স্টাফ রিপোর্টার
পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান কবি ও গবেষক ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেছেন, ‘সুনামগঞ্জের শিল্প-সংস্কৃতির ইতিহাস বহুকাল আগে থেকেই সমৃদ্ধ। আমরা রাজধানীতে গিয়ে বুঝতে পেরেছি সুনামগঞ্জের সংস্কৃতিকর্মীরা কত বেশি গুণী। অথচ. জাতীয়ভাবে তাঁদের অনেকেই স্থান করতে পারেন নি। এটি মফস্বলের প্রতি এক ধরনের অবজ্ঞা।’ তিনি বলেন, ‘এজন্য হতাশ হবার কিছু নেই। স্থানীয়ভাবে কাজ করুন, মনের মধ্যে বিশ্বকে রাখুন। অঞ্চলের বা আঞ্চলিক ইতিহাস সমৃদ্ধ হলেই জাতীয় ইতিহাস সমৃদ্ধ হবে।’
জেলা পর্যায়ে বিশেষ অবদানের জন্য সুনামগঞ্জ জেলার দশজন গুণী ব্যক্তিত্বকে ‘জেলা শিল্পকলা একাডেমী সম্মাননা ২০১৫ ও ২০১৬’ প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মোহাম্মদ সাদিক এমন মন্তব্য করেন।
ড. সাদিক বলেন, ‘সুনামগঞ্জের জনপ্রতিনিধিরা গুণী। এজন্যই সুনামগঞ্জে জেলা প্রশাসক ভাল আসেন, পুলিশ সুপার বা অন্য কর্মকর্তা সংস্কৃতি চর্চাকে উৎসাহিত করেন। শহরের বা জেলার প্রতিবেশ-পরিবেশও এর ফলে ভাল হয়। যে জেলায় এমএ মান্নানের মতো মন্ত্রী রয়েছেন, সেখানকার অগ্রগতি অবশ্যই থেমে থাকবে না।’
তিনি জেলা প্রশাসক ও জেলা শিল্পকলা একাডেমীর কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘গুণিজনদের মরনোত্তর সংবর্ধনার আয়োজন করা যেতে পারে। তাতে গুণিজনদের বিষয়ে জানাও হবে, অসাধারণ ইতিহাসের অধ্যয়ন হবে।’
তিনি ডা. তরণী কান্ত দে, ওস্তাদ এমরান আলী, দেওয়ান মহসিন রেজা ও সাব্বির আহমদ সোহেলসহ প্রয়াত অনেক গুণিজনদের স্মরণ করেন। এখনো মঞ্চ মাতিয়ে রাখা প্রবীণ শিল্পী দ্বিগি¦জয় চৌধুরী, অভিজিৎ চৌধুরীসহ আজকে যাদের শিল্পকলা সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে, তাঁদের অবদানের কথা উপস্থিত সুধীজনদের কাছে তুলে ধরেন।
তিনি সম্মাননা প্রাপ্ত ফজলুল কবির তুহিনের অভিনয়শৈলী উঁচু মানের মন্তব্য করে বলেন, ‘আমরা তুহিনের প্রতি অবিচার করেছি, তুহিন নিজে তাঁর প্রতি অবিচার করেছেন, জাতিও তাঁর যথাযথ মূল্যায়ন করেন নি।’
তিনি সুনামগঞ্জের প্রয়াত রাজনীতিক আব্দুস সামাদ আজাদ, বরুণ রায়সহ ত্যাগী দেশপ্রেমিক রাজনীতিকদের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘গুণিজনদের সম্মান জানাতে হবে, না হয় বীরের জন্ম হবে না।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লে. কর্ণেল নাছির উদ্দিন আহমেদ পিএসসি বলেন, ‘সুনামগঞ্জ সংস্কৃতিসেবী তীর্থ ক্ষেত্র। এখানকার মাটি, পানি, বাতাসই সংস্কৃতীকর্মী তৈরি করার উপযোগী।’
অ্যাডভোকেট হুমায়ুন মঞ্জুর চৌধুরী বলেন, ‘সুনামগঞ্জে নির্মলেন্দু চৌধুরীর মতো গুণী শিল্পীর জন্ম, যিনি বিশ্বব্যাপি হাছন রাজাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।’
ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বলেন, ‘আমরা সেই জাতি, যে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর বক্তব্য ইউনেস্কোর শ্রেষ্ঠ বক্তব্যের একটি হয়েছে। বঙ্গবন্ধু মানুষের জন্য রাজনীতি করতেন। রাজনীতিতে স্খলন ঘটায় এখন কোন মেধাবী রাজনীতি করার আকাঙ্খা ব্যক্ত করে না। এই অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে দিন দিন। আগামী প্রজন্ম রাজনীতি করার স্বপ্ন দেখবে।’
জেলা উদীচীর সভাপতি শীলা রায় ও কবি রোকেস লেইস বলেন, ‘সুনামগঞ্জের সংস্কৃতিকে উর্ধ্বে তুলে ধরতে কাজ করবো আমরা।’
জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সভাপতি, জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও জেলা কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরী পাভেলের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় এছাড়াও বক্তব্য দেন- জেলা শিল্পকলা একাডেমীর কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট খলিল রহমান।
আলোচনা সভা শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামছুল আবেদীনের সঞ্চালনায় শুরু হয় জেলা শিল্পকলা একাডেমী সম্মাননা প্রদান পর্ব। এসময় অতিথিদের হাত থেকে জেলা শিল্পকলা সম্মাননা গ্রহণ করেন- নাট্যজন ফজলুল কবির তুহিন, আ ত ম সালেহ, রমেন্দ্র ভট্টাচার্য, মোহাম্মদ আবু নাসের, বাউল তছকির আলী, দিপেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী। প্রয়াত ফটিক চন্দ, অংশুমান দাশ ও বেলা চক্রবর্তীর পক্ষে তাঁর স্বজনরা সম্মাননা গ্রহণ করেন। প্রবাসে থাকা শিল্পী দিলাউর রহমান মুজিবের পক্ষে তাঁর স্বজনরা সম্মাননা গ্রহণ করেন, ।
এই পর্ব শেষে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।