সোহেল তালুকদার, দ. সুনামগঞ্জ
পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির প্রভাবে অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর পানি। এতে করে নতুন করে শুরু হয়েছে নদী ভাঙন। ভাঙনের কবলে পড়ে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের একটি অংশ। এছাড়াও আশপাশের ৩ গ্রামের প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার নদী ভাঙনের কবলে পড়েছে। অনেকের বসত বাড়ী নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে সুরমা নদীর ভাঙ্গন অব্যাহত থাকায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে ওই এলাকার পাঁচ শতাধিক পরিবারের সহস্রাধিক মানুষ। এদিকে ভাঙন প্রতিরাধে কোনো প্রকার সহযোগিতা না পেয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্রামবাসীরা। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার শিমুলবাঁক ইউনিয়নের সর্দারপুর-ধনপুর ও আমরিয়া গ্রামের প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকায় সুরমা নদীর ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। এ ভাঙনের কবলে পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সহ ধনপুর সর্দারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন ও নতুন ভবন। বিদ্যালয়টি ১৯৩৫ সালে নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ের একটি টিনসেড পাকা ভবনের অর্ধেক ও বিদ্যালয়ের মাঠের একটি অংশ সুরমা নদীর ভাঙনে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বিদ্যালয়ের দুই পাশে প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে আশপাশের বসত বাড়ীতেও ভাঙ্গন শুরু হয়েছে।
বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী বসত বাড়ীর বাসিন্দা জয়নাল মিয়া, জসিম উদ্দিন, সাদু আলী, মহর উদ্দিন, জুনা বেগম ও দিলা হোসেনদের বসত বাড়ীর অধিকাংশ অংশ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখন নদী ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন তারা। তারা জানান, আমাদের অনেক জমি ছিলো, বাড়ি, ঘর ছিলো, ভাঙনের কবলে পড়ে আমাদের আগের ঘর বাড়ি ও জমি অনেক আগেই নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখন শুধু মাত্র মাথাগুজার একমাত্র জায়গাটুকু বাকি রয়েছে, সেখানেই প্রতি দিন রাত নিদ্রাহীন ভাবে কাটাচ্ছি আমরা। কখন যেনো এই বাড়ি ঘর গুলো নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায় এই ভয়ে। আমাদের এই আশ্রয়টুকু বিলীন হয়ে গেলে পথে নামতে হবে। কেউ আমাদের খোঁজ খবর নেয় নাই। আমাদের বসত বাড়ীর রক্ষায় কোন সরকারি উদ্যোগ নেই। পাশের বিদ্যালয়টিও নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার পথে। সরকার ইচ্ছা করলে সবই পারে। নদীতে এখন প্রবল স্রোত, যে কোন সময় আমাদের বসত বাড়ীগুলো ভেঙে যাবে।
ধনপুর গ্রামের গৃহবধূ জুনা বেগম জানান, স্বামীর বসত বাড়ী নদী গর্ভে চলে গেলে কোথায় গিয়ে থাকবো। ভেবে কোন কিনারা পাচ্ছি না। সরকার যদি নদী ভাঙ্গন আটকায়, তাহলে আমাদের জানমাল বেঁচে যায়। আমাগো কান্নায় কারও কিছু আসে যায় না। তারা আরও জানান, নদী ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে শিগগিরই আমাদের বসতঘর সহ গ্রাামের ৫ শতাধিক মানুষের বসত ঘর নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।
শিমুলবাঁক ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান জিতু জানান, ধনপুর-সর্দারপুর ও আমরিয়ার একটি অংশ সুরমা নদীর ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে। ধনপুর-সর্দারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ইতিমধ্যে স্থানান্তরের জন্য জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নদী ভাঙন কবলিত পরিবারের ভিটে মাটি রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। ইতিমধ্যে আমি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগযোগ করেছি এবং নদী ভাঙনের বিষয়টি অবগতও করেছি।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনোয়ার উজ জামান বলেন, শীঘ্রই নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সামছুদ্দোহা জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। সরেজমিনে শিমুলবাঁক ইউনিয়নেরধনপুর-আমরিয়া-সর্দারপুর গ্রামের সুরমা নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।