স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ জেলায় করোনার সংক্রমণ ক্রমেই বাড়ছে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) পিসিআর ল্যাবে করোনা পরীক্ষা শেষে বুধবার রাতে নতুন করে আরও ৪৬ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার খবর জানানো হয়েছে। ছাতক উপজেলায় ১৯ জন, দোয়ারাবাজার উপজেলায় ৯ জন, জামালগঞ্জ উপজেলায় ৬ জন, জগন্নাথপুর উপজেলায় ৩ জন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় ৬ জন, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ২ জন, দিরাই উপজেলায় ১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন জামালগঞ্জ উপজেলার আরেকজন।
গত ১২ এপ্রিল জেলায় করোনা শনাক্তের পর এক দিনে এটিই সর্বোচ্চ সংক্রমণ। এর আগে গত ২ জুন সর্বোচ্চ ৩৯ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এ নিয়ে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩৯৬ জনে পৌঁছাল।
সুনামগঞ্জ জেলার ১১ উপজেলায়ই সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। তবে কিছুটা ভালো অবস্থানে আছে দিরাই উপজেলা। আক্রান্ত হয়েছেন ৮ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭ জন। আর আইসোলেসনে আছেন ১ জন। সর্বোচ্চ ১১৩ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ছাতক উপজেলা থেকে। এরপর ১০৪ জন আক্রান্ত নিয়ে ২য় অবস্থানে রয়েছে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা। তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনায় দেখা যায়, আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৫৫ শতাংশই সুনামগঞ্জ সদর ও ছাতক উপজেলার। বাকি ৪৫ শতাংশ বাকি ৯ উপজেলার।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, অধিক সংক্রমিত এলাকাগুলোর দিকে স্বাস্থ্য বিভাগকে বাড়তি মনোযোগ দিতে হবে। প্রয়োজনে কারফিউ জারি করে মানুষকে ঘরে রাখতে হবে। এসব এলাকা ধরে নমুনা পরীক্ষা করতে হবে। এতে পজিটিভ শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিকে আইসোলেশনে এবং তার সংস্পর্শে থাকা মানুষদের কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া প্রয়োজন। তাহলে এই ভাইরাস প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। অন্যথায় এটি দ্রুত গতিতে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে।
এদিকে কোভিড ১৯ পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়-সুনামগঞ্জে নতুন করে হোম কোয়ারেন্টাইনে গেছেন ৩৩ জন। কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪৯ জন। আইসোলেসনে নেয়া হয়েছে ৪৬ জনকে। আরোগ্য লাভ করেছেন ৭ জন। এছাড়াও বিদেশ প্রত্যাগত আরও ৮ জন প্রবাসী সুনামগঞ্জে এসেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, অদ্যাবদি মোট কোয়ারেন্টিনে এসেছেন ৫৬০৪ জন। পাশাপাশি কোয়ারেন্টিন সম্পন্ন করেছেন ৫২৭৪ জন। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৩৩০ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মোট ৮১ জন। বর্তমানে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৩৩ জন এবং আইসোলেসনে আছেন ৩৯৬ জন। গত ১ মার্চ থেকে বিদেশ থেকে জেলায় এসেছেন ২৫৯৪ জন।
করোনাভাইরাস শনাক্তে এ পর্যন্ত সুনামগঞ্জে ৫ হাজার ১৯০ টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষা করা হয়েছে ৪ হাজার ৪৭৮ টি নমুনা। সবচেয়ে বেশী ৯৩৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ছাতক উপজেলা থেকে। এরমধ্যে রিপোর্ট পাওয়া গেছে ৮৪৪ জনের।
করোনাভাইরাস মহামারির শেষ কোথায় তা কেউ জানে না। তাই দুর্যোগকালে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সাধারণ মানুষের মনোবল। করোনাভাইরাসের দুর্যোগ সামলে নেওয়ার বিষয়টি যদি সত্যি যুদ্ধ হয়ে থাকে, তাহলে এবারও আমাদের মনোবল শক্ত রাখতে হবে। দেশের মানবসম্পদ যদি সাহস নিয়ে এগিয়ে আসে, তাহলে নিশ্চয়ই আমরা এমন দুর্যোগ অতিক্রম করতে পারব।