- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

আজ শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস/ তোমাদের এই ঋণ কোনো দিন শোধ হবে না

আজ শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস। একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয় অর্জনের পূর্বমুহূর্তে পাক হানাদার বাহিনি তাদের এদেশীয় দোসরদের সহায়তায় বেছে বেছে হত্যা করে দেশের নানা পেশার বহু মেধাবী ব্যক্তিকে। এরা কেউ পেশায় ডাক্তার, কেউ আইনজীবী, কেউ শিক্ষক, কেউ ছিলেন সাংবাদিক। ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে অধিক সংখ্যক বুদ্ধিজীবীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হলেও এর সূচনা ঘটে ২৫ মার্চের কালো রাত থেকেই। এরপর পুরো যুদ্ধমেয়াদেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় দেশপ্রেমিক মেধাবী বুদ্ধিজীবীরা পাকবাহিনির হত্যাকা-ের শিকার হতে থাকেন। বিজয় অর্জনের পর প্রতি বছর ১৪ ডিসেম্বর তারিখে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করা হয় শোক ও শ্রদ্ধার সাথে। এই পবিত্র দিনে দেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মোৎসর্গকারী শহিদ বুদ্ধিজীবীদের অমর স্মৃতির প্রতি আমরা শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।
বিজয় অর্জনের আগে কেন বুদ্ধিজীবীদের লক্ষ্যবস্তু করে হত্যার নীলনকশা তৈরি করা হয়েছিলো? এই প্রশ্নের জবাবে বলা যায়, পাকবাহিনী ও তাদের দেশীয় দোসররা যখন বুঝল পরাজয় নিশ্চিত, তখন স্বাধীন দেশটি যাতে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে দুর্বল হয়ে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হয়ে যায়; সে জন্যই তারা এই বর্বরোচিত হত্যাকা- চালিয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ রাষ্ট্রটি নানা ঘাত প্রতিঘাতের ভিতর দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে গিয়ে প্রমাণ করেছে যে, এই ভূখ-টি কখনও পরাভব মানতে রাজি নয়। হত্যাকা-ের শিকার নানা শ্রেণি-পেশার বুদ্ধিজীবীগণ নিজের কর্ম ও আদর্শ দিয়ে এমন একটি শক্ত ভিত্ রচনা করে দিয়েছিলেন যার উপর দাঁড়িয়ে এই দেশটি বিশ্বের বিস্ময় হতে একবিন্দু থমকে যেতে রাজি নয়। বর্তমান পাকিস্তানের চাইতে আমাদের স্বাধীন দেশটি এখন মানবসম্পদ উন্নয়নের বিভিন্ন সূচক ও রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক মানদ-ে অনেক এগিয়ে যেয়ে সেই সত্যই প্রমাণ করেছে। শহিদ বুদ্ধিজীবীদের চিরঅম্লান আদর্শের পতাকা এইভাবে উর্দ্ধে তুলে ধরার নামই তাঁদের অমর স্মৃতির প্রতি অবিচল শ্রদ্ধা জানানোর সর্বোত্তম পন্থা। তবে অগ্রগতির পথপরিক্রমা যে একেবারে সরলরৈখিক তা বলা যাবে না। নানা চক্রান্ত ষড়যন্ত্র, বিচ্যুতি, লক্ষ্যহীনতা ছিল-আছে। এসব মোকাবিলা করেই বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে। অর্ধ শতাব্দীর অধিক কালের এই যাত্রাপথে তৈরি হয়েছে বহু আবর্জনা। বিশেষ করে একটি লুটেরা শ্রেণির আবির্ভাব আমরা দেখি যারা দেশের সম্পদ লুণ্ঠন করে বিদেশে পাচার করে জাতীয় বিকাশের চাকাকে পিছনে ঠেলে দিয়েছে। এই লুটেরা শ্রেণির বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন করে সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয়টি নিশ্চিত করা এখনকার মহান কর্তব্য। এই কর্তব্য সাধনে শহিদ বুদ্ধিজীবীরাই হতে পারেন অনুপ্রেরণার উৎস।
দেশে যুদ্ধাপরাধ বিচার শুরু হয়েছে। বুদ্ধিজীবীদের হত্যাকা-ের সাথে জড়িত কিছু যুদ্ধাপরাধীর বিচার শেষ হয়ে সাজাও কার্যকর হয়েছে। এই বিচার চলমান আছে। দেশে যতদিন একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে ততদিন পর্যন্ত এই বিচার ব্যবস্থা চালু থাকবে। স্বাধীনতার মহান চেতনার ধারায় দেশ পরিচালনা করতে এই বিচার ব্যবস্থার গুরুত্ব অপরিসীম। দুঃখের বিষয় হলো, স্বাধীনতার ৫০ বছর অতিক্রান্ত হলেও আমরা শহিদ বুদ্ধিজীবীদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখন পর্যন্ত তৈরি করতে পারিনি। ২০২০ সনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত একটি প্রাথমিক তালিকা মোতাবেক শহিদ বুদ্ধিজীবী সংখ্যা ১২২২ জন বলে জানা যায়। তবে বুদ্ধিজীবীর সংজ্ঞা নির্ধারণ করে সারা দেশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করা হলে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আমরা শহিদ বুদ্ধিজীবীদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।
শহিদ বুদ্ধিজীবীগণের স্মৃতির প্রতি আবারও বিন¤্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।

  • [১]