- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

আবহাওয়া ভালো থাকায় হাওরে কিছুটা স্বস্তি

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জে ও উজানে (মেঘালয়- চেরাপুঞ্জি) বৃষ্টিপাত না হওয়ায় গত দুই দিন হয় হাওরের কৃষকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে বাঁধ রক্ষার লড়াই চলছে জেলার কোন কোন হাওরে। বৃহস্পতিবার রাতে শাল্লার বরাম হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ কৃষকদের চেষ্টায় রক্ষা পেয়েছে। শুক্রবার তাহিরপুরের এরালিয়া কোনা হাওরের ফল্লিয়ার দাইর আপর বাঁধ ভেঙে প্রায় চারশ’ একর ফসল ডুবেছে। এই নিয়ে ছোট-বড় ১৩ টি হাওরের ফসল ডুবে ৩০ হাজারের বেশি কৃষকের ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবার বিকালে পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নানও বলেছেন, পানি যেভাবে কমছে, আশা করা যাচ্ছে বিপদ থাকবে না, বেশিরভাগ ফসল ঘরে ওঠবে কৃষকদের। মন্ত্রী বলেছেন, হাওরের বাঁধ রক্ষায় প্রান্তিক কৃষকদের আরও বেশি যুক্ত করতে হবে। বড় কৃষকদের হাওরের ফসল রক্ষায় আরও বেশি যতœবান হতে হবে।
উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সুনামগঞ্জের নদীগুলোতে পানি বাড়া শুরু হওয়ায় গত শনিবার প্রথম ভেঙেছিল সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার নজরখালি বাঁধ, এরপর একে একে বাঁধ ভেঙে ফসল ডুবে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ছোট কাংলা, ধর্মপাশার টাঙ্গুয়া, ছাতকের পাগুয়া ও গজ্জার হাওর, শাল্লার বাঘার হাওর, পুটিয়ার হাওর, জোয়ারিয়া হাওর ও কোনারবন্দ, দিরাইয়ের চাপতির হাওর, ধর্মপাশার চন্দ্র সোনার থাল এবং সর্বশেষ শুক্রবার ডুবেছে তাহিরপুরের এরালিয়া কোনা হাওর। এই হাওরগুলোর মধ্যে দিরাইয়ের চাপতির হাওরেই ফসল বেশি। অন্যগুলো ছোট হাওর। জেলার ছোট বড় ১৫০ টি হাওরের বেশিরভাগই স্থানীয় কৃষক, প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের চেষ্টায় রক্ষা পেয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে ও শুক্রবার দিনেও শাল্লার বরাম হাওরের ২৩ ও ২৫ নম্বর প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির বাঁধে ধস শুরু হয়। শেষে স্থানীয় কৃষকসহ সংশ্লিষ্টদের চেষ্টায় এই হাওরের ফসল রক্ষা হয়।
পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম শুক্রবার সকালে দিরাই উপজেলার চাপতির হাওরের বৈশাখী বাঁধের ভাঙ্গা অংশ পরিদর্শন করেন। সুনামগঞ্জের হাওরে এবার ৫৩৭ কিলোমিটার বাঁধের কাজ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, একেক এলাকায় একেক রকম মাটি রয়েছে। মাটি ভিন্নতার আলোকে সমস্যা চিহ্নিত করে, এক্সপার্ট প্রকৌশলী দিয়ে এবং কৃষকদের দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতার আলোকে পরের বছর বাঁধের কাজ হবে।
বাঁধ নির্মাণে পিআইসির অনিয়মের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি করার কথা জানিয়ে বলেন, দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা হবে। ফসল রক্ষা বাঁধ নিয়ে আগামী বছর নতুনভাবে ভাবা হবে। চাপতির হাওর রক্ষায় চাতল স্লুইচ গেইট থেকে কলিয়াকাপন পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার কম্পার্টমেন্টাল বাঁধ প্রকল্পভুক্ত করা হবে বলেও জানান তিনি। অকাল বন্যার হাত থেকে বাঁচতে সুরমা নদী থেকে শুরু করে সকল নদী ড্রেজিং করে স্বাভাবিক প্রবাহ ঠিক করা হবে এবং বাস্তব ভিত্তিক প্রকল্প নেয়ার কথা জানান তিনি।
বিকালে পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, পানি যেভাবে কমছে তাতে হাওরের মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরছে। আরও কয়েকদিন এভাবে গেলেই ঘরে ফসল ওঠা শুরু হবে। হাওরের ফসল রক্ষায় সরকারের ও স্থানীয় প্রশাসনের আন্তরিকতার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে নয়, বাস্তবভিত্তিক ধারণা নিয়ে হাওরে কম জীবনকালের ধানের আবাদ বাড়াতে হবে। হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধে প্রান্তিক কৃষকদের আরও বেশি যুক্ত করতে হবে। বড়ও কৃষকদের হাওরের ফসল রক্ষায় আরও বেশি যতœবান হতে হবে।
এদিকে, শুক্রবার সকালে তাহিরপুরের এরালিয়াকোনা হাওরের ৪ হাজার একর জমির কাঁচা ধান পানির নীচে তলিয়ে গেছে। হাওরের ফল্লিয়ার দাইর আপর বাঁধ (স্থায়ীবাঁধ) ভেঙ্গে গিয়ে ফসল তলায়।

  • [১]