- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

আজ মৃত্যুদিবস স্মরণে মৃদুল চক্রবর্তী

অভিজিৎ চৌধুরী
২০১১ ইংরেজির ১৫ আগস্ট ড. মৃদুল চক্রবর্তীর মৃত্যুদিবস। মৃদুল চক্রবর্তীর জন্ম সুনামগঞ্জের উকিলপাড়াস্থ এক সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক পরিবারে। ১৯৬৬ ইংরেজি থেকে শুরু হয়ে ১৯৮০-৮১ পর্যন্ত ঐ পরিবারকে ঘিরেই সুনামগঞ্জের বৃহদাংশের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মকা- পরিচালিত হতো। মৃদুল চক্রবর্তীর মা প্রয়াত দিপালী চক্রবর্তী ছিলেন সুনামগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনের এক সাহসী ও ত্যাগী মহিলা। উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক কর্মকা- উনার বাড়িকে ঘিরে পরিচালিত হতো। সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কারণেই উনার বাসায় আমার যাতায়াত বেশি ছিল। বলতে গেলে মৃদুল চক্রবর্তীর বড় বোন রতœা চক্রবর্তীর কাছেই আমার গানের হাতেকড়ি। প্রয়াত মৃদুল চক্রবর্তীর রতœা চক্রবর্তীর ছোট ভাই। ৭০’এর দশকের শুরুর দিকে মৃদুল চক্রবর্তীকে আমি মাঝে মাঝে খালি গলায় গান করতে শুনেছি। ১৯৭৬ ইংরেজির প্রথম দিকে হঠাৎ করে শুনলাম মৃদুল (আমার ভাই ও বন্ধু) বৃত্তি নিয়ে শান্তিনিকেতনে চলে যাচ্ছে। এরপর থেকে নানান কারণেই তাঁর সঙ্গে আমার যোগাযোগ কমে গিয়েছিল। ১৯৮৮ ইংরেজিতে বিশ্ব লোকসঙ্গীত ও রবীন্দ্রসঙ্গীতের সম্পর্কের উপর শান্তি নিকেতন থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করে মৃদুল। তৎপরবর্তীতে চাকুরির সুবাধে আমাকেও সুনামগঞ্জের বাইরে অনেকদিন থাকতে হয়। হঠাৎ কোনদিন দেখা সাক্ষাৎ হলে সৌজন্য সম্বোধন ছাড়া আর কোন কিছুই বিশেষ আলাপ হতো না। ১৯৯১ ইংরেজিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত ও নাট্যকলা বিভাগের  
প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মৃদুল। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত এই পদেই সে বহাল ছিল। মারা যাওয়ার দুই-তিন বছর আগে থেকেই তাঁর সঙ্গে আমার প্রতিদিন রাতেই মোবাইলের মাধ্যমে গান-বাজনা নিয়ে আলোচনা হতো। আমাকে প্রায়শই বলতো চাকুরি ছেড়ে ঢাকায় চলে আয়, তোকে আমি বাংলাদেশের বড় শিল্পী বানিয়ে দেব। কিন্তু হলো না। ২০১১ ইংরেজির ১৫ আগস্ট চিকিৎসা বিভ্রাটের কারণে অকালে আমাদের ছেড়ে মৃদুল চলে গেল। এক ধ্রুবতারার পতন হলো। সুনামগঞ্জের শিল্পী সমাজের অনেকেই হয়তো ড. মৃদুল চক্রবর্তী’র বিষয়ে জানেন না। মৃদুল চক্রবর্তী ছিল বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক প্রতিভাবান ব্যক্তিত্ব। যার গানের পরিধি ছিল বিশাল। আমরা সুনামগঞ্জের মানুষেরা তাকে ঠিকভাবে বুঝি নাই, কিন্তু যারা চেনার তাকে ঠিকই চিনেছিল। এই না চেনার লজ্জ্বা আমারও। হঠাৎ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক পঙ্কজ’এর ফোন পেলাম। দাদা কাল মৃদুলদার মৃত্যুবার্ষিকী, এক ঘণ্টার মধ্যে যা পারেন লিখে আনেন। কী করবো? কিছু না লেখার লজ্জাতো আমারও। তাই ছোট আকারে যা পেরেছি তা’ই লিখলাম। ভুল ত্রুটি পত্রিকার পাঠকেরা ক্ষমা করে দেবেন বলেই বিশ্বাস করি।

  • [১]