জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুরের কৃতী সন্তান উপজেলার পাটলী ইউনিয়নের প্রভাকরপুর গ্রামের বাসিন্দা বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক বৃটিশ রাষ্ট্রদূত আনোয়ার চৌধুরীর ওপর বোমা হামলার ঘটনায় মুফতি হান্নানসহ ৩ জঙ্গির ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ায় জগন্নাপুরবাসী আনন্দিত। রায় বাস্তবায়নের পর এক প্রতিক্রিয়ায় পাটলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজুল হক বলেন, পাটলীতথা সারাদেশের গর্ব সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলার ঘটনায় তিন জঙ্গির ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় আমরা আনন্দিত। ন্যায়বিচার পাওয়ায় ইউনিয়নের একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে ভাল লাগছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বিজন কুমার দেব বলেন, সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী জগন্নাথপুর তথা বাঙালি জাতির গর্ব। তাঁর ওপর গ্রেনেড হামলার অভিযুক্ত তিন জঙ্গির ফাঁসি হওয়ায় ন্যায় বিচারপ্রাপ্তির বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। সেই সাথে জঙ্গিবাদ নিমূলে এই দন্ড কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
জগন্নাথপুর উপজেলার ২নং পাটলি ইউনিয়নের প্রভাকরপুর চৌধুরী বাড়ির বাসিন্দা আনোয়ার চৌধুরীর চাচাতো ভাই শাহ রুমি চৌধুরী বলেন, ‘আনোয়ার চৌধুরী বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে নতুনভাবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। তার ওপর জঙ্গিরা গ্রেনেড হামলা করে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। আদালতে হামলাকারিদের ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ায় আমরা খুশি।’ আর যেন কেউ কারও ওপর জঙ্গি হামলা করতে না পারে সেজন্য তিনি সরকারের সজাগ দৃষ্টি রাখার দাবি জানান।
আনোয়ার চৌধুরীর নাতি রমেন চৌধুরী জানান, ব্রিটিশ হাইকমিশনার
হওয়ার পরও সাদামাটা জীবনযাপন করেছেন আনোয়ারা চৌধুরী, আমার দাদার কোনো শত্রু ছিল না। তারপরও জঙ্গিরা গ্রেনেড হামলা করেছে তার ওপর। জঙ্গিদের ফাঁসি কাযকর হওয়ায় আমি খুব্ই আনন্দিত।
আনোয়ার চৌধুরীর চাচাতো বোন মোছা. মমতা চৌধুরী বলেন, ‘আনোয়ার চৌধুরীর শৈশব কেটেছে গ্রভাকরপুর গ্রামে। এ গ্রামের প্রভাকরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিনি কিছুদিন লেখাপড়া করেছেন। তার মতো মানুষকে বোমা হামলা করে জঙ্গিরা মেরে ফেলতে চেয়েছিল যা মোটেও কাম্য নয়।’
পাটলি ইউনিয়নের প্রভাকরপুর গ্রামের ইউপি সদস্য মো. ছায়েদুর রহমান ছায়েদ বলেন, ‘জঙ্গিরা দেশ ও জাতির শত্রু। এদেরকে নির্মূল করতে হবে। আনোয়ার চৌধুরী শুধু সুনামগঞ্জবাসীর গর্ব নয় সারা বাংলাদেশের গর্ব। তাকে হত্যা করে দেশের অপূরণীয় ক্ষতি করতে চেয়েছিল।
জগন্নাথপুর পৌরসভার মেয়র হাজী আব্দুল মনাফ বলেন, ‘আনোয়ার চৌধুরী জগন্নাথপুরের কৃতি সন্তান। তার ওপর যারা গ্রেনেড হামলা করেছিল তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দ্রুত কার্যকর হওয়ায় জগন্নাথপুরবাসী কৃতজ্ঞ।’
জগন্নাথপুরে প্রেসক্লাব সভাপতি শংকর রায় বলেন, আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলার রায় কার্যকর হওয়ায় জগন্নাথপুরবাসী আনন্দিত।
উল্লেখ্য, সিলেটের হযরত শাহজালালের (রা.) মাজারে ২০০৪ সালের ২১ মে আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা হয়। হামলায় আনোয়ার চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসকসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত এবং পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ তিনজন নিহত হন।