- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

আবহাওয়া নিয়ে কৃষকদের দুর্ভাবনা, বাঁধের কাজ টেকসই করার দিকে নজর দিন

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জেলার বিভিন্ন হাওরে ফসল রক্ষার জন্য যেসব বাঁধ নির্মিত হচ্ছে সেগুলোর কাজের মান ‘অতীতের চেয়ে ভাল হচ্ছে’ বলে জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার তিনি বাঁধের কাজ দেখতে সুনামগঞ্জ এসেছিলেন এবং পূর্বনির্ধারিত কয়েকটি বাঁধ দেখে এমন মন্তব্য করেছেন। বিষয়টি এমন হতে পারে যে, তাঁকে যেসব বাঁধ দেখতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে সেগুলোর মান ভাল। তাঁর দেখার বাইরেও রয়েছে বহু বাঁধ। বলা ভাল প্রায় সকল বাঁধই তাঁর দেখার বাইরে থেকে গিয়েছে। একজন ব্যক্তির পক্ষে সকল বাঁধের কাজ দেখা আদতেই সম্ভব নয়। কেউই তা পারবেন না। কিন্তু কাজের মান বা ধারা সম্পর্কে ধারণা নেয়া যায় বিভিন্ন সূত্র থেকে। গণমাধ্যম এমন একটি সূত্র। গণমাধ্যম জানাচ্ছে, বাঁধ নির্মাণের নির্ধারিত সময়সীমা ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হতে চললেও এখনও কাজ শেষ হওয়ার গতি আশাব্যঞ্জক নয়। একটি ভাতে টিপ দিলে পুরো হাড়ির খবর জানা যায়Ñ এমন গড় অংক সবক্ষেত্রে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। তবে মন্ত্রী যেরূপ বলেছেন হাওরের সকল মানুষই চান বাঁধের কাজের অবস্থা সেরকমই হোক।
২০১৭ সনে অকাল ও আকষ্মিক বন্যায় জেলার শতভাগ বোরো জমি ডুবে গিয়ে সমস্ত ফসল বিনষ্ট করেছিল। ওই বছর ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই হাওরে পানি ঢুকা শুরু করে। ২০১৭ সনের পর আর কোন বন্যা না হওয়ায় বাঁধের কাজকে কোন ধরনের পরীক্ষার সামনে পড়তে হয়নি। কাজ যেমনই হোক পানিতে ফসল তালিয়ে না যাওয়ার কারণে এসব নিয়ে কোন উচ্চবাচ্য শোনা যায়নি। এবার অবস্থা ভিন্ন বলে অনুমিত হচ্ছে। এক হচ্ছে কৃষকদের অভিজ্ঞতাসঞ্জাত, সেটি হলÑ চার বা পাঁচ বছর পর পর একবার আকষ্মিক বন্যা হয়ে থাকে। দ্বিতীয়টি হলোÑ এবারের ফেব্রুয়ারি মাসের আবহাওয়াও বেশ দুশ্চিন্তার। প্রায়দিনই বৃষ্টি হচ্ছে। এই বৃষ্টি আরেকটু বাড়লে এবং একইসাথে পাহাড়ে বৃষ্টিপাত হলে অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এমন ঝুঁকির কারণেই বাঁধ নির্মাণ করা হয়, বাঁধের জন্য সরকার কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দেন। সুতরাং কার্যক্ষেত্রে বাঁধের সক্ষমতা দেখানোই ওই টাকা খরচের সার্থকতা। পানিসম্পদ মন্ত্রী যেমনটি বলেছেন, অতীতের চাইতে এবার বাঁধের কাজ ভাল হয়েছে, আমরা তেমন অবস্থাই দেখতে চাই। প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রাথমিক ধাক্কায়ই যেন তাসের ঘরের মত বা বালুর বাঁধের মত এসব পানি আটকানোর ফসলরক্ষা বাঁধ ধসে না পড়ে। বাঁধের কাজের সঠিক গুণগত মান বজায় রাখার বিষয়টি নিয়মিত তদারকি ও কর্তৃপক্ষীয় আন্তরিকতার উপর নির্ভরশীল। পিআইসি গঠনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন উপজেলায় যেসব অভিযোগ ও তথ্য পাওয়া গেছে সেখানে তাদের উপর যথাযথ নজরদারি বজায় রাখা কঠিন কাজ বলেই মনে করা হয়ে থাকে। তবে কর্তৃপক্ষকে ওই কঠিন কাজটিই করতে হবে।
সামনের যে কয়দিন বাকি আছে সেসময় বাঁধ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ মনোযোগ ও উদ্যম হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে নিয়োজিত করার জন্য আমরা সবিনয়ে অনুরোধ জানাই। ২০১৭ সনের মত অবস্থার পুনরাবৃত্তি হোক এমনটা কারও কাম্য নয়। হাওরের যে বিশাল খাদ্য-সরবরাহ সক্ষমতা সেটির গুরুত্ব অনুধাবন করে বাঁধকে অবশ্যই টেকসই ও কার্যকর করে গড়ে তুলতে হবে। কৃষকরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। একমাত্র টেকসই বাঁধই পারে তাদের বন্যাদুর্যোগ সংক্রান্ত দুশ্চিন্তা দূর করতে।

  • [১]