বিশেষ প্রতিনিধি
জালিয়াতির মাধ্যমে সুনামগঞ্জ জেলা জজ আদালতের হিসাব শাখা থেকে অগ্রক্রয় মামলার প্রায় ১৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেবার ঘটনায় অ্যাড. মাজহারুল ইসলাম ও অ্যাড. মোহাম্মদ রেজাউল করিম নামের দুই আইনজীবী এবং সুনামগঞ্জ জেলা জজ আদালতের সাবেক হিসাব রক্ষক ঘেনু চন্দ্র রায়কে আটক করেছে পুলিশ। বিকাল সাড়ে তিনটায় জেলা ও দায়রা জজের নির্দেশে আদালত এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
সুনামগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের একাধিক আইনজীবী জানান, ২০০৭ সালের বিবিধ অগ্রক্রয় ৭ নম্বর মামলা সোলেসূত্রে নিস্পত্তি হয়। মামলা নিস্পত্তির পর প্রতিপক্ষের আইনজীবী আলী আহমদ মূল আদালতে দরখাস্তের সঙ্গে পেমেন্ট অর্ডার দাখিল করেন। মূল আদালতে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবার পর তা পরিশোধের জন্য জন্য হিসাব শাখায় প্রেরণ করা হয়। হিসাব শাখায় পেমেন্ট অর্ডার যাওয়ার পর পেমেন্ট অর্ডার রেজিস্টার পর্যালোচনা করে দেখা যায় ঐ অগ্রক্রয়ের মামলাটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় অ্যাডভোকেট মাজহারুল ইসলাম নামের একজন আইনজীবী হিসাব শাখায় সরকারি পেমেন্ট অর্ডার দাখিলক্রমে ঐ মামলার চার লাখ ২০ হাজার টাকার চেক উত্তোলন করে নিয়েছেন। জেলা হিসাব রক্ষণ অফিস থেকে অ্যাডভোকেট মাজাহারুল ইসলাম চেক গ্রহণ করেছেন এবং নিজ ব্যাংক হিসাবে জমা দিয়ে তা নগদায়ন করেছেন। এভাবে একই পন্থায় ২০০৯ সালের বিবিধ অগ্রক্রয়ের
১৬ নম্বর মামলার তিন লাখ ২৪ হাজার ৭৫০ টাকা, ২০১৩ সালের তিন নম্বর মামলার তিন লাখ ৮১ হাজার ৮২৫ টাকা, ২০০৫ সালের ৪১ নম্বর মামলার দুই লাখ ১৩ হাজার ৪০০ টাকা এবং ২০০৭ সালের ৯ নম্বর মামলার চার লাখ ২০ হাজার টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে তুলে অ্যাডভোকেট মাজহারুল ইসলামের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে নগদায়ন হয়।
২০১২ সালের ২২ নম্বর অগ্রক্রয় মামলার দুই লাখ ৩১ হাজার টাকা একই কায়দায় উত্তোলন হয় এবং এই চেকটি আইনজীবী মোহাম্মদ রেজাউল করিম’এর ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে নগদায়ন হয়। জালিয়াতির এই সংবাদ শুক্রবার দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে ছাপা হয়।
জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকট আব্দুল হক জানান, রোববার বেলা ২ টায় জেলা ও দায়রা জজ শহীদুল আলম ঝিনুক জেলা আইনজীবী সমিতির জ্যেষ্ঠ আইনজীবীগণ এবং আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ডেকে এই বিষয়ে অবহিত করেন এবং এমন অপরাধ কর্মের আইনগত ব্যবস্থা নেবার জন্য সহযোগিতা চান। এসময় আইনজীবীগণ জেলা ও দায়রা জজকে আইনগত ব্যবস্থা নেবার পক্ষে মতামত দেন এবং সহযোগিতারও আশ্বাস দেন।
বিকাল সাড়ে ৩ টায় জেলা ও দায়রা জজের নির্দেশে পুলিশ ঐ দুই আইনজীবী এবং তৎকালীন হিসাব রক্ষক ঘেনু চন্দ্র রায়কে আটক করে।
সুনামগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহীদুল্লা জানান, জেলা ও দায়রা জজের নির্দেশে ঐ দুই আইনজীবী এবং সাবেক হিসাব রক্ষককে আটক করা হয়েছে।