শহীদনূর আহমেদ
সম্প্রতি বন্যা আর পাহাড়ি ঢলের পানিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বীজতলার ক্ষতি হওয়ায় আমন চাষে ধান চারার চরম সঙ্কট দেখা দিয়েছে। জমি রোপণ নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই বলে জানিয়েছেন জেলার আমন চাষীরা।
তবে আমন চারার সাময়িক সঙ্কট কৃষকরা কাটিয়ে উঠতে পারবে বলে দাবি করলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. জাহিদুল হক। ক্ষতিগ্রস্ত আমন চাষীরা জানান, শ্রম আর ঘামে বপন করা বীজগুলি খেয়ে গেল ডাইনী রূপি বন্যার পানি। বন্যার পানির ছোবল থেকে কিছু বীজতলা রক্ষা পেলেও তা দিয়ে চাষীদের সকল জমি চাষাবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না। বীজতলা নষ্ট হওয়ায় অনেকই নির্ভর করতে হচ্ছে কেনা চারার উপর। চারার সঙ্কট হওয়ায় নগদ অর্থ দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না আমন ধানের চারা। চারা পাওয়া গেলেও তা নিয়ে চাষীদের মাঝে শুরু হয় কেনার জন্য প্রতিযোগিতা।
শনিবার সদর উপজেলা, দেয়ারাবাজার, ছাতক, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে আমন চাষের বীজতলার। বীজতলা সপ্তাহখানেক পানির নিচে থাকায় বীজতলার প্রায় সকল চারাই পচে গেছে। তুলনামূলক উঁচু বীজতলার চারার অবস্থা একটু ভাল থাকলেও টানা বৃষ্টির কারণে সেগুলি অধিকতর দুর্বল ও অপুষ্ট হয়ে গেছে। এসব বীজতলা থেকে চারা সংগ্রহ করতে গিয়ে আশানুরূপ ফল পাচ্ছেন না কৃষকরা।
এদিকে জেলার, জগন্নাথপুর, জামালগঞ্জ, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর উপজেলার অনেক কৃষকের সাথে আলাপকালে তারাও সংকটের কথা জানান।
সদর উপজেলার কুরবাননগর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগাঁওয়ের আমন চাষী আনফর মিয়া ও উস্তার উদ্দিন বলেন,‘বন্যার পানিতে আমরার ধানের জালার অনেক ক্ষয়খতি অইছে। অনেক দাম দিয়া বীজ কিইন্না বাইন কইরাও এর সুফল পাইছি না।। এখন কিনা জালার উপর ভর করতে অর। জালার যইট (শতাংশ) ৫০০-৭০০ টেকা। অত দাম দিয়া জালা আইনা লাভ অইব কিতা।’
দোয়ারবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের জঙ্গলশ্রী গ্রামের তাজিবুদ্দিন বলেন,‘পাইননে জালা নষ্ট করি দিছে। এই জালা দিয়া খেত রুইলে ধান হইত নায়। জালা কিনতেও পাওয়া যার না। পাইলেও দাম বেশি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. জাহিদুল হক বলেন, ‘ বন্যা আর পাহাড়ি ঢলের পানিতে আমন ধানের চারার বেশ ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পর পর চাষিরা আবার বীজ বপন করেছেন। আমরা জেলা ব্যাপি খোঁজ নিয়ে জেনেছি, আপাতত আমন চারার সঙ্কট নেই। কিছু উপজেলায় চারার সঙ্কট থাকলেও কৃষকরা কেনা চারা দিয়ে তাদের সংকট দূর করছেন।’