- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

আওয়ামী লীগ- জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, তাহিরপুর, মধ্যনগর’এর ২৩ ইউনিয়ন ৭ টিতে একক, অন্যগুলোয় একাধিক নাম প্রস্তাব কেন্দ্রে

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ-১ আসনের ২৩ ইউনিয়নের ৭ টিতে আওয়ামী লীগের একক দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। অন্য ১৬ টির প্রতিটিতে ২ থেকে ৪ জনের নামের তালিকা কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডে সুপারিশ করে পাঠিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। গত ৩ দিনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্টরা কয়েকদফা সভায় মিলিত হয়ে এই তালিকা মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডে জমা দিয়েছেন। একাধিক নামের তালিকা কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডে যাওয়ায় যার যার মতো তদবির করছেন দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। এই ইউনিয়নগুলোর নির্বাচন হচ্ছে ষষ্ঠ ধাপে অর্থাৎ ৪ জুনে। তাহিরপুরের ৭ ইউনিয়নের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল বাদাঘাট ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে লড়াই ছিল চাচায়-ভাতিজায়। সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন এবং তার ভাতিজা বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন সমানভাবে আগ্রহী ছিলেন। দলের একাধিক সূত্রে জানা গেছে- শেষ পর্যন্ত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিনের নাম দলীয় মনোনয়ন বোর্ডে যায়নি। নাম দেওয়া হয়েছে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন ও তার চাচাতো ভাই (জালাল উদ্দিনের ছেলে) মুর্শেদ আহমদের।
বালিজুরি ইউনিয়নে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান ও জহুর হাজী’র নাম দেওয়া হয়।
দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ সরকার ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান দীনেশ তাং’র ছেলে দীপক তাং’র নাম দেওয়া হয়েছে। উত্তর বড়দল ইউনিয়নে   জামাল উদ্দিনের নাম এককভাবে দেওয়া হয়েছে।
উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নে তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হোসেন খান’র নাম এককভাবে দেওয়া হয়।
তাহিরপুর সদর ইউনিয়নে স্বপন কুমার দাস, শামীম আখঞ্জি ও ইকবাল হোসেনের নাম দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নে দেওয়া হয়েছে ফরিদ গাজী, আব্দুস ছাত্তার ও হাজী সিদ্দিকুর রহমানের নাম।
ধর্মপাশা উপজেলায়- সদর ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ বিলকিস, বর্তমান চেয়ারম্যান ফখরুল হাসান চৌধরী ও সেলিম আহমদের নাম দেওয়া হয়েছে। এই ইউনিয়নে তৃণমূল থেকে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল হেকিম চৌধুরী’র ছেলে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ফখরুল হাসান চৌধুরী’র নাম দেওয়া হয়নি। জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের তালিকায় পরে ফখরুল হাসান চৌধুরী’র নাম যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নে মোকারম হোসেন ও আমানুর রাজা চৌধুরী’র নাম দেওয়া হয়। সুখাইড় রাজাপুর উত্তরে মনিন্দ্র চন্দ্র তালুকদার ও ফরহাদ আহমদের নাম দেওয়া হয়েছে বলে দলের দায়িত্বশীল এক নেতা বললেও আরেক দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন এই ইউনিয়নে কেবল মনিন্দ্র চন্দ্র তালুকদারের নাম দেওয়া হয়েছে। জয়শ্রী ইউনিয়নে সঞ্জয় রায় চৌধুরী, মুখলেছুর রহমান খোকন, তোফাজ্জল হক সানু, এইচ এম ওয়াসিম’র নাম দেওয়া হয়। সেলবরস ইউনিয়নে আলা উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা নূর হোসেন, বেনিয়ার খান পাঠান ও ছানাউর রহমান ছানার নাম দেওয়া হয়। পাইকরহাটি ইউনিয়নে ফেরদৌসুর রহমান ও মোজাম্মেল হক ইকবালের নাম দেওয়া হয়।
ধর্মপাশার মধ্যনগর থানার বংশিকুন্ডা উত্তরে জামাল উদ্দিন ও আব্দুস ছাত্তারের নাম দেওয়া হয়। বংশিকু-া দক্ষিণ ইউনিয়নে আকরাম হোসেন, সামিউল কিবরিয়া ও আজিম মাহমুদ’এর নাম দেওয়া হয়, উপজেলার মধ্যনগর থানার মধ্যনগর ইউনিয়নে প্রবীর বিজয় তালুকদারের নাম এককভাবে দেওয়া হয়েছে বলে দলের এক দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন। আরেক দায়িত্বশীল নেতা বলেছেন মোবারক হোসেন তালুকদার ও পরিতোষ রায়ের নামও দেওয়া হয়েছে। চামরদানীর বর্তমান চেয়ারম্যান প্রভাকর তালুকদার পান্নার নাম দলের স্থানীয় বিবদমান দুই গ্রুপ থেকেই দেওয়া হয়নি। তবে জেলা আওয়ামী লীগের দেওয়া তালিকায় আলমগীর খসরু, খসরুজ্জামান বাবলু, জাকিরুল আজাদ মান্না, প্রভাকর তালুকদার পান্না ও মোস্তফা কামাল খোকন’র নাম দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নে নবী হোসেন, জামালগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নে জামিল আহমদ জুয়েল, সাচনাবাজার ইউনিয়নে রেজাউল করিম শামীম, ফেনারবাক ইউনিয়নে সাধন তালুকদার ও করুণা সিন্ধু তালুকদারের নাম দেওয়া হয়। বেহেলী ইউনিয়নে ভজন তালুকদারের নাম এককভাবে দেওয়া হয়েছে বলে দলের এক নেতা জানালেও আরেকজন জানিয়েছেন নূর মিয়া নামের আরেকজনের নাম কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডে দেওয়া হয়েছে। তবে ষষ্ঠ ধাপে অর্থাৎ ৪ জুনে সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে জামালগঞ্জ উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিয়নের নির্বাচন হবে না বলে জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ সাদেকুল ইসলাম জানিয়েছেন।
মধ্যনগরের চামরদানী ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাকর তালুকদার পান্না বলেন,‘দলীয় গ্রুপিংয়ের কারণে জনপ্রিয় অনেকের নামই জেলা কমিটির কাছে যায়নি। তবে জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে পরে অনেকের নাম যুক্ত করা হয়েছে। এখন কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডে যার যার মতো করে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা’।
স্থানীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন,‘আমি দলের জন্য যেমন নিবেদিত, একইভাবে ভোটের চিন্তাও আমাকে করতে হয়, এজন্য দলের নেতা বা দলীয় মনোনয়র বোর্ডে আমার পক্ষে কারো একক নাম দেওয়া বা সুপারিশ করা সম্ভব নয়। দায়িত্বশীলদের সঙ্গে প্রার্থিতা নিয়ে যখনই কথা হয়েছে, আমি জনপ্রিয় সকলের নামই বলেছি’।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান বললেন,‘ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ, মধ্যনগর ও তাহিরপুরের ২৩ ইউনিয়নের মধ্যে সম্ভবত. ৭ টিতে একক নাম দেওয়া সম্ভব হয়েছে, অন্যগুলোয় ২ থেকে ৪ টি নামও দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড তাদের কাছে থাকা অন্যান্য সংস্থার জরিপ দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে’। তিনি জানান আজ মঙ্গলবার অথবা আগামীকাল বুধবার রাতেই কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডে ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর ও মধ্যনগরের প্রার্থীতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে এবং সিদ্ধান্তও হয়ে যেতে পারে’।

  • [১]