ছাতকে সরকারের বিশেষ বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ করায় বরাদ্দকৃত অর্থের দ্বিগুণ পরিমাণ টাকা ফেরত দেয়ার জন্য আত্মসাৎকারীকে চিঠি দিয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। ছাতক সদর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুল মালিককে গত বুধবার এই নোটিশ জারি করা হয়েছে। সদর ইউনিয়নের বড়বাড়ি গ্রাম পর্যন্ত রাস্তায় মাটি ভরাট কাজের বিপরীতে কাবিটা প্রকল্পের আওতায় ২ লাখ ২৯ হাজার ১২৪ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। অভিযুক্ত মেম্বার বরাদ্দের ৫০ ভাগ টাকা উত্তোলন করেছিলেন। পরবর্তীতে ওই কাজের উপর অভিযোগ দাখিল করা হয় প্রশাসনের নিকট। তদন্তে প্রকল্পের কাজে অনিয়ম-দুর্নীতি প্রমাণিত হয়। তদন্তের প্রেক্ষিতে তাকে গৃহিত অর্থের দ্বিগুণ পরিমাণ টাকা ফেরতের এই চিঠি দেয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ যদি তাদের সিদ্ধান্ত মত এই টাকা আত্মসাৎকারী মেম্বারের নিকট থেকে সত্যিকার অর্থে আদায় করতে সমর্থ হন তাহলে সেটি সুশাসনের একটি বড় নজির হয়ে থাকবে। আমরা এই ঘটনার পরবর্তী অধ্যায়টুকু জানার জন্য অধীর আগ্রহে বসে রইলাম।
সরকারি বিভিন্ন বরাদ্দের টাকা হরিলুট করা এখন একেবারে ডাল-ভাত হয়ে গেছে। এইসব বরাদ্দ যেন দেয়াই হয় জড়িতদের উন্নয়নের জন্য, এরকম মনোভাব এখন প্রকট। তবে জনসাধারণের একটি অংশের নজরদারিত্ব কিছু জায়গায় বজায় থাকার কারণে মাঝে-মধ্যে এই হরিলুটের জন্য অভিযোগ দায়ের করা হয়। ছাতকের আলোচ্য ঘটনাটি হলো সেরকম একটি বিরল দৃষ্টান্ত মাত্র। এই অভিযোগের আলোকে এখন পর্যন্ত যে ন্যায়সঙ্গত বিচার হয়েছে তা কার্যকর করা গেলে উন্নয়ন কাজে এরূপ জনতদারকি ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। আর এরূপ জনতদারকি এইসব দুর্নীতি ঠেকাতে সবচাইতে বড় কার্যকর ভূমিকা রাখে। ছাতকের প্রশাসনকে এই জিনিসটি বুঝে অভিযুক্ত মেম্বারকে দ- মেনে নিতে বাধ্য করতে হবে। তাহলে অপরাপর ক্ষেত্রে জড়িত ব্যক্তিরা নিজেদের কিছুটা হলেও সংশোধন করার প্রয়াস পাবেন।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক শনিবার শাল্লার এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘জনগণের টাকা নিয়ে জনগণের কাজ না করে টাকা উপার্জন করা হারাম’। জনগণের দেয়া কর থেকে সরকারি কর্মচারিদের বেতন নেওয়াটাকেই তিনি উপার্জন নামে অভিহিত করেছেন। এটা তো সত্যই, যে উদ্দেশ্যে সরকার আপনাকে পরিপালন করছেন, সেটি না করলে আপনি সকল বিবেচনায়ই অনৈতিক বলে বিবেচিত হবেন। আমাদের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে জনবান্ধব ও দুর্নীতিমুক্ত করা বর্তমান সময়ের সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ। এটি জটিল চ্যালেঞ্জ এ কারণে যে, রাজনৈতিক ব্যবস্থায় দুর্নীতি বন্ধ করতে না পারলে প্রশাসনিক দুর্নীতি বন্ধ করাটা কঠিন। রাজনৈতিক পর্যায়ের অনিয়ম-দুর্নীতি রোধ করাটা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ। সেখানে রাজনীতিবিদরা ঠিক করবেন কোন উপায়ে সেখান থেকে উত্তরণ ঘটানো সম্ভব। একজন জেলা প্রশাসক যে ধরনের আকাক্সক্ষা পোষণ করছেন তাকে সমর্থন জুগিয়ে যাওয়া সকলের দায়িত্ব। এই আকাক্সক্ষা হলো সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য অতিআবশ্যকীয় একটি জিনিস।
ছাতকের একজন মেম্বার সরকারি টাকা আত্মসাতের মতো দুঃসাহস দেখাতে পারছেন একটি দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক-প্রশাসনিক ব্যবস্থার কারণে। জেলা প্রশাসক সেখানে নিজের স্পষ্ট অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন। ছাতকের উপজেলা প্রশাসনকে এখন দায়িত্ব নিয়ে অভিযুক্ত মেম্বারের নিকট থেকে দ-কৃত অর্থ আদায় করে জেলা প্রশাসকের আকাক্সক্ষার সাথে সংহতি ঘোষণা করতে হবে।