বিশেষ প্রতিনিধি
জালিয়াতির মাধ্যমে সুনামগঞ্জ জেলা জজ আদালতের হিসাব শাখা থেকে অগ্রক্রয় মামলার প্রায় ১৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেবার ঘটনায় দুই আইনজীবী, এক অবসরপ্রাপ্ত হিসাব রক্ষক এবং আরেক অবসরপ্রাপ্ত জারিকারকসহ ৪ জনকে জেল হাজতে পাঠিয়েছে আদালত। সোমবার বিকাল ৫ টায় সদর আদালতের বিচারক চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. রহিবুল ইসলাম গ্রেফতারকৃতদের জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আইনজীবী মাজহারুল ইসলাম ও রেজাউল করিম এবং অবসরপ্রাপ্ত হিসাব রক্ষক ঘেনু রায়কে রোববার বিকাল সাড়ে ৩ টায় আদালত এলাকা থেকে এবং অবসরপ্রাপ্ত জারিকারক আব্দুছ ছোবহানকে একইদিন রাতে ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
জেলা জজ আদালতের ২০০৭ সালের বিবিধ অগ্রক্রয় ৭ নম্বর মামলা সোলেসূত্রে (আপোসে) নিস্পত্তি হয়েছিল। মামলা নিস্পত্তির পর প্রতিপক্ষের আইনজীবী আলী আহমদ মূল আদালতে দরখাস্তের সঙ্গে পেমেন্ট অর্ডার দাখিল করেন। মূল আদালতে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবার পর তা পরিশোধের জন্য হিসাব শাখায় প্রেরণ করা হয়। হিসাব শাখায় পেমেন্ট অর্ডার যাওয়ার পর পেমেন্ট অর্ডার রেজিস্টার পর্যালোচনা করে দেখা যায় ঐ অগ্রক্রয় মামলাটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায়ই মাজহারুল ইসলাম নামের একজন আইনজীবী হিসাব শাখায় সরকারি পেমেন্ট অর্ডার দাখিলক্রমে ঐ মামলার চার লাখ ২০ হাজার টাকার চেক উত্তোলন করে নিয়েছেন। জেলা হিসাব রক্ষণ অফিস থেকে মাজহারুল ইসলাম চেক গ্রহণ করেছেন এবং নিজ ব্যাংক হিসাবে জমা দিয়ে তা নগদায়ন করেছেন। এভাবে বিভিন্ন সময়ে একই পন্থায় আরো ৪ টি অগ্রক্রয় মামলার জমা টাকা আইনজীবী মাজহারুল ইসলাম গ্রহণ করেন এবং আইনজীবী রেজাউল ইসলাম ১ টি মামলার টাকা গ্রহণ করেন। এই জালিয়াতির ঘটনায়
ঐ দুই আইনজীবী এবং সাবেক হিসাব রক্ষক ঘেণু চন্দ্র রায়কে রোববার জেলা ও দায়রা জজ শহীদুল আলম ঝিনুকের নির্দেশে বিকাল সাড়ে ৩ টায় আদালত এলাকা থেকে আটক করে পুলিশ। গ্রেফতারের পর ঐ ৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ এই ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত জারিকারক আব্দুছ ছোবহানের সম্পৃক্ততা পায়।
রোববার সন্ধ্যায় জেলা জজ আদালতের তৎকালীন জারিকারক (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) আব্দুছ ছোবহানের সুনামগঞ্জ শহরের বনানীপাড়ার বাসভবনে যায় পুলিশ। পরে তাঁর স্ত্রীকে দিয়ে ফেনীর ছাগলনাইয়ায় অবস্থানরত ছোবহানকে কৌশলে ছাগলনাইয়া থানায় পাঠায় পুলিশ এবং ওখানেই তাকে আটক করা হয়। সোমবার বিকাল ৪ টায় গ্রেফতারকৃত এই ৪ জনের বিরুদ্ধে জেলা জজ আদালতের প্রশাসন বিভাগের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর সিফাত শাহ্রিয়ার বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহীদুল্লা জানান, আদালতের অর্থ জালিয়াতির ঘটনায় মামলা হয়েছে। ঐ মামলায় ৪ জনকে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আমলগ্রহণকারী সদর জোন আদালতের বিচারক।