে নেতাদের দূরত্ব তৈরি হয় নানা কারণে। নেতৃত্বের অংশবিশেষ ক্ষমতা চর্চার নানা প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়ে যান। এতে করে দল ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। দূরত্ব তৈরি হয় নেতাদের সাথে কর্মীদের। এতে দলের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়। দল দুর্বল হয়। অথচ রাজনৈতিক দল হিসাবে প্রতিনিয়ত দলকে নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। দুর্বল দল ও নেতৃত্ব দিয়ে জনগণের নিকট থেকে উপযুক্ত সমর্থন লাভ করাটা কঠিন হয়ে যায় বৈকি। বিষয়টি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যথার্থভাবেই উপলব্ধি করতে পেরেছেন। তাই তাঁরা দেশব্যাপী দলের স্থবিরতা কাটাতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। রাজনৈতিক দলের ভিতর এই ধরনের চর্চার সুস্থ ধারা যত বেশি অনুশীলন করা হয় তত বেশি সমৃদ্ধ হয় গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি।
আওয়ামী লীগে দেশের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক সংগঠন। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছে এই দল। সুতরাং দলটির কাছে গণমানুষের অনেক প্রত্যাশা থাকে। ইউনিয়ন, উপজেলা বা জেলা কমিটি যে গণপ্রত্যাশা পূরনের জায়গায় এখন অনেকটাই অসফল তা গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদ থেকে পরিষ্কার বুঝা যায়। এছাড়া দলের ভিতর গ্রুপিং এর তীব্রতা আগের যেকোন সময়ের চাইতে এখন অনেক বেশি। এরকম অনৈক্য ও কোন্দলে পরিপূর্ণ সংগঠন ও নেতৃত্ব যে দল ও জনগণের সেতুবন্ধন হতে পারে না তা বলাই বাহুল্য। জনগণ সবসময় রাজনৈতিক দলের মধ্যে নিজের স্পষ্ট অবস্থান দেখতে চায়। এই জায়গায় আওয়ামী লীগের মত একটি বড় দলের দায়িত্ব অনেক বেশি। আশা করি সামনের দিনে ঐতিহ্যবাহী এই দলটি সত্যিকার অর্থে আরও সুসংগঠিত ও সম্প্রসারিত অবস্থায় জনগণের সামনে হাজির হবে।

  • [১]