আকবর হোসেন, জামালগঞ্জ
৫ ডিসেম্বর জামালগঞ্জ মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের ৫ই ডিসেম্বর জামালগঞ্জ উপজেলা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকারদের কবল থেকে মুক্ত হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১১ এপ্রিল পশ্চিমা হানাদার বাহিনী জামালগঞ্জে গানবোট নিয়ে প্রবেশ করে। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী প্রবেশ করার সাথে সাথে এ দেশীয় দালাল, রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনীর সহায়তায় অগ্নিসংযোগ, হত্যা, ধর্ষন, লুটপাটসহ নানা নির্যাতনে মেতে উঠে। দালাল
আর রাজাকারদের সহায়তায় পাক বাহিনী জামালগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় শক্ত ঘাটি গড়ে তুলে। সাচনা বাজার দক্ষিণ মাথার ক্যাম্প ও বাংকারে চালাতো নারী নির্যাতন, ধর্ষণ,হত্যা।
স্বাধীনতা সংগ্রামের শুরুতেই এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে ধানকুনিয়া হাওরের ওয়াপদা বিল্ডিংয়ে অবস্থান রত ৩ জন পাক সেনার অস্ত্র কেড়ে নেয় মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান ও আসাদ উল্লাহ সরকারের নেতৃত্বে একদল মুক্তিবাহিনী। খবর পেয়ে সুনামগঞ্জ থেকে ছুটে আসে পাকসেনারা। এঘটনায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে এর কয়েকদিন পরই জামালগঞ্জ থেকে ধরে নিয়ে যায় কাজী সাদ উল্লাহ,আনসার কমান্ডার আব্দুল জব্বার, মুবাশ্বির আলী ও নির্মলেন্দু ঘোষ চৌধুরীকে। বয়স্ক অবস্থার জন্য মুবাশ্বির আলী ও নির্মলেন্দু ঘোষ চৌধুরী ফিরে এলেও বাকী ২ জন আর ফিরে আসেননি, লাশও পাওয়া যায়নি। সাচনা বাজারের পাক বাহিনীর ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যার পর লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হতো।
৪ ডিসেম্বর ৫ নং সাব সেক্টরের অধীনস্ত তাহিরপুর এলাকা শত্রু মুক্ত হয়,তাহিরপুর সহ আশপাশের বিজয় ধ্বনিও জামালগঞ্জ পর্যন্ত বইতে থাকে। মুক্তিপাগল দামাল ছেলেদের প্রথম দফার আক্রমণেই পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় পাকিস্তানী বাহিনী ও এদেশীয় দালাল রাজাকাররা। পলায়নের সময় জামালগঞ্জের ৩০ জনের অধিক রাজাকার ও পাকিস্তানী সৈন্য আত্মসর্মপন করেন।
স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর একবারই প্রথম সরকারী ভাবে জামালগঞ্জ উপজেলায় জামালগঞ্জ মুক্তদিবস পালনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।