- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

আজ শ্রীরামসি গণহত্যা দিবস

জগন্নাথপুর অফিস
আজ ৩১ আগস্ট শ্রীরামসি গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর একটি দল তাদের এদেশীয় দালালদের সহযোগিতায় জগন্নাথপুর উপজেলার শ্রীরামসীতে দুটি জায়গায় দাঁড় করিয়ে ১২৬ জন নিরীহ গ্রামবাসীকে পেছন দিক থেকে গুলি করে হত্যা করে। মর্মস্পর্শি হত্যাকা-ের পর হানাদার বাহিনী শ্রীরামসী গ্রাম ও বাজারের প্রায় তিনশ’ ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। আগস্টের এই দিনে শহীদদের স্বজনরা সহ পুরো এলাকাবাসী কাঁদেন।
স্থানীয়রা জানান, মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতে জগন্নাথপুর উপজেলার মীরপুর ইউনিয়নের শ্রীরামসী বাজারে পাকহানাদারদের কয়েকজন দালাল নৌকা নিয়ে এসেছে শুনে গ্রামবাসী ক্ষেপে যায়। এলাকাবাসীর মনোভাব বুঝতে পেরে দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালায় দালালরা। এর কয়েকদিন পরই ১৯৭১ সালের ৩১শে আগস্ট সকাল ৯টার দিকে পাকহানাদারদের একটি দল শ্রীরামসী উচ্চ বিদ্যালয়ে এসে দেশীয় দালালদের মাধ্যমে শান্তিরক্ষার জন্য স্কুলে সভা হবে বলে প্রচারণা চালায়। পুরো এলাকার মানুষ ঝামেলা এড়ানোর জন্য স্কুলে সমবেত হতে থাকে। সকাল ১০টায় পাকহানাদার বাহিনী উপস্থিত ১২৬ জন গ্রামবাসীকে দুই রশি দিয়ে এক জনের সঙ্গে আরেক জনকে বেঁধে ওয়াজিদ উল্লার পুকুর পাড়ে ও শহীদ নজির মিয়ার বাড়িতে নিয়ে যায়। ওখানে নিয়ে মেশিনগান দিয়ে গুলি করে ঝাঁজরা করে দেয়া হয় সকলের বুক। নিহতদের মধ্যে ছিলেন ছাত্র, শিক্ষক, সরকারী কর্মচারী, যুবক, সাধারণ গ্রামবাসী ও বেড়াতে আসা স্বজন। ভীত সন্ত্রস্ত মানুষজন গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে গেলে দাফনের অভাবে লাশগুলো কুকুর, শেয়াল টানা হেঁছড়া করে। ঘটনার ৪/৫দিন পর কয়েক জন লোক গ্রামে ফিরে লাশগুলো একটি গর্তে পুঁতে রাখে।
শ্রীরামসী শহীদ স্মৃতি সংসদের সভাপতি মুৃহিবুর রহমান জানান, নারকীয় এই হত্যাকা-ের ঘটনায় আজও মানুষ কাঁদছে। এ দিনকে ঘিরে শহীদদের স্মরণে আমাদের সংগঠনের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হবে।

  • [১]