স্টাফ রিপোর্টার
অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু মানে স্বাধীনতা বঙ্গবন্ধু মানে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে আমাদের নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে নিতে হবে। বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে দেশে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আগামীতে নৌকাকে বিজয়ী করতে হবে। আমরা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়বো।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে অনেকে বিদেশী সংস্কৃতি অনুকরণ করার চেষ্টা করেন।
অনেকে বিদেশী কেতায় বাইরে ঠাঁট বজায় রাখেন, সুন্দর করে কথা বলেন কিন্তু ভেতরে আসলে কিছুই থাকে না। তারা না বিদেশী না বাংলাদেশি। নিজেদেরকে হারিয়ে ফেলছেন। নিজেদের সংস্কৃতিকে লালন করতে না পারলে আমরা উন্নতি করতে পারবো না। বাঙালিকে অস্তিত্ব রক্ষার্থে নিজস্ব সংস্কৃতি লালন করতেই হবে, বাঙালিকে নিজের ঘরে ফিরতে হবে।’
তিনি বলেন, আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে মূল শক্তি হিসেবে কাজ করেছে আত্ম পরিচয়ের সন্ধান। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীন দেশ দিয়েছেন। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা উপলব্ধি করতে হবে। তাহলে আর পথ হারাবার ভয় থাকবে না।
তিনি বলেন, আমি মোটেও রাজনীতিবিদ ছিলাম না। তবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে মানুষের সেবা করার স্বপ্ন লালন করতাম। প্রধানমন্ত্রী ১০ বছর পূর্বে আমাকে আপনাদের সেবা করার জন্য নিয়ে আসেন। এজন্য আমি উনার কাছে কৃতজ্ঞ।
শনিবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমির হাছন রাজা মিলনায়তনে বিজয় দিবসের আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান।
জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. শামছুন নাহার বেগম (শাহানা রব্বানী), পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ খান, মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল মজিদ, সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাশ, মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান, আলী আমজাদসহ অন্যান্যরা। আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আমিমুল এহসান খান।
সভা শেষে সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির পরিবেশনায় মঞ্চস্থ হয় সুনামগঞ্জ স্বাধীনতা সংগ্রামের উপর গীতিআলোখ্য ‘স্বাধীনতা উপত্যকায় মুক্তির লড়াই’ এবং অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
সভার পর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন অথিতিরা। ।
এদিকে সুখী সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের অভিযাত্রাকে সামনে রেখে আনন্দ উৎসবে আর নানা কর্মসূচিতে উদযাপিত হয়েছে মহান বিজয় দিবস। ১৬ ডিসেম্বরের প্রথম প্রহর থেকেই শুরু হয় বিভিন্ন সংগঠনের শ্রদ্ধা নিবেদন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজন।
দিবসের প্রথম প্রহরে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পনের মাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মতিউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম. এনামুল কবির ইমন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট, পৌর মেয়র আয়ুব বখত জগলুলসহ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ, জেলা বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাড. ফজলুল আসপিয়া, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নুরুল, জেলা বিএনপির সহ সভাপতি আকবর আলী, রেজাউল হক, শেরেনুর আলী, জেলা জাসদ, জেলা জাসাস সভাপতি অধ্যক্ষ শেরগুল আহমেদ, আনিসুল হক, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও জাসাস সাধারণ সম্পাদক মুনাজ্জির হোসেন সুজন, দপ্তর সম্পাদক জামাল উদ্দিন বাকের সহ ছাত্রদল, যুবদল নেতৃবৃন্দ এবং হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ প্রভৃতি সংগঠন। শহরে জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ, সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী ইনান ইসমাম হোসেন চৌধুরী, সুনামগঞ্জ আবুল হোসেন ক্লাব, জেলা তাঁতী লীগ, জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি, ইমরাত নির্মাণ কল্যাণ সমিতি, বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদও শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
সূযোর্দয়ের সাথে সাথে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম সহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। এরপর সদর উপজেলা প্রশাসন, জেলা যুবলীগ, জেলা কৃষক লীগ, জেলা ছাত্রলীগ, সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), স্বজন, ইয়েস ও ইয়েস ফ্রেন্ডস, মুক্তিযোদ্ধারা, পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে জেলা পুলিশ, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সুনামগঞ্জ জেলা ইউনিট, আওয়ামী মৎস্যজীবীলীগ, জেলা মহিলা পরিষদ, জেলা ছাত্র ইউনিয়ন, জেলা উদীচী, প্রথমআলো বন্ধুসভা, খেলাঘর, জেলা মানবাধিকার কমিশন, টাইলস মিস্ত্রি কল্যাণ সংগঠন, সরকারী জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় সহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি দপ্তরের প্রধানগণ এবং রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ সহ সর্বস্তরের জনগণ শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
সকালে শহরের ঐতিহ্য জাদুঘর প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। জেলা স্টেডিয়ামে মহান বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ, শরীরচর্চা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা আওয়ামী লীগ, জেলা ছাত্রলীগ ও জেলা স্বেচ্ছাস্বেকলীগের আয়োজনে বের হয় পৃথক আনন্দ এবং বিজয় র্যালি। বেলা সাড়ে ১১টায় শহরের শহীদ আবুল হোসেন মিলনায়তনে মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা ক্রেস্ট ও উপহার সামগ্রী প্রদান করেন জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম। বিকালে সরকারি এস.সি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মহিলা কল্যাণ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনায় মহিলা সমাবেশ ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়াও হাসপাতাল, জেলখানা ও শিশু পরিবারে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন, পুরাতন কোর্ট জামে মসজিদে মহান বিজয় দিবসের তাৎপর্য, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ বিরোধী আলোচনা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, বিকালে জেলা স্টেডিয়ামে প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চিত্রাংকন, রচনা লিখন, কবিতা আবৃত্তিসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।