- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

আমন্ত্রণ পান নি দলীয় পদে থাকা ২২ ইউপি চেয়ারম্যান

বিশেষ প্রতিনিধি
কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ৩ জন প্রেসিডিয়াম সদস্য, যুগ্ম সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদকের উপস্থিতিতে আজ (রোববার) সুনামগঞ্জে আওয়ামী লীগের জেলা প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই সভায় নৌকা প্রতীক নিয়ে নবনির্বাচত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের আমন্ত্রণ জানানো হলেও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং দলীয় পদ পদবীতে বহুদিন দায়িত্ব পালনকারী ভিন্ন প্রতীকে নির্বাচিত ২২ জন চেয়ারম্যানকে আমন্ত্রণ জানানো হয় নি। দলীয় দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন, দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে দলীয় মনোনীত প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ করে ইউপি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করায় নির্বাচিত এসব চেয়ারম্যানদের আওয়ামী লীগের জেলা প্রতিনিধি সভায় ডাকা হয় নি। অবশ্য, বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে নির্বাচিতরা বলছেন, জনপ্রিয়দের দলে কাজ করার সুযোগ না দিলে সংগঠন দুর্বল হবে। সামনে জাতীয় নির্বাচন। এই সময়ে এই বিষয়টি বিবেচনায় আনা জরুরি।
আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিরোধী দলকে মোকাবেলা এবং তৃণমূলে সংগঠনের শক্তি বাড়ানোর জন্য সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের জেলা প্রতিনিধি সভা ডাকা হয়েছে আজ (রোববার)। সকাল ১০ টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির হাসন রাজা মিলনায়তনে দিনব্যাপি এই সভা হবে। সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ, বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন (সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত), প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখবেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্মসম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ এমপি, অতিথি থাকবেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আজিজুস সামাদ ডন।
এই সভায় সুনামগঞ্জের ৮৮ ইউনিয়নের প্রত্যেক ওয়ার্ড, ইউনিয়ন এবং ১২ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং জেলা কার্যনির্বাহী কমিটির সকল সদস্যকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
দলের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিনিধি সভায় থাকতে পারছেন না দলের পুরোনো কর্মী ২২ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান। বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলের প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ করে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত এই চেয়ারম্যানরা হলেন, শাল্লা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি শাল্লা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিশ^জিৎ চৌধুরী নান্টু, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হবিবপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সুবল চন্দ্র দাস, শান্তিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জয়কলস ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত সুজন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা পাথারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম ও শিমূলবাঁক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহীনুর রহমান, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুরমা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমির হোসেন রেজা ও মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা মঈনুল হক, দোয়ারাবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশের আহ্বায়ক দোহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শামীম আহমদ, ছাতক উপজেলা আওয়ামী লীগের (একাংশের) কার্যকরি কমিটির সদস্য নোয়ারাই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান দেওয়ান আব্দুল খালিক, অপরাংশের উপজেলা কমিটির সদস্য দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিকী, জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম বকুল, উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মিরপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাহবুব আলম শিরিন, আশারকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আয়ুব খান, যুক্তারাজ্য আওয়ামী লীগের নেতা পাইলগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মখলিছ মিয়া, দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক চরনারচর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পরিতোষ রায়, ভাটিপাড়া ইউনিয়ন কমিটির সদস্য ভাটিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিছবাহ্ চৌধুরী, রাজানগর ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য রাজানগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জুয়েল মিয়া, তাহিরপুরের বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নিজাম উদ্দিন, উত্তর বড়দল যুবলীগের সভাপতি উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া, ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি পাইকরহাটি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক ইকবাল, ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোকারম হোসেন, ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মধ্যনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সঞ্জিব তালুকদার টিটু। এছাড়া আওয়ামী লীগের তৃণমূলের কর্মী বা গেল ১০-১২ বছর সময়কালে আওয়ামী লীগে যোগদানকারী আরও নয় নব নির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে জয়ী হওয়ায় জেলা প্রতিনিধি সভায় আমন্ত্রণ পান নি।
শাল্লা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক বিশ^জিৎ চৌধুরী নান্টু বললেন, আমার বাবা আজীবন আওয়ামী লীগ করেছেন, আমি আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী, বাবা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ছিলেন, আমি দলের মনোয়ন না পাওয়ায় নির্বাচন করতে চাই নি, ইউনিয়নবাসীর চাপে ভোটে প্রার্থী হয়েছি, দলের মনোনীত প্রার্থীর দ্বিগুনের চেয়েও বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছি। দলে জনপ্রিয়রা কাজের সুযোগ না পেলে সংগঠন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দলীয় নেতৃবৃন্দ নিশ্চয়ই এই বিষয়টি বিবেচনা করবেন। আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে তৃণমূলে দলকে সংগঠিত করার কাজে থাকার সুযোগ দেবেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বললেন, কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা প্রতিনিধি সভায় আমন্ত্রণের তালিকা করা হয়েছে। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে যারা গেল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন, তাদেরকে দলের জেলা প্রতিনিধি সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয় নি।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত) আহমেদ হোসেন বললেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য দলকে প্রস্তুত করতে চাই আমরা। সুনামগঞ্জের সব কয়টি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলায় নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং জেলা কার্যকরি কমিটি সদস্যরা কেবল এই সভায় যোগ দিতে পারবেন। কেন্দ্রীয় নেতারা ছাড়াও জেলার এমপিগণ সভায় থাকবেন। যেসব ইউনিটে দলে বিভক্তির জন্য দুই কমিটি কাজ করছে, সেই উপজেলা ইউনিটের দুই পক্ষের সভাপতি সম্পাদকই সভায় থাকতে পারবেন। আমরা দুই পক্ষের বক্তব্য শুনবো, পরবর্তী পর্যায়ে সম্মেলন করে কমিটি গঠন হবে।

  • [১]